Published : 07 Jul 2026, 07:01 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির মেমোরি চিপের আকাশচুম্বী বৈশ্বিক চাহিদার ওপর ভর করে দক্ষিণ কোরিয়ার টেক জায়ান্ট স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের মুনাফায় বিস্ময়কর ১৮ গুণ উল্লম্ফন ঘটেছে।
বাজারে চিপের তীব্র ঘাটতি ও দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে এ বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কোম্পানিটি রেকর্ড ৫ হাজার ৮৪০ কোটি ডলারের পরিচালন মুনাফা পেতে যাচ্ছে, যা এআই জোয়ারকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
কোম্পানিটি পূর্বাভাস দিয়েছে, এপ্রিলের শুরু থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত সময়ে তারা ৮৯.৪ ট্রিলিয়ন উওন বা ৫ হাজার ৮৪০ কোটি ডলার আয় করেছে। যার মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো রেকর্ড পরিমাণ ত্রৈমাসিক পরিচালন মুনাফা পেতে যাচ্ছে কোম্পানিটি।
স্যামসাংয়ের মতো দক্ষিণ কোরিয়ার বড় বিভিন্ন কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের দিকনির্দেশনা দিতে তাদের চূড়ান্ত ও বিস্তারিত প্রতিবেদনের আগেই আয়ের এ পূর্বাভাস প্রকাশ করে থাকে।
জুলাইয়ের শেষদিকে স্যামসাং তাদের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করবে। তবে তার আগেই মঙ্গলবার প্রকাশ পাওয়া এ পূর্বাভাস এমন এক সময়ে এল যখন চিপের চাহিদা এর সরবরাহের তুলনায় বেশি, যা চিপের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
‘আর্নিংস গাইডেন্স’ নামে পরিচিত আয়ের এই পূর্বাভাসে স্যামসাং বলেছে, এ ত্রৈমাসিকে তাদের বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় ১৭১ ট্রিলিয়ন উওন, যা গেল বছরের একই সময়ের দ্বিগুণেরও বেশি।
‘কাউন্টারপয়েন্ট রিসার্চ’-এর শিল্প বিশ্লেষক মার্ক আইনস্টাইন বলেছেন, কোম্পানির এ সম্ভাব্য আয় ‘এখন পর্যন্ত অন্যতম সেরা ত্রৈমাসিক পারফরম্যান্স’, যা এ বছরের শুরুতে মার্কিন চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার গড়া রেকর্ডের কাছাকাছি।
“এর পুরো কৃতিত্বই এআই জোয়ারের। সীমিত সরবরাহ ও অভূতপূর্ব চাহিদার কারণে তৈরি হওয়া বড় জোয়ারের ওপর চড়ে মেমোরি কোম্পানিগুলো এগিয়ে চলেছে।”
বাজারে চিপের সরবরাহ কম থাকায় এরইমধ্যে মেমোরি চিপের দাম বাড়িয়েছে স্যামসাং।
বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম সেমিকন্ডাক্টর প্রস্তুতকারক কোম্পানি স্যামসাং, যারা হরেক রকমের ইলেকট্রনিক ডিভাইসের পাশাপাশি এনভিডিয়া ও গুগলের মতো বড় কোম্পানির জন্যও চিপ তৈরি করে। চিপের এ আকাশচুম্বী চাহিদার কারণে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম ব্যাপক বেড়েছে।
এদিকে, মঙ্গলবার সিউলে স্যামসাংয়ের শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। কারণ কিছু বিনিয়োগকারী আশা করেছিলেন, কোম্পানির মুনাফা হয়ত আরও বেশি হবে।
এ বছরের শুরু থেকে স্যামসাংয়ের শেয়ার বাজারের মূল্য দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে, যেখানে তাদের দক্ষিণ কোরিয়ান প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সের বেড়েছে দুইশো শতাংশেরও বেশি।
এ দুই কোম্পানির শক্তিশালী পারফরম্যান্স দক্ষিণ কোরিয়ার মূল শেয়ার বাজার সূচক ‘কোসপি’কে এ বছর ৮০ শতাংশের বেশি ওপরে তুলতে সাহায্য করেছে।
মে মাসে রেকর্ড ত্রৈমাসিক বিক্রি ও মুনাফার তথ্য প্রকাশ করেছে এনভিডিয়া, যেখানে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে তাদের রাজস্ব ৮ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যায়।
জুনে দক্ষিণ কোরিয়া স্যামসাং ও এসকে হাইনিক্সের নেতৃত্বে আগামী বছরগুলোতে দেশের চিপ উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়িয়ে তুলতে ৮৮ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ প্রকল্পের পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে।
পাশাপাশি বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাতে জাপান, চীন ও তাইওয়ানের মতো এশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোও চিপ কারখানায় বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করছে।