Published : 19 Jun 2026, 04:48 PM
লিখিত নির্দেশ বা টেক্সট প্রম্পট থেকে নিখুঁত ছবি তৈরির এআই প্রযুক্তির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত মিডজার্নি। জনপ্রিয় এআই প্ল্যাটফর্মটি এবার পা রাখছে চিকিৎসা প্রযুক্তির দুনিয়ায়।
কোম্পানিটি এমন এক আধুনিক ফুল-বডি আল্ট্রাসনিক স্ক্যানার তৈরি করছে, যা কেবল ৬০ সেকেন্ডে নিখুঁতভাবে পুরো শরীর স্ক্যান করবে বলে দাবি তাদের।
প্রচলিত এমআরআই-এর বিকল্প হিসেবে ‘বাটারফ্লাই নেটওয়ার্ক’-এর প্রযুক্তি ও অ্যাপলের সাবেক এক প্রকৌশলীর নেতৃত্বে তৈরি এ ডিভাইসটি স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক বড় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
মিডজার্নি সাধারণত যে ধরনের কাজের জন্য পরিচিত তার সঙ্গে এ নতুন প্রজেক্টের কোনো মিল নেই। তবে বিষয়টি কোনো রসিকতা নয়। ‘মিডজার্নি স্ক্যানার’ নামের এর নতুন প্রজেক্টটি সম্পূর্ণ বাস্তব।
কোম্পানিটি এমন কিছু বিশেষ স্পা তৈরি করছে, যেখানে এসব মেশিন বসানো হবে এবং মানুষ গিয়ে তাদের দেহ স্ক্যান করাতে পারবেন।
নতুন উদ্যোগের ঘোষণায় মিডজার্নি অকপটে স্বীকার করেছে, এ প্রজেক্টের সঙ্গে তাদের আগের কাজের কোনো সম্পর্ক নেই।
কোম্পানিটি এখন এমন এক পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে, যেখানে তারা নিজেদের প্রশ্ন করছে, ‘আমরা অন্যদের চেয়ে কীভাবে আলাদা হতে পারি?’ এবং ‘ভবিষ্যতে আমরা আসলে কী হতে চাই?’
এসব প্রশ্নের উত্তর হিসেবেই সম্ভবত কোম্পানিটি শুরু করতে যাচ্ছে ‘মিডজার্নি মেডিকেল’ নামের স্ক্যানার। এক্ষেত্রে তাদের প্রথম হার্ডওয়্যার পণ্য হতে যাচ্ছে এ স্ক্যানারটি।
ব্লগ পোস্টে মিডজার্নি লিখেছে, “আমরা এমন এক প্রযুক্তির স্বপ্ন দেখেছিলাম, যা এমআরআই-এর মতোই শক্তিশালী হবে, অথচ সেখানে যাওয়ার অভিজ্ঞতাটি হবে একটি স্পা-তে যাওয়ার মতোই সহজ ও আরামদায়ক। আজ আমরা সেই স্বপ্নের পথটিই সবার সামনে উন্মোচন করছি।”
এ যন্ত্রটির কার্যপদ্ধতিও চমৎকার। কেউ এর প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দাঁড়ালে মিডজার্নির এ স্ক্যানারটি প্রতি সেকেন্ডে ২ ইঞ্চি গতিতে তাকে পানিতে নিমজ্জিত করবে। এরপর তার দেহটি বৃত্তাকার এক বলয়ের ভেতর দিয়ে পার হবে, যা বালুকণার আকারের প্রায় ৫ লাখ ক্ষুদ্র চৌকো সেন্সর দিয়ে তৈরি।
এসব সেন্সরের প্রতিটি আল্ট্রাসনিক তরঙ্গ নির্গমন ও মানুষের দেহ থেকে প্রতিফলিত হয়ে ফিরে আসা তরঙ্গের সূক্ষ্ম বিভিন্ন কম্পন নিখুঁতভাবে রেকর্ড করতে পারে।
কোম্পানিটি এসব সেন্সরকে ডলফিনের সঙ্গে তুলনা করেছে, যারা দিকনির্ণয় বা কোনো কিছু খুঁজে পেতে ‘ইকোলোকেশন’ বা প্রতিধ্বনি ব্যবহার করে, অর্থাৎ এ মেশিনে স্ক্যানের অভিজ্ঞতাটি এমন হবে যেন আশপাশ থেকে ৫ লাখ ছোট ছোট ডলফিন কাউকে ঘিরে রেখেছে।
মিডজার্নি বলেছে, এ স্ক্যানের মাধ্যমে ‘দেহের ত্রিমাত্রিক বা থ্রিডি মানচিত্র পাওয়া যাবে, যা মিলিমিটারের ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ পর্যন্ত নিখুঁত হবে। এমনটা দেখতে অনেকটা বর্তমানের এমআরআই-এর মতোই হবে। তবে গতি হবে প্রায় একশ গুণ’।
কোম্পানিটির লক্ষ্য পুরো স্ক্যান প্রক্রিয়াটি যেন ৬০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে সম্পন্ন হয়। সাধারণত একটি ফুল-বডি এমআরআই করতে ৬০ থেকে ৯০ মিনিট সময় লাগে।
‘ক্রিপ্টো ব্রিফিং’-এর প্রতিবেদন অনুসারে, কোম্পানিটি এ যন্ত্রটি তৈরি করছে হাতে বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড ডিভাইস প্রস্তুতকারক কোম্পানি ‘বাটারফ্লাই নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে।
মিডজার্নি ২০২৫ সালের নভেম্বরে বাটারফ্লাই নেটওয়ার্কের সঙ্গে লাইসেন্স চুক্তি স্বাক্ষর করেছে, যার মাধ্যমে তারা কোম্পানিটির ‘আল্ট্রাসাউন্ড-অন-চিপ’ প্রযুক্তির একচেটিয়া অধিকার পেয়েছে।
এ প্রজেক্টটির নেতৃত্বে রয়েছেন মিডজার্নির কনজিউমার হার্ডওয়্যার প্রজেক্টের প্রধান আহমেদ আব্বাস। অ্যাপলের ‘ভিশন প্রো’ প্রজেক্টে কাজ করার পর ২০২৩ সালের শেষদিকে মিডজার্নিতে যোগ দিয়েছেন তিনি।
এ বছরের কোনো এক সময়ে স্যান ফ্রান্সিসকোতে এ স্ক্যানারওয়ালা প্রথম স্পা সেন্টারটি খোলার পরিকল্পনা করছে মিডজার্নি। এর পরের ধাপে এ যন্ত্রের রোগ নির্ণয় বা ডায়াগনস্টিক সক্ষমতার জন্য মার্কিন ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিষ্ট্রেশন’ বা এফডিএ-এর অনুমোদনের আবেদন করবে।
২০২৮ সালের মধ্যে মিডজার্নি আরও বেশ কয়েকটি শহরে এর পরিধি বাড়াতে চায় এবং তাদের তৃতীয় প্রজন্মের মেশিন বাজারে আনবে, যেটিতে উন্নত ইমেজ কোয়ালিটি বা ছবির মান নিশ্চিত করতে কাস্টম সিলিকন চিপ ব্যবহৃত হবে।
২০৩১ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৫০ হাজার স্ক্যানার চালুর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে মিডজার্নি। তারা বলেছে, “আমরা মনে করি, এমনটা সম্ভব যে, ভবিষ্যতে সঠিক সময়ে প্রাথমিক রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে পুরো বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩০ শতাংশ মৃত্যু ও ৫০ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা খরচ কমিয়ে আনা সম্ভব।”