Published : 09 Jun 2025, 06:26 PM
গাজায় ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের সামরিক শাখার প্রধান মোহাম্মদ সিনওয়ারের মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া এবং তা শনাক্তের দাবি করেছে ইসরায়েলের সেনাবাহিনী।
রোববার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আইডিএফ জানায়, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় খান ইউনিস নগরীতে ইউরোপীয় হাসপাতালের নিচের সুড়ঙ্গে সিনওয়ারের দেহ পাওয়া গেছে।
দেহের ডিএনএ পরীক্ষা করে সিনওয়ারকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ। তবে হামাস এখনও প্রকাশ্যে সিনওয়ারের মৃত্যু নিশ্চিত করে জানায়নি।
বিবিসি জানায়, ৪৯ বছর বয়সী সিনওয়ার গত ১৩ মে ইসরায়েলের বিমান হামলায় নিহত হন। ওই হামলায় ২৮ জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছিল বলে জানিয়েছিল গাজার হামাস পরিচালিত সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি।
আইডিএফ জানায়, হামাসের রাফা ব্রিগেডের কমান্ডার মোহাম্মদ সাবানেহ এর সঙ্গে সিনওয়ারের দেহ পাওয়া গেছে। সিনওয়ার ও সাবানেহ এর কিছু ব্যবহার্য জিনিসও খুঁজে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে আইডিএফ।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী আরও জানায়, আরও মৃতদেহ পাওয়া গেছে। সেগুলোর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। রোববার গাজার ওই সুড়ঙ্গ একদল সাংবাদিককে দেখিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। সুড়ঙ্গে ছোট্ট একটি প্রবেশপথের ভিডিও-ও তারা প্রকাশ করেছে।
ভিডিওতে দেখা যায় মাটির নিচের সংকীর্ণ একটি করিডোর। এই করিডোর দিয়ে গেলে ভেতরে আছে কয়েকটি কক্ষ। সেই কক্ষগুলোতে দেখা গেছে, কাপড়ের স্তুপ, প্লাস্টিকের চেয়ার, দেয়ালে ঠেস দিয়ে রাখা রাইফেল।
আরেকটি ভিডিওতে দেখা গেছে, কাপড়ে মুড়ে রাখা একটি লাশ ওই সুড়ঙ্গ দিয়ে বের করে আনা হচ্ছে। আইডিএফ এর মুখপাত্র বলেছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরের একটি কক্ষেই তারা সিনওয়ারের মৃতদেহ পেয়েছেন।
গাজায় ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকা কার্যত (ডি-ফ্যাক্টো) হামাস নেতা ছিলেন সিনওয়ার। তিনি ছিলেন হামাসের সাবেক প্রধান নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের ছোট ভাই। হামাস নেতা ইয়াহিয়ার মৃত্যুর পর গত অক্টোবরে গাজায় হামাসের আসল নেতা হয়ে উঠেছিলেন মোহাম্মদ সিনওয়ার।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এর তথ্যানুযায়ী, মোহাম্মদ সিনওয়ার ২০১৬ পর্যন্ত খান ইউনিস ব্রিগেডের কমান্ডার ছিলেন।
তিনিও তার ভাই ইয়াহিয়ার মতো ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে ইসরায়েলে ঢুকে হামাসের চালানো হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী বলে বিশ্বাস ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর।