Published : 18 Sep 2025, 03:45 PM
গ্রীষ্মের সমাপ্তি ঘটল শরতের আগমনে। এ সময় পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকাল শেষ হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে হালকা বাতাস, পড়ন্ত পাতা আর নতুন ঋতুর শান্ত সৌন্দর্য নিয়ে শুরু হয় শরৎকাল।
এ সময়কে বলে ‘অটাম ইকুইনক্স’ বা ‘শরৎ বিষুব’। এ সময় সূর্য পৃথিবীর বিষুবরেখা পেরিয়ে দক্ষিণ দিকে চলে যায়। ফলে দিন ধীরে ধীরে ছোট হয়ে রাত বড় হতে থাকে। এ বছর এমনটি ঘটবে ২২ সেপ্টেম্বর।
এ ঘটনা পৃথিবীর নিজ কক্ষপথে চলার প্রক্রিয়ারই ফল, যেখানে পৃথিবী ধীরে ধীরে এমনভাবে হেলে পড়ে যে উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে। এটি কেবল এক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক মুহূর্তই নয়, বরং প্রকৃতির পালাবদলে সূচনা হয় নরম ও স্নিগ্ধ এক ঋতুর, যেখানে গ্রীষ্মের উত্তাপ পেছনে ফেলে মানুষ পা রাখেন শরতের সোনালি আলো আর ঠাণ্ডা হাওয়ার দিকে।
‘ইকুইনক্স’ শব্দটি লাতিন ভাষার, যেখানে ‘ইকুস’ অর্থ সমান এবং ‘নক্স’ অর্থ রাত। ফলে শব্দটি শুনলে মনে হতে পারে এ সময় দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয়। তবে বাস্তবে তা পুরোপুরি সঠিক নয়। এমনটি আসলেই সত্যি হত যদি পৃথিবীর কোনো বায়ুমণ্ডল না থাকত।
কিন্তু কেন শরৎ বিষুবে আসলে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হয় না?
গার্ডিয়ান লিখেছে, যে বাতাসের কারণে মানুষ শ্বাস নিতে পারেন সেই বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলোকে বাঁকিয়ে দেয়। এ কারণে সূর্য আসলে দিগন্তের নিচে থাকলেও মানুষ এটিকে উঠেছে বলে মনে করেন। আবার সূর্য ডুবে যাওয়ার পরেও কিছুক্ষণ সূর্যের দেখা মেলে। এ ভ্রম তৈরি হয় কেবলই পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের কারণে।
বিষুব দিনে যেখানে তাত্ত্বিকভাবে দিন-রাত সমান হওয়ার কথা, সেখানে বাস্তবে দিন একটু বেশি বড় হয়। এর মূল কারণ মানুষ সূর্যকে একটু আগে উঠতে ও একটু পরে অস্ত যেতে দেখেন। এ কারণে দিন-রাত একেবারে সমান হয় না।
তবে কয়েক দিন পরে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সত্যিই সমান হয়। একে বলা হয় ‘ইকুইলাক্স’, যেটি সাধারণত ২৫ বা ২৬ সেপ্টেম্বর ঘটে। তবে নির্দিষ্টভাবে মানুষ পৃথিবীর কোন স্থানে রয়েছেন এর ওপর নির্ভর করে এই তারিখ ভিন্ন হতে পারে।