Published : 12 Jun 2026, 02:54 AM
নতুন অর্থবছরে প্রায় ৭ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার ঠিক করেছে, তা বর্তমান সক্ষমতায় অর্জন করাটা ‘খুবই কঠিন’ মনে করছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ।
তার মতে, এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কার্যকর সংস্কার ও করজাল সম্প্রসারণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ‘কেমন হল বাজেট’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
এদিন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেন। নতুন অর্থবছরের জন্য তিনি ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট দিয়েছেন, যাতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকা।
এ নিয়ে বিসিআই সভাপতি বলেন, “চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২০২৬) এনবিআরের রাজস্ব আদায় ৪ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি থাকতে পারে। সে তুলনায় আগামী অর্থবছরে ৬ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বাস্তবসম্মত নয়।”
তার ভাষায়, “করজাল উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি, এনবিআরের ডিজিটালাইজেশন ও সংস্কারও কার্যকরভাবে হয়নি। বর্তমান সক্ষমতায় ৪২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির রাজস্ব আদায় খুবই কঠিন।”
ব্যবসা ও শিল্প খাতের দুর্বল অবস্থার কথাও তুলে ধরেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
তিনি বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমেছে। উৎপাদনশীল শিল্পে প্রবৃদ্ধি কমেছে, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি ও কার্যকরী মূলধনের প্রবাহেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে শিল্প খাত থেকে প্রত্যাশিত রাজস্ব আদায়ের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

এই ব্যাবসায়ী নেতার মতে, দেশের কর আদায়ের সম্ভাবনা থাকলেও প্রশাসনিক সক্ষমতার ঘাটতি বড় বাধা।
তিনি বলেন, দেশে ১ কোটি ১৮ লাখের বেশি ব্যবসা ইউনিট থাকলেও ভ্যাট নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮ লাখের কম। একইভাবে আয়করদাতার সংখ্যাও সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম।
“কর আদায়ের সুযোগ আছে, কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগানোর মতো ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা এখনও গড়ে ওঠেনি।”
বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতার বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন এই ব্যবসায়ী নেতা।
তার আশঙ্কা, সরকার যদি বড় অঙ্কের ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাতের জন্য ঋণপ্রবাহ আরও সংকুচিত হতে পারে।
জ্বালানি সংকট, উচ্চ সুদের হার, খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বগতি এবং ব্যাংকিং খাতের প্রতি আস্থার সংকট শিল্পায়ন ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও মনে করেন তিনি।
পারভেজ বলেন, “এনবিআরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা আরও কঠিন হয়ে যাবে।”
আরো পড়ুন
স্থিতিশীলতায় ফেরার বাজেটে ব্যয় বাড়ল ১৯%