Published : 05 Jun 2026, 12:40 AM
দুই বছরের বেশি সময় পর টেস্টে ফেরার দিনটা আগুনে বোলিংয়ে রাঙালেন কাইল জেমিসন। দারুণ বোলিংয়ে তাকে সঙ্গ দিলেন ন্যাথান স্মিথ ও উইল ও’রোক। তাতে দেড়শর আগেই গুটিয়ে গেল ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। জবাব দিতে নেমে স্বস্তিতে নেই নিউ জিল্যান্ডও। অলি বরিনসনের অসাধারণ বোলিংয়ে ওই রান নিয়েই প্রথম ইনিংসে লিড নেওয়ার আশা জাগিয়েছে বেন স্টোকসের দল।
লর্ডস টেস্টের প্রথম দিন ৩৯.৪ ওভার ব্যাট করে ১৪০ রানে গুটিয়ে যায় ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। দেশের মাটিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে কোনো টেস্টে প্রথম ইনিংসে এটাই তাদের সর্বনিম্ন।
জবাব দিতে নেমে বৃহস্পতিবার ৬ উইকেটে ৬১ রানে দিন শেষ করেছে নিউ জিল্যান্ড। গ্লেন ফিলিপস ৩১ ও স্মিথ ৬ রানে ব্যাট করছেন।
এখনও ৭৯ রানে পিছিয়ে রয়েছে সফরকারীরা।
প্রথম দিন বারবার বাগড়া দিয়েছে বৃষ্টি। সহায়ক কন্ডিশন পেয়ে ব্যাটসম্যানদের কঠিন পরীক্ষা নিয়েছেন দুই দলের পেসাররা। ৬২ রানে পাঁচ উইকেট নিয়েছেন নিউ জিল্যান্ডের জেমিসন। স্রেফ ১০ রানে চার উইকেট নিয়েছেন ইংল্যান্ডের অলি রবিনসন।
গত অ্যাশেজের ব্যর্থতা ভুলে নতুন শুরুর দিকে তাকিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। টস হেরে ব্যাটিং পেয়ে সেই পথে হাঁটতে পারল না তারা। বরং নিদারুণ ব্যর্থতায় গুটিয়ে গেল ৪০ ওভারের ভেতর।
ইতালির হয়ে তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলা এমিলিওর টেস্ট অভিষেক হলো ইংল্যান্ডের হয়ে। দুটি চার মেরেই থেমে গেলেন তিনি। তাকে ফিরিয়েই উইকেট শিকার শুরু করলেন জেমিসন।
ইংল্যান্ড ইনিংসের দশম ওভার শেষে বৃষ্টির বাগড়ায় লম্বা সময় খেলা বন্ধ থাকে। ফের খেলা শুরু হতে না হতে বিদায় নেন ওপেনার বেন ডাকেট।
পরপর দুই ওভারে জ্যাকব বেথেল ও জো রুটকে ফিরিয়ে দেন ও’রোক। ইংল্যান্ডের বিপদ আরও বাড়তে পারত। কিন্তু পয়েন্টে হ্যারি ব্রুকের ক্যাচ নিতে পারেননি ডেভন কনওয়ে। ৮ রানে বেঁচে গিয়ে দলকে টানেন ব্রুক।
মিডল অর্ডারে ছোবল দেন জেমিসন। জেমি স্মিথ, স্টোকস, অ্যাটকিনসন, রবিনসনকে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারে ষষ্ঠবার নেন ৫ উইকেট।
৪৬ রানে রাচিন রাভিন্দ্রার হাতে ফের জীবন পেয়ে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ব্রুক। ন্যাথান স্মিথকে ছক্কায় ওড়ানোর চেষ্টায় তিনি থামেন ৫৬ রানে। তার ৭১ বলের ইনিংস গড়া ১০ চারে।
১১৮ রানে ইংল্যান্ড ৯ উইকেট হারানোর বৃষ্টির বাগড়ায় ফের খেলা বন্ধ হয়। আগেভাগেই নেওয়া চা-বিরতি শেষ হওয়ার পর খেলা শুরু হলে দলকে ১৪০ পর্যন্ত নিয়ে যায় শেষ দুই ব্যাটসম্যানের জুটি। শোয়েব বাশিরকে ফিরিয়ে স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংসের ইতি টানেন স্মিথ।
৩৮ রানে ৩ উইকেট নেন স্মিথ। ২৫ রানে ও’রোকের শিকার ২ উইকেট।
ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা একদমই ভালো হয়নি নিউ জিল্যান্ডের। দ্বিতীয় ওভারে চার বলের মধ্যে কনওয়ে, কেন উইলিয়ামসন ও রাভিন্দ্রাকে বিদায় করেন রবিনসন। এলবিডব্লিউ হন কনওয়ে ও রাভিন্দ্রা। শর্ট লেগে ধরা পড়েন নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটিং ভরসা উইলিয়ামসন।
২ রানে ৩ উইকেট হারানো নিউ জিল্যান্ডকে টানতে পারেননি অধিনায়ক টম ল্যাথাম। গাস অ্যাটকিনসনের বলের লাইন মিস করে এলবডব্লিউ হন তিনি। দলের রান তখন কেবল ১২।
রবিনসনের বল ছেড়ে দিয়ে বোল্ড হন মিচেল! দারুণ ডেলিভারিতে টম ব্লান্ডেলকে বোল্ড করে টেস্টে নিজের পঞ্চাশতম উইকেট নেন জশ টং।
২৯ রানে ৬ উইকেট হারানো নিউ জিল্যান্ডকে টানছেন ফিলিপস। পাল্টা আক্রমণে স্মিথের সঙ্গে তিনি গড়েছেন ৩২ রানের জুটি।
এই ম্যাচ দিয়ে দারুণ এক মাইলফলক স্পর্শ করলেন রড টাকার। মাত্র চতুর্থ আম্পায়ার হিসেবে একশ টেস্টে আম্পায়ারিংয়ের কীর্তি গড়লেন এই আম্পায়ার। উপলক্ষ রাঙিয়ে রাখতে ম্যাচের আগে তাকে ক্রিস্টালের একটি ট্রফি উপহার দেয় আইসিসি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৩৯.৪ ওভারে ১৪০ (ডাকেট ১৯, গে ৮, বেথেল ৬, রুট ১, ব্রুক ৫৬, স্মিথ ১, স্টোকস ১২, আটকিনসন ৪, রবিনসন ১, টং ১০*, বাশির ১৪; হেনরি ৪-১-৮-০, জেমিসন ১৪-০-৬২-৫, স্মিথ ১৪.৪-১-৩৮-৩, ও’রোক ১১-৩-২৫-২)
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৯.২ ওভারে ৬১/৬ (ল্যাথাম ৩, কনওয়ে ১, উইলিয়িামসন ০, রাভিন্দ্রা ০, মিচেল ১২, ব্লান্ডেল ৪, ফিলিপস ৩১*, স্মিথ ৬*; আটকিনসন ৪-০-৮-১, রবিনসন ৬-৩-১০-৪, টং ৬-০-২২-১, স্টোকস ৩.২-০-১৮-০)