Published : 05 May 2026, 06:17 PM
টুইটার (বর্তমানে এক্স) কেনার তথ্য দেরিতে প্রকাশের অভিযোগে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের করা মামলাটি ১৫ লাখ ডলারে রফা করেছেন ইলন মাস্ক।
২০২৫ সালে দায়ের করা এ মামলায় মাস্ক কোনো অপরাধ স্বীকার না করলেও মোটা অংকের অর্থ দিয়ে দীর্ঘদিনের এই আইনি লড়াইয়ের ইতি টানলেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
রফার শর্ত অনুসারে, এ জরিমানার অর্থ দেবে মাস্কের একটি ট্রাস্ট। এ ছাড়া, তথ্য প্রকাশে দেরি করার কারণে তিনি যে অর্থ সাশ্রয় করেছেন বলে অভিযোগ ছিল সেই অর্থের কোনো অংশও বিশ্বের এই শীর্ষ ধনী ব্যক্তিকে ফেরত দিতে হবে না।
সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতে এ সমঝোতার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়ের করা এ মামলায় মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন দাবি করেছিল, ২০২২ সালের মার্চ-এপ্রিল নাগাদ টুইটারের ৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক হওয়ার তথ্যটি মাস্ক ১১ দিন গোপন রেখেছিলেন।
এ সময়ের মধ্যে তিনি বাজারদরের চেয়ে কম দামে আরও ৫০ কোটি ডলারের বেশি শেয়ার কিনে ফেলেন এবং এরপর শেষমেশ ৯.২ শতাংশ শেয়ারের মালিকানার বিষয়টি জনসমক্ষে প্রকাশ করেন।
মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন যুক্তি দিয়েছিল, মাস্কের উচিত দেওয়ানি জরিমানা দেওয়া এবং সেইসঙ্গে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ঠকিয়ে সাশ্রয় করা ১৫ কোটি ডলার ফেরত দেওয়া।
তবে মাস্ক এ বিলম্বকে অনিচ্ছাকৃত বলে দাবি করেন এবং উল্টো মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, সংস্থাটি তাকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তার বাকস্বাধীনতার অধিকার লঙ্ঘন করছে।
এক বিবৃতিতে মাস্কের আইনজীবী অ্যালেক্স স্পিরো বলেছেন, “টুইটার অধিগ্রহণের সময় তথ্য জমা দিতে দেরি হওয়া সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ থেকে মাস্ক এখন মুক্ত। আমরা শুরু থেকেই বলে আসছিলাম যে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন।”
২০২২ সালের অক্টোবরে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে টুইটার কিনে এর নাম বদলে এক্স রাখেন মাস্ক। পরবর্তীতে তিনি এক্সকে নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কোম্পানি এক্সএআইয়ের সঙ্গে যোগ করেন। আরও পরে মাস্ক এক্সএআই’কে নিজের রকেট কোম্পানি স্পেসএক্স-এর অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
ফোর্বস ম্যাগাজিনের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ৭৮ হাজার ৯৯০ কোটি ডলার।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন হোয়াইট হাউস ছাড়ার এবং ডনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের কেবল ছয় দিন আগে মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন মাস্কের বিরুদ্ধে এ মামলাটি দায়ের করেছিল।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান পল অ্যাটকিন্স বর্তমানে এ নিয়ন্ত্রক সংস্থার আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের অগ্রাধিকারের বিভিন্ন ক্ষেত্র পুনর্নির্ধারণ করছেন। ১৭ মার্চ উভয় পক্ষই বলেছিল, তারা মামলাটি মীমাংসার জন্য আলোচনা করছে।
এর ঠিক একদিন আগে সংস্থাটির এনফোর্সমেন্ট চিফ মার্গারেট রায়ান কেবল ছয় মাস দায়িত্ব পালনের পর হুট করে পদত্যাগ করেছেন। এ রফার বিষয়ে গার্ডিয়ানের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মার্কিন সংস্থাটি।
রফার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তির মতে, যে ধরনের লঙ্ঘনের অভিযোগ মাস্কের বিরুদ্ধে আনা হয়েছিল তার জন্য ১৫ লাখ ডলারের জরিমানাটি মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, মাস্কের সাশ্রয় করা সেই ১৫ কোটি ডলার ফেরত নেওয়ার যে চেষ্টা সংস্থাটি করেছিল তা আদালতে প্রমাণ করা বেশ কঠিন হতে পারত।
মার্কিন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে মাস্কের এ তিক্ত সম্পর্ক শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে।
ওই সময় টেসলাকে ব্যক্তিমালিকানাধীন করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করেছেন বলে টুইটারে পোস্ট করায় সংস্থাটি তার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা জালিয়াতির অভিযোগ এনেছিল।
সেই মামলাটি তিনি ২ কোটি ডলারে রফা করেছিলেন। পাশাপাশি শর্ত ছিল, টেসলার আইনজীবীরা মাস্কের কিছু টুইটার পোস্ট আগে থেকে যাচাই করবেন এবং তাকে টেসলার চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে দিতে হবে।
তবে সোমবারের এ রফার বিষয়টি এমন সময়ে এল, যার কেবল তিন মাস আগে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট বিচারক স্পার্কল শুকনানান মামলাটি খারিজের জন্য মাস্কের করা আবেদন নাকচ করে দিয়েছেন।
এর আগে ২০ মার্চ স্যান ফ্রান্সিসকোর জুরি মাস্ককে টুইটার বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার দায়ে অভিযুক্ত করেছিল। তবে, এ মামলাটি ওই দেওয়ানি মামলা থেকে আলাদা।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, মাস্ক ইচ্ছাকৃতভাবে টুইটারে ভুয়া ও স্প্যাম অ্যাকাউন্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। মাস্কের এমন আচরণ ছিল টুইটারকে অধিগ্রহণের মূল্য কমাতে বাধ্য করার বা চুক্তি থেকে সরে আসার এক কৌশল।
তারা আরও বলেছেন, মাস্কের এসব মন্তব্যের কারণে টুইটারের শেয়ারের দাম পড়ে যায় এবং কম দামে শেয়ার বিক্রি করে তারা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বর্তমানে সেই রায় বাতিলের বা বিচার শুরুর চেষ্টা করছেন মাস্ক।