Published : 04 Jun 2026, 10:12 PM
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন যে শর্তসাপেক্ষ নতুন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে সেটি প্রত্যাখ্যান করেছে হিজবুল্লাহ।
কড়া ভাষার এক বিবৃতিতে লেবাননের ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহর নেতা নাঈম কাশেম বলেছেন, আলোচনা লেবাননের জন্য নিরর্থক এবং মানহানিকর হয়েছে এবং লেবাননের বেশির ভাগ মানুষই তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, আংশিক যুদ্ধবিরতি তারা মেনে নিতে পারে না এবং তারা লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী পুরোপুরিভাবে প্রত্যাহারসহ স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি চায়।
এর আগে বুধবার হিজবুল্লাহর হামলা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার শর্তে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করতে রাজি হয়েছিল ইসরায়েল ও লেবানন। ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার পর এক যৌথ বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।
দেশ দুটির মধ্যে কোনও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও তারা নির্দিষ্ট কিছু ‘পাইলট’ নিরাপত্তা অঞ্চল তৈরিতে একমত হয়েছিল। বলা হয়েছিল, এসব এলাকায় লেবাননের সশস্ত্র বাহিনী একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করবে এবং সেখানে হিজবুল্লাহর মতো কোনও গোষ্ঠীর উপস্থিতি থাকবে না।
দুই পক্ষের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত হামলা চলার মধ্যেও এই যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত আসে। কিন্তু হিজবুল্লাহ এই সিদ্ধান্ত সাফ প্রত্যাখ্যান করল।
বৃহস্পতিবার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হিজবুল্লাহ নেতা বলেছেন, হামলা বন্ধ করা এবং লেবাননের ইসরায়েলের সঙ্গেকার দক্ষিণ ফ্রন্ট থেকে হিজবুল্লাহর যোদ্ধা সরিয়ে নেওয়ার শর্তে যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব করা হয়েছে, তা আত্মসমর্পণেরই সামিল। এতে কেবল ইসরায়েলের লক্ষ্যই পূরণ হবে।
একইরকম প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলীগুলোর রাস্তায় হিজবুল্লাহর ঘাঁটিতে (দাহিয়ে নামে পরিচিত)। সেখানকার এক দোকানদার নতুন এই শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
তিনি বিবিসি-কে বলেন, “এক পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি হতে পারে না। এটি হয় সব পক্ষ থেকেই হতে হবে, কিংবা কোনও যুদ্ধবিরতিই হবে না। লেবাননে বৃহস্পতিবারও হামলা হয়েছে। এটাকে যদি যুদ্ধবিরতি ধরে নেওয়া হয় তাহলে কি ফল হল? এটি (নতুন যুদ্ধবিরতি) আত্মসমর্পণ। এটি কোনও শান্তি চুক্তি নয়। এটি আত্মসমর্পণ চুক্তি।”