Published : 26 Apr 2026, 12:48 AM
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি পাকিস্তানের ইসলামাবাদ ছাড়ার পর তার তিন দেশ সফরের দ্বিতীয় দেশ ওমানে পৌঁছেছেন। এরপর তার রাশিয়া সফরের কথা আছে।
শুক্রবার আরাকচি এক সফরে পাকিস্তানের রাজধানীতে গিয়েছিলেন। এরপর শনিবার দিনভর পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত ছিলেন তিনি। আলোচনা শেষে ওমানের উদ্দেশে পাকিস্তান ছাড়েন।
ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই বৈঠকেই ইরানের দাবিদাওয়া ও প্রতিপক্ষের অবস্থান নিয়ে তেহরানের আপত্তিগুলো তুলে ধরেন তিনি।
পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে দিনভর আলোচনায় তেহরানের রেড লাইনগুলো কী আর কোথায় তাদের আপস করার সুযোগ আছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেন।
পাকিস্তান থেকে ওমানে যাওয়ার পথে সামাজিক মাধ্যম এক্স এ করা পোস্টে আরাকচি পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র, উভয়ের জন্য বার্তা দেন; জানিয়েছে আল জাজিরা।
বার্তায় তিনি ‘পাকিস্তান সফরটি অত্যন্ত ফলপ্রসূ’ ছিল বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আমাদের অঞ্চলে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য পাকিস্তানের ‘ভ্রাতৃত্বপূর্ণ প্রচেষ্টাকে আমারা অত্যন্ত গুরুত্ব দেই’।
আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার একটি কার্যকর কাঠামো বিষয়য়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে সংঘাত নিরসন প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের আন্তরিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। আরাকচি লিখেছেন, “যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি নিয়ে আন্তরিক কি না, তা এখনও দেখা বাকি।”
আরাকচি ইসলামাবাদ ছাড়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইসলামাবাদে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনার জন্য ওয়াশিংটন তার প্রতিনিধিদের পাঠাচ্ছে না।
এরপরও মার্কিন গণমাধ্যমে অ্যাক্সিওসের ‘সফরসূচি বাতিল করার অর্থ তিনি আবার যুদ্ধ শুরু করবেন, এমন দাঁড়াচ্ছে কি না’ প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, “না, এর অর্থ তা না। আমরা এখনো এ বিষয়টি নিয়ে ভাবিনি।”
মার্কিন প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ যাওয়ার কথা থাকলেও তা বাতিল হওয়ার স্বয়ংক্রিয় মানে ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হয়ে যাওয়া নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাজার টালমাটাল হয়ে পড়েছে। ৮ এপ্রিল থেকে যুদ্ধবিরতিতে থাকা এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য পাকিস্তান মধ্যস্থতা করছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের এই জলপথ বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার চড়ছে।
নবম সপ্তাহে গড়ানো এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম অনেক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে, এতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে আর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ম্লান হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
'একতরফা দাবি' মেনে নেবে না ইরান, পাকিস্তান ছাড়লেন আরাকচি
প্রতিনিধিদলের সফরসূচি বাতিল মানেই আবার যুদ্ধ শুরু না: ট্রাম্প