চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার সমাধান চান ৩ সংসদ সদস্য
“আমাদের পুরো চট্টগ্রাম আজকে পানিতে ভাসতেছে।”
টানা বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হওয়ার কথা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে জরুরি সহায়তা ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সেখানকার তিন সংসদ সদস্য।
বুধবার জাতীয় সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি তোলেন তারা।
আছরের নামাজের বিরতির আগে আনোয়ারা ও কর্ণফুলীর জলাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম। বলেন, গত চার দিনের বৃষ্টিতে তার নির্বাচনি এলাকার অনেক জায়গায় পানি উঠেছে এবং মানুষের অবস্থা খুবই খারাপ।
তখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, “মাননীয় সদস্য, এটা তো পয়েন্ট অব অর্ডার হল না। তবুও আমি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। আপনি তার সাথে সরাসরি যোগাযোগ করবেন।”
বিরতির পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে আবারও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার প্রসঙ্গ ওঠে।
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “আমাদের পুরো চট্টগ্রাম আজকে পানিতে ভাসতেছে।”
তিনি বলেন, লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, পটিয়া, আনোয়ারা, কর্ণফুলীসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে কষ্টে আছে।
তার বক্তব্যের পর ডেপুটি স্পিকার বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী সংসদে আছেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু বলবেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গত কয়েক দিন ধরে বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচুর বৃষ্টিপাত হওয়ায় অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মঙ্গলবার প্রতিটি জেলায় ২০০ টন করে চাল এবং ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্যাকেটজাত শুকনো খাবারও বিতরণ করার তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “প্রতিনিয়ত আমরা জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলছি। মাননীয় সংসদ সদস্যদের পরামর্শক্রমে উনারা এগুলো বিতরণ করবেন।”
পরে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ২০১৭ সালে প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ৯ বছর পরও জলাবদ্ধতা দূর হয়নি।
তিনি বলেন, “সবচেয়ে দুঃখজনক হচ্ছে, ওখানে সমন্বয়হীনতা বেশি কাজ করে।”
বাঁশখালীর প্রায় ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দি থাকার দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, সুইস গেইট, খাল খনন ও ড্রেনেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো চিহ্নিত করে সমন্বিত পরিকল্পনায় কাজ করা গেলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
