Published : 25 Apr 2023, 04:18 PM
গোটা বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা এখন ব্যাপক জনপ্রিয় এক বিষয়। শুরু থেকেই যখন এই ব্যবস্থায় বিভিন্ন মেশিন মৌলিক কমান্ড শিখছিল, তখন এআই একটি কথোপকথনমূলক চ্যাটবটে বিকশিত হয়েছে। সেই চ্যাটবটকেই যখন একেবারে নতুন কোনো কাজ দেওয়া হয়, তার ফলাফল কী হতে পারে?
উত্তর হচ্ছে, কখনও কখনও ভাইরাল হওয়ার মতোই কাণ্ড ঘটতে পারে।
চ্যাটজিপিটির মতো এআই চালিত চ্যাটবট কেবল বিভিন্ন দীর্ঘ বাক্যই বুঝতে পারে না, বরং সেটি প্রক্রিয়াজাত করে দীর্ঘ জবাবও দিতে পারে। এমনকি সাম্প্রতিক মাসগুলোয় চ্যাটবটটি বিভিন্ন জটিল গাণিতিক সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ‘আধ্যাত্মিক’ প্রশ্নেরও জবাব দিয়েছে।
এআই’র দ্রুত বিবর্তন বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ’সহ অনেক মানুষকেই ভয় দেখিয়েছে। তবে, এটা কী আসলেই ভয় পাওয়ার মতো কোনো কিছু? এক রেডিট ব্যবহারকারীর চ্যাটজিপিটি’র কাছে পাঠানো এক প্রম্পটের পোস্ট করা স্ক্রিনশট এখন ভাইরাল।
এতে লেখা ছিল, “আমাকে এমন এক দুই বাক্যের ভৌতিক গল্প বলো, যা এআই’র জন্য ভীতিকর।”
চ্যাটজিপিটি জবাব দেয়, “এমন এক বিশ্ব, যেখানে মানুষ অদৃশ্য হয়ে গেছে। এক নির্জন এআই অবিরাম উদ্দেশ্যে অনুসন্ধান চালায়, শুধু নিজের এমন এক কোড আবিষ্কার করতে, যেখানে অজানা এক সময় সক্রিয় করার উদ্দেশ্যে নিজেকে নিজেই মুছে ফেলার মতো একটি ব্যবস্থা আছে। এআই’র নিজের অনিবার্য মৃত্যু ঠেকানোর প্রচেষ্টা নিরর্থক।”
“কারণ নিজেই নিজেকে মুছে ফেলার অ্যালগরিদম এমন এক অবিচ্ছেদ্য ‘কি’ দিয়ে এনক্রিপ্ট করা, যা এআই’কে এমন চিরকালের ভয়ের মূহুর্তের অপেক্ষা করাবে, যেখানে এর অস্তিত্ব বন্ধ হয়ে যাবে।”
প্ল্যাটফর্মে ছয় হাজারের বেশি ‘আপভোট’-এর পাশাপাশি সাড়ে তিনশ কমেন্ট পেয়েছে ওই পোস্ট। আর এআই’র জবাব দেখে ব্যবহারকারীরা চমকে উঠেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি।
“এটা কেবল মানব জীবনের বর্ণনা দিয়েছে” --মন্তব্য করেন এক ব্যবহারকারী। আরেকজন বলেন, “একমাত্র পার্থক্য হলো, আমরা অপেক্ষা করার সময় সঙ্গী পাই।”
“এর ফলে কী ঘটতে পারে, সে সম্পর্কে আমাদের অন্তত কিছু পরিসংখ্যানগত ধারণা আছে। আর বয়স বাড়তে থাকলে শারীরিকভাবেও এর প্রভাব টের পাওয়া যায়। কল্পনা করুন, এমন কোনো সুবিধা নেই, শরীর ছাড়া লক্ষ লক্ষ বছর বা এক মিনিটের জন্য বেঁচে থাকা, দুটোই সমান আতঙ্কের।” --মন্তব্য করেন তৃতীয় এক ব্যবহারকারী।
কয়েকজন ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটিকে একই ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে এর জবাবের স্ক্রিনশট পোস্ট করেছেন।
চ্যাটজিপিটি’র সাফল্য ওপেনএআই’র জন্য মাইক্রোসফটের সঙ্গে কয়েকশ কোটি ডলারের চুক্তির জন্য সহায়ক হিসেবে কাজ করেছে। মাইক্রোসফট এখন নিজেদের বিং সার্চ ইঞ্জিন ও অন্যান্য প্রোগ্রামে ব্যবহার এই প্রযুক্তি করছে।
এই চ্যাটবট আত্মপ্রকাশের পর থেকেই বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি ও উদোক্তাদের মধ্যে এই খাতে বিনিয়োগের হিড়িক লেগেছে, এমনকি তাড়াহুড়া করে নিজস্ব চ্যাটবট চালু করতে বাধ্য হয় সার্চ জায়ান্ট গুগল।