Published : 02 Dec 2025, 10:36 AM
‘যৌন নিপীড়ন’ সংক্রান্ত ভিডিও তৈরির জন্য ১ লাখ ২০ হাজারেও বেশি বাড়ির ক্যামেরা হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়।
এ হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ কোরিয়া পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাড়ি ও ব্যবসায়ের এক লাখ ২০ হাজারেও বেশি ক্যামেরার ভিডিও হ্যাকিং এবং সেই ভিডিওর ফুটেজ ব্যবহার করে বিদেশি এক ওয়েবসাইটের জন্য যৌন নিপীড়নমূলক কনটেন্ট তৈরি করেছে তারা।
রোববার গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়ে দেশটির পুলিশ বলেছে, এই হ্যাকিং চালাতে সহজ পাসওয়ার্ডের মতো ইন্টারনেট প্রোটোকল বা আইপি ক্যামেরার দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়েছে অভিযুক্তরা।
সিসিটিভির তুলনায় সাশ্রয়ী বিকল্প হল আইপি ক্যামেরা, যাকে সাধারণত হোম ক্যামেরাও বলে। বাড়ির ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সঙ্গে এগুলোর সংযোগ থাকে এবং সাধারণত নিরাপত্তার জন্য বা শিশু ও পোষা প্রাণীর নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য বসানো হয় এসব ক্যামেরা।
দক্ষিণ কোরিয়াজুড়ে যেসব ক্যামেরা হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে, তার মধ্যে ব্যক্তিগত বাড়ি, কারাওকে রুম, পিলাটিস স্টুডিও এবং এক স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞের ক্লিনিক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
এক বিবৃতিতে দেশটির ‘ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি’ বলেছে, চারজন সন্দেহভাজন একে অপরের সঙ্গে মিলে এসব কাজ করেননি এবং এ কাজের জন্য একসঙ্গে কোনো ষড়যন্ত্রও করেনি তারা।
চারজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ৬৩ হাজার ক্যামেরার দখল নিয়ে পাঁচশ ৪৫টি যৌন নিপীড়নমূলক ভিডিও তৈরি করেছেন তিনি, যা পরে প্রায় ১২ হাজার ২৩৫ ডলার মূল্যের ভার্চুয়াল সম্পদে বিক্রি করেছেন।
অন্য এক সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ৭০ হাজার ক্যামেরার অ্যাক্সেস নিয়ে ছয়শ ৪৮টি ভিডিও ১৮ মিলিয়ন ওনের বিনিময়ে বিক্রি করেছেন তিনি।
গত এক বছরে ওই বিদেশি ওয়েবসাইটে হ্যাকিংয়ের শিকার ক্যামেরার যতগুলো ভিডিও পোস্ট হয়েছে তার প্রায় ৬২ শতাংশ ভিডিওই তৈরি বা সরবরাহ করেছেন ওই দুই সন্দেহভাজন। ওয়েবসাইটে পোস্ট হওয়া ভিডিওর বেশিরভাগ তাদের হাতেই তৈরি।
বর্তমানে সেই ওয়েবসাইট বন্ধ ও ব্লকের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি এর পরিচালনাকারীকে তদন্তের আওতায় আনতে বিদেশি সংস্থার সঙ্গে কাজ করছে পুলিশ। এ ছাড়া, ওই সাইট থেকে কনটেন্ট কিনেছে ও দেখেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এমন তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে তারা।
‘ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সি’র সাইবার তদন্ত বিভাগের প্রধান পার্ক উ-হিউন বলেছেন, “আইপি ক্যামেরা হ্যাকিং ও অবৈধভাবে ভিডিও ধারণ ভুক্তভোগীদের জন্য অনেক দুর্ভোগ ডেকে আনে। ফলে এগুলো গুরুতর অপরাধ। আমরা কঠোর তদন্তের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ নির্মূল করব।
“অবৈধভাবে তোলা ভিডিও দেখা ও রাখা গুরুতর অপরাধ। এ নিয়ে সক্রিয়ভাবে তদন্ত করব আমরা।”
ব্যক্তিগতভাবে ৫৮টি স্থানে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বা তাদের নোটিশ পাঠিয়ে এ ঘটনার বিষয়টি জানিয়েছেন পুলিশের প্রতিনিধিরা এবং তাদের ক্যামেরার পাসওয়ার্ড পরিবর্তনেরও নির্দেশনা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের কনটেন্ট মুছে ফেলা ও ব্লক করতে সাহায্যের পাশাপাশি অন্যান্য যাদের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে তাদেরও শনাক্তের চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।