Published : 25 Apr 2026, 10:13 PM
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ইরানের দাবিগুলো আর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তাদের আপত্তিগুলো তুলে ধরেছেন।
শনিবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন সফররত ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এই বৈঠকেই ইরানের দাবিদাওয়া ও প্রতিপক্ষের অবস্থান নিয়ে তেহরানের আপত্তিগুলো তুলে ধরেছেন তিনি।
আল জাজিরা জানিয়েছে, এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর আরাকচি ইসলামাবাদ ছেড়ে যান। তবে বৈঠকে আরাকচি কী বলেছেন, তার অল্পই জানা গেছে বলে রয়টার্স জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছে ও আর এই যুদ্ধের কারণে বিশ্ব বাজার টালমাটাল হয়ে পড়েছে। ৮ এপিল থেকে যুদ্ধবিরতিতে থাকা এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য পাকিস্তান মধ্যস্থতা করছে আর ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রথমবার শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর দুই পক্ষকে আরেকটি শান্তি আলোচনায় বসানোর চেষ্টা করছে তারা।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাকচি এক সফরে শুক্রবার ইসলামাবাদে গেছেন। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক্স এ এক পোস্টে জানিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তারা মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পরিকল্পনা করেননি আর তেহরানের উদ্বেগগুলো মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে জানানো হবে।
হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, ইসলামাবাদে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচির সঙ্গে কথা বলার জন্যে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনারের শনিবার সকালে (ওয়াশিংটন ডিসির সময়) রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
কিন্তু ইরান এখন পর্যন্ত মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে নতুন করে সরাসরি আলোচনায় বসার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে রেখেছে। বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের এই জলপথটি বন্ধ থাকায় ও ইরানের তেল রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ আরোপ করে রাখায় ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি ব্যয়বহুল অচলাবস্থার মধ্যে আছে। নবম সপ্তাহে প্রবেশ করা এই যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম অনেক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে আছে, এতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে আর বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা ম্লান হচ্ছে।
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাপ্তরিক টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আরাকচি যুদ্ধবিরতি ও ইরানের বিরুদ্ধে চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের সম্পূর্ণ সমাপ্তি সম্পর্কিত সর্বশেষ ঘটনাবলীর বিষয়ে আমাদের দেশের নীতিগত অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।”
পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে তেহরানের আপত্তিগুলোর বিষয়ে প্রশ্নে ইসলামাবাদে ইরানের কূটনৈতিক সূত্রগুলো রয়টার্সকে বলেছে, “প্রধানত ইরানি পক্ষ সর্বোচ্চবাদী দাবি গ্রহণ করবে না।”
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের বলেছেন, ইরানের যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ভালো একটি চুক্তি করার’ সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, “ইরান জানে, বিচক্ষণতার সঙ্গে বেছে নেওয়ার জন্য তাদের সামনে এখনও একটি খোলা জানালা রয়েছে। তাদের যা করতে হবে তা হল অর্থপূর্ণ ও যাচাইযোগ্য উপায়ে পারমাণবিক অস্ত্র পরিত্যাগ করা।”