Published : 30 Jun 2026, 01:52 PM
যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর সড়কে বসানো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্যামেরায় নজরদারির মাধ্যমে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত দায়ের করা দেড় হাজার মামলার তথ্য দিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ।
এদিকে গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনসহ নানান জটিলতায় মামলা সমাধান না হওয়ায় ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ থেকে জারি হওয়া অন্তত ৩৮ হাজার সমন 'ঝুলে রয়েছে' বলেও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান সংলগ্ন লেক রোডে এআই ক্যামেরায় ট্রাফিক মামলা ও যানবাহন মনিটরিং কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেছেন।
ঢাকার মোহাম্মদপুরে ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগ কার্যালয়ে এদিন তিনি চারটি ক্রসিংয়ে এআই ক্যামেরার মাধ্যমে মামলা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ডিএমপি কমিশনার।
তিনি বলেন, "রাজধানীতে এই মুহূর্তে আমাদের ১৫ টি ইন্টারসেকশনে এআই ক্যামেরা বসানো আছে। তার সাথে আজকে আমাদের সংযুক্ত হলো আরো ৪ টি। এই সর্বমোট ১৯ টি ইন্টারসেকশনে আমরা এআই ক্যামেরা চালু করেছি এবং অন্যান্য জাংশন গুলোতে এআই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান।"
সড়কে গাড়ি থামিয়ে আইন অমান্যকারীদের ‘ঝামেলা এড়াতে’ ক্যামেরাভিত্তিক মামলার প্রক্রিয়ায় চালু করে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।
ডিএমপি সদর দপ্তরে গত ২৯ এপ্রিল আইজিপি আলী হোসেন ফকির এ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

এরপর ৩ মে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকদের ‘ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ট্রাফিক মামলার’ বিষয়ে সতর্ক করা হয়। কয়েকদিন পরীক্ষামূলকভাবে চলার পর ৭ মে থেকে নির্ধারিত পয়েন্টগুলোতে এই স্বয়ংক্রিয় মামলা কার্যক্রম শুরু করে পুলিশ।
এআই ক্যামেরা চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত নতুন এই প্রযুক্তিতে প্রায় দুই মাসে দেড় হাজার মামলা করার তথ্য দিলেন ডিএমপি কমিশনার।
একইসঙ্গে ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের দেওয়া এই 'ডিজিটাল মামলার' কপি বর্তমানে ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের জটিলতায় কিছু ক্ষেত্রে যানবাহনের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মামলার কাগজ পূর্বের মালিকের কাছে চলে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, "আসলে এই সমনের যে সংখ্যাটা, এটাতো প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এই পর্যন্ত আমাদের কাছে যে হিসাব আছে সেখানে ৩৮ হাজার সমন পেন্ডিং আছে।"
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বিষয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের একার পক্ষে এই অটোরিকশা এখনই রাস্তা থেকে তুলে দেওয়া সম্ভব নয়।
“সেই ক্ষেত্রে আমরা মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডার যারা আছে, তাদের সাথে সমন্বয়ের মাধ্যমে এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছি।"
এর আগে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সুষ্ঠ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিং ও দুর্ঘটনাপ্রবণ পয়েন্টগুলোতে এআই ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
"ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এক অভূতপূর্ব ও দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে। এটি চালকদের মধ্যে নির্দিষ্ট লেনে থাকার এবং সিগনাল মেনে চলার একটি ইতিবাচক প্রবণতা তৈরি করেছে।"
তার ভাষ্য, ডাইভারসন এবং আধুনিক সিগনাল লাইট চালুর এই সমন্বয় ঢাকাকে একটি আধুনিক ও স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের প্রাথমিক ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এই ধারা বজায় রাখতে এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে আরো কঠোর ও প্রযুক্তি নির্ভর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
লেক রোডে এআই ক্যামেরা চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, "গতিসীমা লঙ্ঘন করলে, বিপদজনকভাবে লেন পরিবর্তন করলে, চালক এবং আরোহী হেলমেট বিহীন মোটরসাইকেল চালনা করলে, অবৈধ পার্কিং এবং যানবাহন চলাচলের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে এআই ক্যামেরা স্বয়ংক্রিয় নিখুঁতভাবে শনাক্ত করবে এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে মামলা রুজু হবে। যা চালক এবং মালিক পক্ষ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করবেন।"
আরও পড়ুন-
ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরা
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরা: কীভাবে কাজ করছে, জটিলতা কোথায়?