১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকার পাশে ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল কতটা উদ্বেগের?

“দেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময় ছিল; হয় না দেখে মনে করে ঝুঁকি কম। ভেনেজুয়েলায় ১২৫ বছর পর বড় ভূমিকম্প হল,” বলেন মেহেদী আহমেদ আনসারী।

বিডিনিউজ২৪

মঈনুল হক চৌধুরী ও সাখাওয়াত সুপন কৌশিক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 11 Jul 2026, 12:26 AM

Updated : 11 Sep 2026, 03:37 PM

গেল ২২ জুন ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে দেশ, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে; নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে।

এর সপ্তাহ চারেক আগে ২৬ মে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মৃদু ভূমিকম্প হয়, যার উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ৬১ কিলোমিটার উত্তরে; ময়মনসিংহের ভালুকায়।

এর আগে গত বছরের ২১ নভেম্বর হয় ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ভূকম্প হয়; সেদিন উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকা থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে; নরসিংদীর মাধবদী।

ঢাকার কাছাকাছি এসব এলাকায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থাকাটা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। 

বিশ্লেষকরা বলেছেন, এসব উৎপত্তিস্থলে বড় ভূমিকম্প হলে তা ঢাকা শহরে বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। 

এ শঙ্কা মাথায় রেখে প্রস্তুতিতে জোর দেওয়ার কথা বলেছেন তারা। আর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এ সংক্রান্ত সুপারিশ বাস্তবায়নের পাশাপাশি আতঙ্ক না ছড়িয়ে নিয়মিত মহড়া আয়োজন ও সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ এসেছে বিশ্লেষকদের কাছ থেকে। 

২০০৯ সালে সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (সিডিএমপি) ও জাইকার এক যৌথ জরিপের ফল বলছে, ঢাকায় সাত বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে শহরের ৭২ হাজার ভবন ভেঙে পড়বে।

২০০৯ সালে সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি (সিডিএমপি) ও জাইকার এক যৌথ জরিপের ফল বলছে, ঢাকায় সাত বা তার বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হলে শহরের ৭২ হাজার ভবন ভেঙে পড়বে।

ঢাকার পাশেই উৎপত্তিস্থলে কী বার্তা?

গেল কয়েক বছরের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ সালে বাংলাদেশ ও আশপাশের অঞ্চলে ২৭টি ভূমিকম্প হয়। এরপর ২০২২ সালে ১৯টি, ২০২৩ সালে ৩৫টি ও ২০২৪ সালে ৫৪টি ভূমিকম্প হয়। পরের বছর ৫ মার্চ পর্যন্ত যে হিসাব পাওয়া যায়, তাতেও ২২টি ভূমিকম্পের হিসাব রয়েছে। 

আর চলতি বছর যেসব ভূমিকম্প হয়েছে, সেগুলোর বেশ কয়েকটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার আশপাশে। 

সাম্প্রতিক এসব ভূমিকম্প নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, সিলেট থেকে টেকনাফ (প্লেটে) পর্যন্ত ভূমিকম্পের শক্তি জমা হয়ে আছে। 

“সেজন্য গত কয়েক বছর ধরে নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী ও সিলেট অঞ্চলে ছোটোখাটো ভূমিকম্প পাচ্ছি।”

এ ভূতত্ত্ববিদ বলেন, ভূমিকম্পের দুটো উৎসের মধ্যে একটা হলো ডাউকি ফল্ট (শেরপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও জৈন্তাপুর)। আরেকটা সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত (সিলট, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া, কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম)। এখানে ভূমিকম্পের শক্তি জমা হচ্ছে।

ভূমিকম্পের প্রভাব মোকাবেলায় তার বক্তব্য হলো, “আর্থ সামাজিক বাস্তবতায় অপরিকল্পিত ঢাকা মহানগরীকে পাল্টানো যাবে না; সেক্ষেত্রে মানুষকে সচেতন করাই অন্যতম উপায়।”

স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “মানুষকে জানাতে হবে যে, ভূমিকম্প হলে কোন জায়গাটি তাদের জন্য নিরাপদ; সেই জায়গায় তাদের আশ্রয় নেওয়ার কথা বলতে হবে। আবার ভূমিকম্পের আগে কী ধরনের প্রস্তুতি থাকতে হবে, সেগুলো রাখা; ভূমিকম্পের পর কী দায়িত্ব, সেটাও জানাতে হবে।”

স্মার্টফোনে ‘ন্যাচারাল হ্যাজার্ড ডিজাস্টার সার্ভাইভালের’ মাধ্যমে বিষয়গুলো শেখানো যেতে পারে বলে মনে করেন এই বিশ্লেষক।

ভূমিকম্প নিয়ে গেল নভেম্বরে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে একগুচ্ছ সুপারিশ তুলে ধরেন বিশেষজ্ঞরা, যে দলে হুমায়ুন আখতারও ছিলেন।

তার অভিজ্ঞতা হলো, ভূমিকম্পের প্রভাব মোকাবেলায় নানা সুপারিশ এলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। 

“ভূমিকম্পের ঝুঁকি, মোকাবেলায় প্রস্তুতি ও সচেতনতা তৈরির বিষয়ে লিখিতভাবে সুপারিশ তুলে ধরেছি। আমাদের এখানে ‘সাবডাকশন জোনে’ ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হওয়ার মতো শক্তি জমা আছে। এ শক্তির ৬০ শতাংশও যদি বের হয়, সেটা হবে ৮ মাত্রা।”

ভূমিকম্প, অগ্নুৎপাত, পাহাড়-পর্বতের সৃষ্টি এ সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত হয় ভূত্বক গঠনকারী প্লেটগুলোর সঞ্চারণের ওপর। পৃথিবীর উপরিভাগের ৭০-১০০ কিলোমিটার পুরুত্বের লিথোস্ফিয়ার ছোট-বড় ১৩টি খণ্ডে (প্লেটে) বিভক্ত। উত্তপ্ত ও নরম এস্থোনোস্ফিয়ারের ওপর ভাসমান এ প্লেটগুলো গতিশীল।

বাংলাদেশের উত্তরে আছে ইন্ডিয়ান প্লেট এবং ইউরেশিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল; পূর্বে বার্মিজ প্লেট ও ইন্ডিয়ান প্লেটের সংযোগস্থল। প্লেটগুলো গতিশীল থাকায় বাংলাদেশ ভূখণ্ড ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে।

এই ভূখণ্ডে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলেও বড় বিপর্যয় হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন সৈয়দ হুমায়ুন আখতার।

তিনি বলেন, “ঢাকা থেকে ৭০ কিলোমিটার দুরেও যদি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল হয়; বা ১০০ কিলোমিটার দূরেও হয়-তাহলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ঢাকা। কেমন ক্ষতি হবে ধারণা করা মুশকিল-এটা নির্ভর করবে ভবনের কন্সট্রাকশন কী রকম, ফাউন্ডেশন কি রকম, কোন সয়েলের উপর বিল্ডিং। যেহেতু ঢাকা শহর অপরিকল্পিত গড়ে উঠেছে, জনসংখ্যা বেশি-সেখানে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাও বেশি হবে।”

ঢাকার ঝুঁকি যেখানে 

ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ঢাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে বলে মনে করেন পরিকল্পনাবিদ ও ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান।

বিডিনিউজ টোয়েন্টেফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ঢাকায় হাজার হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে। এর অন্যতম কারণ হলো, দীর্ঘদিন ধরে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে কেবল স্থাপত্য নকশা অনুমোদন দেওয়া হলেও ভবনের কাঠামোগত (স্ট্রাকচারাল) নিরাপত্তা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি। নির্মাণসামগ্রীর মানও তদারকি করা হয় না।”

আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ২০০০ সালের পর ঢাকার জলাশয় ও জলাভূমির বড় অংশ ভরাট করে অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। 

“এসব এলাকায় ভূমিকম্প হলে মাটিতে 'অ্যামপ্লিফিকেশন' ও 'লিকুইফ্যাকশন' হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ফলে কম্পনের তীব্রতা আরও বেড়ে যেতে পারে।”

ঢাকার পূর্বাচল, বসুন্ধরা, জলসিঁড়ি ও মিরপুরের সম্প্রসারিত অংশের জলাভূমির ওপর গড়ে ওঠা এলাকাগুলো বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করে দেন তিনি। 

২০২৫ সালের নভেম্বরে ভূমিকম্পের সময় ঢাকার বংশালে একটি ভবনের রেলিং ভেঙে তিন পথচারীর মৃত্যু হয়।

২০২৫ সালের নভেম্বরে ভূমিকম্পের সময় ঢাকার বংশালে একটি ভবনের রেলিং ভেঙে তিন পথচারীর মৃত্যু হয়।

আদিল মুহাম্মদের মতে, এখন পর্যন্ত ঢাকার খুব কাছে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প না হওয়ায় বড় বিপর্যয় এড়ানো গেছে। তবে যদি ঢাকার আশপাশে কম গভীরতায় সাত মাত্রার ভূমিকম্প হয়, তাহলে পরিস্থিতি 'ক্যাটাস্ট্রফিক' হতে পারে।

তার মতে, শুধু আবাসিক ভবন নয়, ফায়ার সার্ভিস, হাসপাতাল, বিদ্যালয়সহ দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনাগুলোর অনেকগুলোও ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। 

“ফলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে উদ্ধার ও জরুরি সেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।”

তিনি অভিযোগ করেন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থায় দীর্ঘদিনের দুর্বল তদারকি ও দুর্নীতির কারণে পরিকল্পনাহীন নগরায়ন হয়েছে। 

ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর চাপে উন্নয়ন পরিকল্পনা পরিবর্তন, জলাশয় ভরাট এবং উচ্চঘনত্বের আবাসন নির্মাণের অনুমোদন দেওয়ায় ঝুঁকি আরও বেড়েছে বলেও মনে করেন তিনি।

ভূমিকম্প মোকাবিলায় তিনি কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দেন। এর মধ্যে রয়েছে ওয়ার্ডভিত্তিক খোলা জায়গা বা ওপেন স্পেস তৈরি; গ্যাস ও বিদ্যুৎ লাইনের ভূমিকম্প-সহনশীলতা নিশ্চিত করা এবং ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে শক্তিশালী করা।

তিনি বলেন, আদর্শভাবে প্রতিটি বাসস্থান থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে অন্তত একটি খোলা জায়গা থাকা উচিত, যেন ভূমিকম্পের পর মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিতে পারে। 

“এসব জায়গা স্বাভাবিক সময়ে পার্ক বা খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, আর দুর্যোগের সময় তা উদ্ধার ও আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।”

আদিল মুহাম্মদ মনে করেন, রাষ্ট্র চাইলে এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।

“রাষ্ট্র চায় না বলেই হয় না। রাষ্ট্র চাইলে যেমন মেট্রোরেল বা বড় অবকাঠামো নির্মাণ করতে পারে, তেমনি ওয়ার্ডভিত্তিক প্রয়োজনীয় খোলা জায়গাও তৈরি করতে পারে।"

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, “দেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি সবসময় ছিল। হয় না দেখে মনে করে ঝুঁকি কম। ভেনিজুয়েলায় ১২৫ বছর পর বড় ভূমিকম্প হল। বাংলাদেশেও এমন শঙ্কা রয়েছে।

বাংলাদেশে গড়ে ৩০-৪৫% ভবনই ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন এ বিশেষজ্ঞ।

“ভূমিকম্প ঝুঁকি আছে। প্রবলেমটা হচ্ছে আমাদের বিল্ডিং। নতুন নতুন বিল্ডিং হচ্ছ-সেগুলো এনফোর্স করছে না; যেগুলো ঝুঁকিপূর্ণ সেগুলোর ব্যবস্থা হচ্ছে না। যার ফলে আমাদের ঝুঁকি বেশি। এখানে দুটি স্টিমেট- রাজউক ও গার্মেন্টস, এখানে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভবনে ঝুঁকি রয়েছে। কোনটা ভালো, কোনটা খারাপ, প্রত্যেকটা ধরে ধরে যাচাই করতে হবে।”

স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “ভবনগুলো কতটুকু ঝঁকিপূর্ণ, তা যাচাই করা হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা। আর স্বল্প মেয়াদের পদক্ষেপ হতে পারে ‘বিল্ডিং কোড ইনফোর্সমেন্ট’।”

ভূমিকম্প ঝুঁকি রোধে সুপারিশ বাস্তবায়ন না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কোনোটার তো কিছু হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছেও কিছু দিয়েছিলাম। এখন আশা করছি, নতুন সরকার এসেছে; কিছু হবে।”

তিনি আরো বলেন, “ভূমিকম্পে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনই প্রাণহানি ঘটায়। সেক্ষেত্রে ভবন মালিকরাই যেন ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়, সরকারকে সেই পদক্ষেপ নিতে হবে।”

এ বিশেষজ্ঞের হিসাবে, ঢাকা শহরে ২১ লাখের মত বাসা রয়েছে, এর মধ্যে ১৫ লাখ আছে একতলা-দোতলা। চার থেকে ছয় তলা ভবন আছে ৬ লাখের মত; ১০ তলা, ২০ তলা ভবনও রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে বড় ভূমিকম্প হলে ২ থেকে ৩ লাখ মানুষ হতহাত হবে। ভবন ধসে পড়বে ৩৫ শতাংশের মতো।

সরকারের কী প্রস্তুতি

ভূমিকম্পের আগে-পরে প্রস্তুতি, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় কাজ শুরু করার কথা বলেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে দুবার আমাদের নিয়ে মিটিং করেছেন। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা মিলে যেন নগরভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করি, সেই নির্দেশনা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ৪৩ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবকের ডেটা করা হয়েছে, এটা চলমান রয়েছে।”

গা-ঘেঁষা এমন শত শত বাড়ি রয়েছে পুরান ঢাকায়।

গা-ঘেঁষা এমন শত শত বাড়ি রয়েছে পুরান ঢাকায়।

গেল ২৩ জুন সংসদ অধিবেশনে ভূমিকম্প নিয়ে সরকারের উদ্যোগ জানতে চান গোপালগঞ্জ-১ আসনের  সেলিমুজ্জামান মোল্যা। 

জবাবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ভূমিকম্পসহ নগর দুর্যোগ মোকাবেলায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে ৪৪৫টি ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটিতে ২৫৬টি আর উত্তর সিটিতে রয়েছে ১৮৯টি।

মন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্ধার ও জরুরি সাড়ার সক্ষমতা বাড়াতে ঢাকা মহানগর ও আশপাশের এলাকায় এক লাখ স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন মন্ত্রী।

এসব আশ্রয়কেন্দ্রের বিষয়ে রেজওয়ানুর রহমান বলেন, “সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে; এসব আশ্রয়স্থলে কোনো ঝামেলা রয়েছে কিনা, দেখা হচ্ছে। ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তরও দেখছে। 

“সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কী পরিমাণ যন্ত্রপাতি রয়েছে, সে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ, ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্টদের চার হাজারের বেশি সরঞ্জাম রয়েছে। সচেতনতায় লিফলেট বিতরণ ও টিভির জন্য প্রচারণামূলক কাজ হচ্ছে।”

সোমবার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, দেশের প্রতিটি বিভাগে ভূমিকম্পের দুর্যোগ মোকাবেলায় বিশেষ টিম রয়েছে। 

“ঢাকা শহরের জন্য স্পেশাল ডেডিকেটেড টিম রয়েছে। নিয়মিত ট্রেনিং, মহড়া ও পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতিও রয়েছে।”

পুরান ঢাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সেখানে যেকোনো সময় যেকোনো উদ্ধারকাজই চ্যালেঞ্জিং। সার্বিক বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এখানে বিভিন্ন ধরনের সচেতনতামূলক কাজও চালাচ্ছি।”

পুরনো খবর-

ভূমিকম্পসরু গলিতে জরাজীর্ণ ভবনকী হবে পুরান ঢাকার?

ভূমিকম্পে কী করবকী করব না

বড় ভূমিকম্পের 'শঙ্কা', ঢাকার ঝুঁকি কতটা?