Published : 03 Jun 2026, 03:53 PM
মাইক্রোসফট সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের স্ত্রী মেলিন্ডা গেটসের সঙ্গে বিয়েবিচ্ছেদের সময় তার বিরুদ্ধে ২০টির বেশি বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল।
গত ফেব্রুয়ারিতে ‘বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনে’র এক টাউনহল মিটিংয়ে গেটস এ তথ্য সংগঠনটির কর্মীদের সামনে স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে নিউ ইয়র্ক পোস্ট।
ওই সভায় একসময়ের বিশ্বের শীর্ষ ধনী গেটস স্বীকার করেন যে, এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিতে উল্লিখিত দুই রুশ নারীর সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল। একইসঙ্গে তিনি কর্মীদের বলেন, ২০২১ সালের বিয়েবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া চলাকালে তার বিরুদ্ধে ২০টিরও বেশি সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছিল।
মেলিন্ডার সঙ্গে ২৭ বছর সংসার করার পর বিচ্ছেদের সময় গেটস প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তবে প্রয়াত দণ্ডিত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইনের সঙ্গে তার বৈঠকগুলোতে তিনি ‘কোনো বেআইনি কাজ’ করেননি বলেও দাবি করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব অভিযোগের বেশিরভাগ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি। তবে গেটস স্বীকার করেছেন যে, তিনি রুশ ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং তার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কোম্পানি টেরাপাওয়ারের এক সাবেক কর্মীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন।
গেটস ২০১০ সালে এক টুর্নামেন্টে আন্তোনোভার সঙ্গে পরিচিত হন। পরে আন্তোনোভা একটি ব্রিজ একাডেমির জন্য অর্থায়নের খোঁজে এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এক পর্যায়ে এপস্টেইন তার সফটওয়্যার কোডিং স্কুলে পড়ার খরচও বহন করেছেন।
প্রতিবেদনে অন্য নারীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, গেটস তাকে ‘রুশ পরমাণু পদার্থবিদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ব্যবসায়িক কাজের সূত্রে ওই নারীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল এবং তিনি দুই বছর টেরাপাওয়ারে কাজ করেছেন।
এসব তথ্যে উদ্বিগ্ন কর্মীদের পরে জানানো হয়, ওই নারী আসলে টেরাপাওয়ারের মূল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। এতে কর্মীদের মধ্যে আরও বিভ্রান্তি তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে নিউ ইয়র্ক পোস্ট।
পোস্ট এ বিষয়ে মন্তব্য চাইলে গেটস ফাউন্ডেশন ও টেরাপাওয়ার তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপস্টেইন গেটসের এসব সম্পর্কের বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন এবং সেই তথ্য ব্যবহার করে তাকে ব্ল্যাকমেইল করারও চেষ্টা করেছিলেন। ২০১৩ সালে গেটসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রধান উপদেষ্টা বরিস নিকোলিচ ও এপস্টেইনের মধ্যে আদান-প্রদান হওয়া ইমেইলে এমন ইঙ্গিত মেলে।
সেসব ইমেইলে আরও দাবি ছিল, ‘রুশ মেয়েদের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের পরিণতি থেকে রক্ষা পেতে’ ওষুধ সংগ্রহে নিকোলিচ গেটসকে সহায়তা করেছিলেন।
তবে নিকোলিচ বলেছেন, ওই ইমেইলগুলো গেটসের পক্ষ থেকে বা তার অনুরোধে লেখা হয়নি। অন্যদিকে গেটসের এক মুখপাত্র বলেন, যৌনবাহিত কোনো রোগে আক্রান্ত হওয়ার ইঙ্গিত “সম্পূর্ণ হাস্যকর এবং পুরোপুরি মিথ্যা।”
ফেব্রুয়ারির ওই সভায় গেটস আরও স্বীকার করেন যে তিনি নিউ ইয়র্ক, জার্মানি, ফ্রান্স এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। তবে ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থিত এপস্টেইনের আলোচিত ব্যক্তিগত দ্বীপ লিটল সেন্ট জেমসে তিনি কখনও যাননি বলেও জোর দিয়ে দাবি করেন।