১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চীনা সামরিক যোগসূত্রে পেন্টাগনের তালিকায় আলিবাবা ও বাইদু

ফেব্রুয়ারি মাসেই এ তালিকাটি হালনাগাদ করেছিল পেন্টাগন। তবে মে মাসে বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরের আগে তালিকাটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

চীনা সামরিক যোগসূত্রে পেন্টাগনের তালিকায় আলিবাবা ও বাইদু
মার্কিন কোনো কোম্পানি বা সংস্থা এখন থেকে আর এসব কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি কোনো চুক্তি করতে পারবে না। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Jun 2026, 05:08 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:22 PM

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের প্রযুক্তিগত উত্তেজনা আরও এক ধাপ বাড়ল। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পরও কাটেনি দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা।

চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে এবার দেশটির ই-কমার্স জায়ান্ট আলিবাবা ও ইন্টারনেট সেবাদাতা কোম্পানি বাইদুর ওপর চড়াও হয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগন।

সম্প্রতি চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহভাজন বিভিন্ন কোম্পানির এক হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ, সেই তালিকায় কোম্পানি দুটি যোগ হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।

আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি’র প্রতিবেদন অনুসারে, এ তালিকায় নাম থাকার মানে এই নয় যে, মার্কিন সরকার তাদের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করছে।

তবে এর ফলে প্রতিরক্ষা বিভাগ এখন থেকে আর এসব কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি কোনো চুক্তি এবং কোনো তৃতীয় পক্ষ বা থার্ড পার্টির মাধ্যমেও তাদের পণ্য বা সেবা ব্যবহার করতে পারবে না।

ফলে এসব কোম্পানি বড় ধরনের ব্যবসায়িক চুক্তির সুযোগ হারাতে পারে। কারণ পেন্টাগনের সঙ্গে কাজ করা অনেক মার্কিন কোম্পানি হয়ত এসব চীনা কোম্পানিকে সরবরাহকারীর তালিকা থেকে বাদ দেবে।

ফেব্রুয়ারি মাসেই এ তালিকাটি হালনাগাদ করেছিল পেন্টাগন। তবে মে মাসে বেইজিংয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সফরের আগে তালিকাটি সরিয়ে নেওয়া হয়।

এখন নতুন সংস্করণে তালিকাটি আবারও আপলোড করা এবং এতে চীনের মেমোরি চিপ নির্মাতা কোম্পানি ‘সিএক্সএমটি’ ও ‘ওয়াইএমটিসি’কে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে যে, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ডনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পরেও দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক, বিশেষ করে প্রযুক্তি খাত খুব একটা উষ্ণ হয়নি।

এ হালনাগাদ তালিকা প্রকাশের পাশাপাশি মার্কিন সেনেটের এক দ্বিপাক্ষিক (ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের) প্যানেল এখন ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি মার্কিন চিপ প্রস্তুতকারকদের জন্য নিয়মকানুন আরও কঠোর করার আহ্বান জানাচ্ছে।

তারা এমন কিছু বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে চীনা বিভিন্ন কোম্পানির বিদেশি অঙ্গপ্রতিষ্ঠানগুলোও ‘তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি’ বা টিএসএমসি’র মতো চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতাদের কাছ থেকে কাস্টমাইজড বা বিশেষ চিপের অর্ডার দিতে না পারে।

এদিকে, তাইওয়ানও যুক্তরাষ্ট্রের মতোই নিজস্ব কিছু কঠোর আইন চালুর কথা বিবেচনা করছে।

মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, তাইওয়ান কর্তৃপক্ষ কেবল পেন্টাগনের কালো তালিকাভুক্ত হুয়াওয়ের মতো কোম্পানিই নয়, বরং সব চীনা গ্রাহকের কাছেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চিপ বিক্রি সীমিত করার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

তাইওয়ান যদি শেষ পর্যন্ত এ প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকরের সিদ্ধান্ত নেয় তবে তা চীনা গ্রাহকদের কাছে উচ্চ সক্ষমতাওয়ালা এআই চিপ বিক্রি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করবে।