Published : 03 Jun 2026, 06:44 PM
বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার দিঘিতে থাকা একমাত্র নারী কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাজার কর্তৃপক্ষ। অবিলম্বে কুমিরটি ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে মাজারে আসা দর্শনার্থীরা কুমির সরিয়ে নেওয়ায় ভিন্ন ভিন্ন মত দিয়েছেন। জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসন জরুরি সভা করে মাজারের কুমিরটি সরিয়ে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন।
এর আগে সোমবার রাতে এ কুমিরের আক্রমণে প্রাণ হারায় আট বছর বয়সী ফাতেমা। শিশুটি দিঘির মহিলা ঘাটে গোসল বা হাতমুখ ধুতে নেমেছিল, তখন কুমিরটি তার উপর আক্রমণ করে টেনে নিয়ে যায়। পরদিন ভোরে শিশুটির মরদেহ পানিতে ভেসে উঠলে উদ্ধার করা হয়।
এরপর মঙ্গলবার রাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রাণীটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্থানীয় প্রশাসন।
বুধবার দুপুরে দিঘির পূর্ব পাড়ের বীনা বেগমের ঘাট থেকে কুমিরটিকে খাবারের প্রলোভন দিয়ে বনবিভাগের একটি দল ধরে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে যায়। পরে কুমিরকে গাড়িতে তুলে খুলনায় রওনা হয় বন বিভাগ।
তবে মাজারের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য কুমিরটি হঠাৎ করে সরিয়ে নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মাজার কর্তৃপক্ষ।
তারা বলছে, কুমির থেকে সবাইকে কীভাবে নিরাপত্তা দেওয়া যায়, তা নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হচ্ছিল। এখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়াতে আটজন নিরাপত্তা প্রহরী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রশাসন কুমিরটি তুলে নিয়ে যাওয়ায় তারা কাজটি ভাল করেনি।
দর্শনার্থী দবিরুল ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, কুমির মাজারের একটি ঐতিহ্য। কুমির না থাকলে ঐতিহ্য থাকবে না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভাল করে এখানে রাখা উচিত।
অন্য দর্শনার্থীরা বলেন, মাজারে ঘুরতে এসে শুনি দীঘিতে কুমির নাই। তাই গোসল করতে নামলাম। ভয়হীনভাবে দীঘিতে গোসল করতে পেরে ভাল লাগল।
খানজাহান আলী মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, “মাজারের দীঘিতে সম্প্রতি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এজন্য আমরা ব্যথিত। এখানে আসা হাজার হাজার দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন। এর মধ্যে প্রশাসন জরুরি সভা করে কুমিটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
“ঐতিহাসিক খানজাহান আলী মাজারের ইতিহাস সাড়ে পাঁচশ বছরের। মাজারে দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য কুমির। আমাদের ভুল ত্রুটি হতে পারে। তবে প্রশাসন যেভাবে কুমিরটি ধরে নিয়ে গেছে, তা আমরা চাইনি। প্রশাসন কাজটি ভাল করেনি।”
ধরে নিয়ে যাওয়া কুমিরটি অবিলম্বে ফিরিয়ে দিতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান মাজারের প্রধান খাদেম।
জননিরাপত্তার স্বার্থে মাজারের কুমিরটি সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় জানিয়ে ইউএনও আতিয়া খাতুন বলেন, “খুলনার কয়রার বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও পূনর্বাসন কেন্দ্রে কুমিরটিকে উদ্ধার করে বনবিভাগ নিয়ে গেছে। কুমিরটিকে ভবিষ্যতে কী করা হবে তা পরে জানানো হবে।”
সরানো হলো খানজাহান আলী মাজার দিঘির কুমির, রাখা হবে খুলনায়
খানজাহান আলী মাজার দিঘির কুমির সরিয়ে নেওয়া হবে