Published : 02 Jun 2026, 10:22 AM
বাগেরহাটের হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার-সংলগ্ন দিঘিতে কুমিরে টেনে নিয়ে যাওয়া শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে দিঘির পূর্ব পাড় থেকে মরদেহটি উদ্ধার হয় বলে জানিয়েছেন মাজারের খাদেম ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ফকির তারিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ভোরে পূর্ব পাড়ে শিশুটির লাশ ভেসে ওঠে। পরে নৌকা নিয়ে উদ্ধারকারীরা মরদেহটি উদ্ধার করে।
নিহত শিশু ফাতেমার বয়স আনুমানিক ৭ বছর। সোমবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দিঘির মহিলা ঘাট থেকে শিশুটিকে টেনে নিয়ে যায় কুমির।
ফাতেমা মাজার এলাকায় ভবঘুরে হিসেবে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারীর মেয়ে। তার বাবা নেই। তাদের সম্পর্কে এর বেশি কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ ও মাজার সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে মাজারের ওই দিঘিতে একটি মাত্র কুমির আছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শিশুটি গোসল করতে অথবা হাত-পা ধুতে দিঘির ঘাটে নেমেছিল। তখন দিঘির পানিতে লুকিয়ে থাকা কুমির তার উপর আক্রমণ করে টেনে নিয়ে যায়।
তখন ওই শিশু এবং ঘাটে থাকা অন্যদের ডাক চিৎকারে আশপাশের মানুষ টের পায়। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা নৌকা নিয়ে শিশুটির খোঁজে দিঘিতে তল্লাশি শুরু করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত হন।
ঘটনার পর বাগেরহাট সদর আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ, জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং তারা উদ্ধার অভিযান তদারকি করেন। তবে রাত পর্যন্ত শিশুটি কোন সন্ধান মেলেনি।
মাজারের খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটির শরীরে কুমিরের কামড়ের দাগ রয়েছে, তবে দৃশ্যমান কোনো অঙ্গহানি হয়নি। মরদেহটি মহিলা ঘাটের কাছে রাখা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে মরদেহ দাফন ও পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।
আগের সংবাদ