মিল্কিওয়ে’র বিশাল কৃষ্ণগহ্বর তীব্র গতিতে ঘুরছে?

“আমাদের গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ‘স্যাজিটারিয়াস এ*’ কৃষ্ণগহ্বরটি খুবই দ্রুত ঘুরছে, যার একইসঙ্গে রোমাঞ্চকর ও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবও রয়েছে।”

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Feb 2024, 02:41 PM
Updated : 12 Feb 2024, 02:41 PM

আমাদের সৌরজগতের ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ের কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোলটি এত দ্রুত ঘুরছে যে, যেটি প্রচলিত স্থানকালকে বাঁকিয়ে ফুটবলের মতো গোলাকৃতি করে ফেলেছে।

নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে, এমন আচরণের কারণেই মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে থাকা সুবিশাল কৃষ্ণগহ্বরটি ডিস্ক আকারের চেয়ে বরং ফুটবলের মতোই দেখায়।

“আমাদের এ গবেষণা সম্ভবত আমাদের সৌরজগতের বিশাল ব্ল্যাক হোল কত দ্রুত ঘুরছে সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে সাহায্য করতে পারে,” বলেছেন এ নতুন গবেষণার মূল লেখক রুথ ড্যালি।

“আমাদের গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, ‘স্যাজিটারিয়াস এ*’ কৃষ্ণগহ্বরটি খুবই দ্রুত ঘুরছে, যা একইসঙ্গে রোমাঞ্চকর ও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাবও রয়েছে।”

দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীদের আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে ছায়াপথের সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল। ‘স্যাজিটারিয়াস এ*’ নামের কৃষ্ণগহ্বরটি সংক্ষেপে ‘স্যাজি এ*’ নামে পরিচিত।

বিজ্ঞানীরা এই বিশাল আকারের মহাজাগতিক বস্তুটি সম্পর্কে ধারণা পেতে দীর্ঘ সময় খরচ করছেন, যা পৃথিবীর গ্যালাক্সি মিল্কিওয়ে’কে ধারণ করে রেখেছে বলে মনে করা হয়।

নতুন এ গবেষণায় নাসার ‘চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি’র সংগ্রহ করা ডেটা ব্যবহার করেছেন গবেষকরা। গবেষক দলটির দাবি, ‘স্যাজি এ*’ এত দ্রুত ঘুরছে যে এটি এর চারপাশের স্থানকালকেও বাঁকিয়ে দিয়েছে।

গবেষকদের অনুমান, বর্তমানে নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য ঘুর্ণন গতির ৬০ শতাংশ খরচ করছে কৃষ্ণগহ্বরটি। তথ্যটি পাওয়া গেছে আগের বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনে, যা মানুষকে মহাবিশ্বের অন্যান্য অংশের কৃষ্ণগহ্বরের ঘূর্ণনের গতি ও এর সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে আরও ভালোভাবে বুঝতে সাহায্য করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট ‘বিজিআর’।

সৌরজগতের বিশাল কৃষ্ণগহ্বর ‘স্যাজি এ*’র আশপাশের স্থানকাল প্রতিনিয়তই পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে এর আশপাশের স্থানকাল একে আবৃত করে একটি ফুটবলের আকার ধারণ করছে।

মানুষ যখন এই বিশাল মহাজাগতিক বস্তু ও মহাবিশ্বের বিবর্তনে এদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও জানার চেষ্টা করছে, তখন নতুন এ কৌতূহলোদ্দীপক গবেষণা ‘বিজ্ঞানীদেরই মাথা ঘুরিয়ে দিয়েছে’।

গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক ‘রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’র মাসিক জার্নালে।