Published : 22 Jan 2026, 01:38 PM
আলাস্কা এয়ারলাইন্সের এক প্লেনের দরজা মাঝ আকাশে খুলে যাওয়ার ঘটনায় মার্কিন প্লেন নির্মাতা কোম্পানি বোয়িংয়ের অভ্যন্তরীণ গাফিলতি ও নিরাপত্তার ত্রুটিকে দায়ী করে এক কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা করেছেন এয়ারলাইনারটির এক পাইলট।
প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার এ মামলার খবর দিয়ে লিখেছে, দুই বছর আগের ওই ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন আদালতে মামলাটি করেছেন ব্র্যান্ডন ফিশার, যেটির খবর সামনে এসেছে সম্প্রতি।
২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি আলাস্কা এয়ারলাইন্সের ‘ফ্লাইট ১২৮২’ এ দরজা খুলে যাওয়ার ওই ঘটনা ঘটে, যেটির পাইলট ছিলেন ব্র্যান্ডন ফিশার।
পাইলট ফিশার উড্ডয়নের কেবল ৩০ মিনিটের মাথায় জরুরি অবতরণ করতে বাধ্য হন। প্লেনটি তখন ১৬ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল এবং ত্রুটিপূর্ণ এক ‘ডোর প্লাগ’ এর কারণে এর জরুরি বহির্গমন দরজা খুলে যায়। এ ঘটনায় কিছু যাত্রী সামান্য আহত হলেও সবাই বেঁচে যান।
তবে অভিযোগ উঠেছে, এ বিপদে প্লেনটিকে নিরাপদে অবতরণ করানোর জন্য ফিশারকে বীর হিসেবে গণ্য করার বদলে উল্টো তাকেই এ ঘটনার জন্য দায়ী করেছে বোয়িং কোম্পানি।
প্রতিবাদে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর প্লেন নির্মাতা কোম্পানিটির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ফিশার। মামলায় ডোর প্লাগ হারিয়ে যাওয়া নিয়ে অবহেলা, মানসিক কষ্ট ও মানহানির কারণ দেখিয়ে ১ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।
মামলার নথিতে বলছে, “পাইলট ইন কমান্ড ফিশার বা প্লেনে থাকা কোনো যাত্রীই জানতেন না যে, বোয়িংয়ের অবহেলা ও পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কারণে প্লেনটি উড্ডয়নের জন্য অনিরাপদ ছিল। এ কারণেই উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বায়ুচাপ কমে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটে। বোয়িংয়ের বিভিন্ন মন্তব্য ক্যাপ্টেন ফিশারের জীবনে এ ঘটনার নেতিবাচক প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।”
মামলায় বোয়িংয়ের বিরুদ্ধে ফিশারের অভিযোগ, কোম্পানিটি তাদের ‘অসংখ্য ব্যর্থতা’ আড়াল করতে তাকে বলির পাঁঠা বানাচ্ছে। এরপর এ ঘটনায় ১৭ মাস ধরে বোয়িংয়ের ওপর তদন্ত চালায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেইফটি বোর্ড’। তদন্তে দেখা যায়, প্লেনের দরজার প্লাগটি আটকে রাখার জন্য যেসব বোল্ট দরকার ছিল তা হয় খুলে ফেলা হয়েছে বা শুরুতেই লাগানো হয়নি।
তদন্ত অনুসারে, ‘স্পিরিট অ্যারোসিস্টেম’ থেকে প্লেনের মূল কাঠামোটি আসার সময় সেটির বিভিন্ন রিভেট ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। সেগুলো সারাতে বোয়িংয়ের কর্মীরা দরজার প্লাগটি খুলেছিলেন। তবে কাজ শেষে সেসব বোল্ট পুনরায় লাগাতে তারা ভুলে যান এবং এ কাজের কোনো সঠিক নথিপত্রও রাখেননি। ফলে সেগুলো আর পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেইফটি বোর্ড’ বা এনটিএসবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ ঘটনার জন্য বোয়িংই দায়ী।
এনটিএসবি’র প্রধান জেনিফার হোমেন্ডি বলেছেন, “এ দুর্ঘটনার পেছনে নিরাপত্তাবিষয়ক যেসব ঘাটতি ছিল তা বোয়িং ও মার্কিন ‘ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ বা এফএএ-এর কাছে আগেই স্পষ্ট হওয়া উচিত ছিল। একই ধরনের নিরাপত্তা অবহেলার কারণে ভবিষ্যতে অন্য কোনো নির্মাণ ত্রুটি বা বড় কোনো দুর্ঘটনা খুব সহজেই ঘটে যেতে পারে।”
সাধারণত ‘বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স ৯’ প্লেনে ২০০-এর কম যাত্রী থাকলে যখন অতিরিক্ত জরুরি বহির্গমন পথ ব্যবহৃত হয় না, তখন ওই বহির্গমন দরজাটি ভরাট করে দেওয়ার জন্য ‘ডোর প্লাগ’ ব্যবহৃত হয়। এ ডোর প্লাগটি চারটি বোল্ট দিয়ে শক্ত করে আটকানো থাকে। তবে আলাস্কা এয়ারলাইন্সের ১২৮২ নম্বর ফ্লাইটে সেসব বোল্ট ছিলই না।
এ ঘটনার পর ডোর প্লাগের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে গত এক দশক ধরে প্লেনের এ নকশায় বোয়িংয়ের কোনো সমস্যা হয়নি। এবারই প্রথম এমন কোনো ঘটনা ঘটল।
এ দুর্ঘটনার ফলে বোয়িংয়ের প্রেসিডেন্ট ও সিইও ডেভ কালহুন পদত্যাগ করেছেন এবং একশরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে উত্তর আমেরিকায় যাতায়াতের জন্য আলাস্কা এয়ারলাইন্স এখনও নির্ভরযোগ্য এক প্লেন কোম্পানি হিসেবে পরিচিত।