Published : 04 Jun 2026, 10:34 PM
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ঘরের মেঝে খুঁড়ে এক বৃদ্ধার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলেকে সন্দেহ করছে পরিবার। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক আছেন।
বুধবার রাতে উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের এ ঘটনায় নিহতের পুত্রবধূ ও নাতিকে হেফাজতে নেওয়ার কথা বলেছেন কিশোরগঞ্জ থানার ওসি লুৎফর রহমান।
নিহত মারুফা বেগম (৬০) ওই গ্রামের মৃত আশরাফ আলীর স্ত্রী। তার বড় ছেলে জুয়েল ইসলাম (৪০) পেশায় ভ্যানচালক।
পুলিশ জানায়, মারুফা বেগম বড় ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতিকে নিয়ে বাড়িতে থাকতেন। তার ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করেন তিনি।
লাবিন ইসলাম বলেন, ঈদের ছুটিতে বাড়ি এসে শুক্রবার জুমার নামাজের পর শ্বশুর বাড়িতে যান তিনি। বুধবার বিকালে বাড়িতে ফিরে মা, বড় ভাই, ভাবি ও ভাতিজাকে খুঁজে পাননি তিনি।
পরে রাত ১১টার দিকে বড় ভাইয়ের শোবার ঘরের মেঝেতে ফাটল এবং বিছানায় রক্তের দাগ দেখে সন্দেহ হয় লাবিনের। এরপর পুলিশে খবর দেন তিনি।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের মেঝে খুঁড়ে মারুফা বেগমের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, লাশের মাথার বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। দুদিন আগে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যারে পর ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নীলফামারী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সোমবারের পর থেকে মারুফা বেগম ও তার বড় ছেলে জুয়েল ইসলামকে এলাকায় দেখা যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী বলেন, ঘটনার কয়েক দিন আগে মারুফা বেগম ও তার পুত্রবধূর মধ্যে পারিবারিক বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে পুত্রবধূ সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে লাবিন ইসলাম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার থানায় হত্যা মামলা করেছেন বলে জানান ওসি লুৎফর রহমান।
তিনি বলেন, লাবিন তার বড় ভাই জুয়েলকে সন্দেহ করছেন। তবে মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়দের আসামি করা হয়েছে। জুয়েলকে খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জুয়েলের স্ত্রী হাসি বেগম (৩২) ও তার ১৫ বছরের ছেলেকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলেছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।