Published : 07 Jun 2026, 09:02 PM
ভারতের রাজধানী দিল্লির পূর্বাঞ্চলের বসুন্ধরা এনক্লেভ এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা দেবস্মিতা পালের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
খুনের তিনদিনের মধ্যে পুলিশ রহস্য উদঘাটন করেছে। অধ্যাপিকার দেহ উদ্ধারের দু’দিনের মধ্যেই পাকড়াও করা হয় দুই জনকে। তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে খুনে মামলা।
অভিযোগ, কোটি রূপির সম্পত্তি দখলের লোভে অধ্যাপিকাকে খুন করতে ১,৪০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছিলেন ওই দম্পতি। সন্দেহ এড়াতে সঙ্গে নিয়ে গিয়েছিলেন নাবালক সন্তানকেও।
দেবস্মিতার ফ্ল্যাটের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পুলিশ অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের বর্ধমান শহরের বাদামতলা এলাকায় দেবস্মিতা পালের নানার বাড়ি থেকে রামপ্রসাদ দাস ও বনশ্রী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের নাবালক ছেলেও পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
তাদেরকে বর্ধমান আদালতে তোলা হবে। সেখানে ট্রানজিট রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে তাদের দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করবে দিল্লি পুলিশ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানায়, দিল্লিতে একাই থাকতেন অধ্যাপিকা দেবস্মিতা। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন শিবাজী কলেজে পড়াতেন তিনি। বিয়ের পাঁচ বছরের মাথায় ২০২২ সালে স্বামীর সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
তার স্বামী থাকেন বেঙ্গালুরুতে। তার সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। ওদিকে, বর্ধমানে নানার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বাড়ি ছিল দেবস্মিতার। সেই বাড়িতেই ভাড়া থাকতেন দেবস্মিতাকে হত্যায় আটক দম্পতি।
পুলিশ জানতে পেরেছে, দীর্ঘদিন ধরেই ওই বাড়ি জালিয়াতি করে হাতিয়ে নেওয়ার ছক কষছিলেন তারা। দেবস্মিতা এরপর ওই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাদেরকে চাপ দিয়ে আসছিলেন।
গত বৃহস্পতিবার পূর্ব দিল্লির বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টের ফ্ল্যাট থেকে দেবস্মিতার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করা হয়। তার বোন দেবারতি পুলিশে খবর দেন।
তিনি জানান, ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। বারবার ফোন করার পরও বোন সাড়া দিচ্ছেন না বলে দেবারতি দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকেছিলেন। দেবস্মিতার দেহ মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। তার মাথায় গভীর ক্ষত ছিল। হাতের শিরাও কাটা ছিল।
তবে টাকাপয়সা, গয়না কিছুই চুরি যায়নি। পুলিশ তখনই ধারণা করে, চুরি-ডাকাতি নয়, ব্যক্তিগত কোনও আক্রোশ থেকে অধ্যাপিকাকে খুন করা হয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, দেবস্মিতার সাত তলার ফ্ল্যাটে সিঁড়ি ভেঙেে উঠেন দম্পতি। তাদের মুখ মাস্কে ঢাকা ছিল। প্রায় আধ ঘণ্টা তারা ভিতরে ছিলেন। পরে পোশাক বদলে বাইরে আসেন। নীচে গাড়ি দাড় করানো ছিল। তাতে চেপেই তারা ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।
পুলিশ আগে ওই গাড়ির চালককে ধরেছিল। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে দম্পতির বিষয়ে কিছু তথ্য পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, খুন করার জন্য অস্ত্র সঙ্গে করেই নিয়ে গিয়েছিলেন দম্পতি।
গত দুই দিনে দিল্লি পুলিশের সাতটি দল চার রাজ্য ঘুরে চিরুনিতল্লাশি চালিয়ে বহুজনকে জেরা করার পর অবশেষে রোববার বর্ধমানে ধরা পড়েন অভিযুক্ত ওই দম্পতি।