Published : 17 Jan 2026, 02:35 PM
এক্সএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন এআই স্টার্টআপটির প্রধান ইলন মাস্কের সন্তানদের একজনের মা অ্যাশলে সেন্ট ক্লেয়ার। পাল্টা মামলা করেছে মাস্কের কোম্পানিটিও। বর্তমানে মাস্ক ও ক্লেয়ারের মধ্যে আইনি যুদ্ধ চলছে।
মাস্কের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি তার যৌনতামূলক ছবি ছড়িয়ে পড়ার কারণে এ মামলা দায়ের করেছেন ক্লেয়ার।
বৃহস্পতিবার নিউ ইয়র্কে দায়ের করা এ মামলায় ক্লেয়ার অভিযোগ করেছেন, তার আপত্তিকর ও অশ্লীল ছবি তৈরি করেছে এক্সএআইয়ের এআই চ্যাটবট গ্রক।
এদিকে, এক্স ও গ্রক-এর মূল কোম্পানিও উল্টো ক্লেয়ারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাদের দাবি, কোম্পানির সেবার শর্তাবলী লঙ্ঘন করেছেন তিনি।
এসব মামলা নিয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি এক্স।
ক্লেয়ারের আইনজীবী ক্যারি গোল্ডবার্গ বলেছেন, “আমরা গ্রক-কে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই। এআই যেন অপব্যবহারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে না পারে সেজন্য জনসাধারণের স্বার্থে স্পষ্ট এক আইনি সীমানা নির্ধারণে সাহায্য করতে চাই আমরা।
“নারী ও মেয়েদের সম্মতি ছাড়া তাদের যৌন আবেদনময় ছবি তৈরির মাধ্যমে এক্সএআই জনদুর্ভোগ তৈরি করছে। প্লাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ নয়।”
আদালতের নথি অনুসারে ক্লেয়ারের অভিযোগ, “এক্স-এর ব্যবহারকারীরা ক্লেয়ারের ১৪ বছর বয়সের পোশাক পরা একটি ছবি খুঁজে বের করে গ্রক-এর কাছে অনুরোধ করেছে, যেন তাকে পোশাকহীন করে বিকিনি পরিয়ে দেওয়া হয়। গ্রক সেই ব্যবহারকারীর অনুরোধও রেখেছে।”
নথিতে আরও বলা হয়েছে, ক্লেয়ারের ছবি তৈরির বিষয়টি ছিল ‘সম্মতিহীন’। গ্রক-এর নির্মাতারা ‘ভালো করেই জানতেন’ এসব ছবি তৈরির পেছনে তার কোনো অনুমতি ছিল না। গ্রক-এর তৈরি ছবিতে ক্লেয়ারকে ‘একজন ইহুদি হিসেবে নাৎসি প্রতীক দিয়ে ঢাকা এক বিকিনি পরা অবস্থায়’ দেখা গেছে।
অভিযোগপত্রে দেখা গেছে, ক্লেয়ার এসব নিয়ে প্রতিবাদ করায় কোম্পানিটি তার ওপর ‘প্রতিশোধ নিয়েছে’। তার এক্স অ্যাকাউন্টটির আয়ের সুযোগ বন্ধ ও তাকে নিয়ে বিকৃত ছবি তৈরি করতে দিয়েছে প্লাটফর্মটি।
এক্স-এর কিছু প্রিমিয়াম ব্যবহারকারী, অর্থাৎ যারা মাসিক ফি প্রদান করেন তাদের পোস্টের ভিউ বা এনগেজমেন্টের ওপর ভিত্তি করে বিজ্ঞাপন থেকে আয়ের একটি অংশ পেয়ে থাকেন।
এর বিপরীতে করা পাল্টা মামলায় এক্সএআই দাবি করেছে, নিউ ইয়র্কে মামলা করে তাদের সেবার শর্তাবলী লঙ্ঘন করেছেন ক্লেয়ার। কোম্পানির নিয়ম অনুসারে, এক্সএআইয়ের সঙ্গে কোনো বিরোধ তৈরি হলে তা টেক্সাস আদালতে সমাধান করতে হবে।
আইনজীবী গোল্ডবার্গ বলেছেন, কোম্পানির এই পাল্টা মামলা করার বিষয়টি অত্যন্ত ‘বিস্ময়কর ও হতাশাজনক’।
“আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ইচ্ছার কথা জানানোর কারণে কোনো বিবাদী উল্টো মামলা করেছে– এমন কথা আমি আগে কখনও শুনিনি।
“অনলাইনে প্লাটফর্মটি ক্লেয়ারের সঙ্গে যে ধরনের খারাপ আচরণ করেছে তাদের আইনি কৌশলেও ঠিক সেই একই আচরণের প্রতিফলন ঘটছে।”
ক্লেয়ার নিউ ইয়র্কেই মামলাটি ‘জোরালোভাবে লড়ে যাবেন’ এবং ‘যে কোনো আদালতই’ তার এই অভিযোগের সত্যতা ও গুরুত্ব স্বীকার করবে বলেও জানিয়েছেন গোল্ডবার্গ।
গেল বছর এক্স-এর এক পোস্টে ক্লেয়ার বলেছিলেন, এই মার্কিন ধনকুবের এক সন্তানের জন্ম দিয়েছেন তিনি। মাস্ক অন্তত ১৩টি সন্তানের বাবা।
বর্তমানে ক্লেয়ার ও মাস্কের মধ্যে সন্তানের অভিভাবকত্ব নিয়ে আইনি লড়াইও চলছে।