১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

আর্টেমিস টু নভোচারীরা এখন কোথায়? কী করছেন?

এরইমধ্যে নভোচারীরা পৃথিবী পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৭০ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় পৌঁছেছেন।

আর্টেমিস টু নভোচারীরা এখন কোথায়? কী করছেন?
মহাকাশযান থেকে দেখা যাচ্ছে একফালি চাঁদের মতো পৃথিবীর রূপ। ছবি: নাসা

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Apr 2026, 09:03 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:17 PM

মহাকাশে প্রথম দিনটি বেশ ব্যস্ততায় কাটিয়ে আর্টেমিস টু মিশনের ওরিয়ন ক্যাপসুলের চার নভোচারীরা ঘুমাচ্ছেন। তারা সাধারণত চার ঘণ্টা করে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

এ মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান, পাইলট ভিক্টর গ্লোভার, মিশন স্পেশালিস্ট ক্রিস্টিনা কোচ ও জেরেমি হ্যানসেনকে বহনকারী মহাকাশযানটি বর্তমানে পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৮ হাজার ৩৯৭ কিলোমিটার দূরে কক্ষপথে অবস্থান করছে।

বিশ্রামে না থাকার সময় ক্রু সদস্যরা মহাকাশযানটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন। উৎক্ষেপণের কিছুক্ষণ পরেই যানটির সৌর প্যানেল বা ‘সোলার উইংস’গুলো পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে, যা তাদের পুরো যাত্রায় প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ শক্তি সরবরাহ করছে।

মিনিবাসের আকারের এ মহাকাশযানটিতে এর আগে কখনও মানুষ চড়েনি। ফলে এর পাইলট ভিক্টর গ্লোভার সারাদিন ধরে যানটিকে এর সর্বোচ্চ সক্ষমতা পর্যন্ত চালিয়ে পরীক্ষা করছেন।

নাসা নিশ্চিত হতে চায়, মহাকাশের আরও গভীরে যাওয়ার আগে ওরিয়ন পুরোপুরি যাত্রার উপযোগী কি না। কারণ, একবার গভীর মহাকাশে চলে গেলে সেখান থেকে সহজে ফিরে আসার কোনো পথ নেই।

পাশাপাশি নভোচারীরা মহাকাশযানের ভেতরে থাকা ‘লাইফ সাপোর্ট সিস্টেম’ বা জীবন রক্ষাকারী ব্যবস্থাগুলোও পরীক্ষা করে দেখছেন। কোনো সমস্যা দেখা দিলে নভোচারীদের কাছে বিশেষভাবে তৈরি এমন স্যুট বা পোশাক রয়েছে, যা তাদের প্রায় ছয় দিন পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখবে।

মহাকাশে নভোচারীদের প্রথম দিনটি বেশ ব্যস্ততায় কাটছে। তারা ক্যাপসুলটিকে ম্যানুয়ালি চালিয়ে দেখছেন, যাতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে প্রয়োজনে নিজেরাই মহাকাশযানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবেন।

সবকিছু ঠিক থাকলে বৃহস্পতিবার রাতের দিকে নভোচারীরা ‘ট্রান্স লুনার ইনজেকশন বার্ন’ সম্পন্ন করবেন। এর মাধ্যমে রকেটটির ইঞ্জিনের ধাক্কাই তাদের পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে বের করে সরাসরি চাঁদের দিকে পাঠিয়ে দেবে। সেখান থেকে চাঁদে পৌঁছাতে তাদের প্রায় চার দিন সময় লাগবে।

মিশনের গুরুত্বপূর্ণ ধাপ ‘ট্রান্স লুনার ইনজেকশন বার্ন’

আর্টেমিস-২ মিশন নিয়ে গত কয়েক ঘণ্টার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ‘ট্রান্স লুনার ইনজেকশন বার্ন’। বৃহস্পতিবার রাতেই রকেটের এ সিস্টেমটি পরীক্ষা করবেন নভোচারীরা।

ওরিয়ন ক্যাপসুলের ইঞ্জিন চালু করে একটি নির্দিষ্ট গতি পেতে হবে, যা তাদের পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ কাটিয়ে চাঁদের দিকে ছুড়ে দেবে। এমনটি সফল না হওয়া পর্যন্ত মিশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে ‘চাঁদের মিশন’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে না।

এরইমধ্যে নভোচারীরা একটি ১৮ মিনিট দীর্ঘ ইঞ্জিন বার্ন সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। ফলে তাদের কক্ষপথের সর্বোচ্চ উচ্চতা পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৯ হাজার ৭৯৭ কিলোমিটারে পৌঁছেছে। এর কারণ, মহাকাশে যাওয়ার আগে মহাকাশযানের সব সিস্টেম শেষবারের মতো ঝালিয়ে নেওয়া।

পাইলট ভিক্টর গ্লোভার গত রাতে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি ‘ম্যানুয়ালি’ চালিয়েছেন। রকেটের ওপরের অংশ থেকে আলাদা হওয়ার পর এটি কতটুকু মসৃণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা পরীক্ষা করাই ছিল উদ্দেশ্য।

গ্লোভার বলেছেন, মহাকাশযানটি চমৎকারভাবে সাড়া দিচ্ছে।

মিশনটি সফলভাবে কক্ষপথে পৌঁছানোর পর হোয়াইট হাউস থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। এ মিশনকে ‘মানবজাতির অদম্য সাহসের প্রতীক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

রাতের ‘ট্রান্স লুনার ইনজেকশন বার্ন’ সফল হলে ৬ষ্ঠ দিনে নভোচারীরা চাঁদের উল্টো পিঠ বা ‘ফার সাইডের’ খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাবেন ও পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থান, প্রায় ৪ লাখ কিলোমিটার দূরে যাওয়ার রেকর্ড গড়বেন।

অর্ধশত বছর পর মানুষ আবার চাঁদের এত কাছে যাচ্ছে, পুরো বিষয়টিই এখন টানটান উত্তেজনার!