Published : 24 Dec 2025, 11:52 AM
কমবেশি আমরা সবাই মাঝেমধ্যে গালিগালাজ করি। যেমন পায়ের আঙুলে চোট পেলে, রাস্তায় চলাচলের সময় কেউ হুট করে সামনে চলে এলে বা আমরা খুব বিরক্ত বোধ করলেও গালি দিই।
উত্তেজনা বা রাগের মুহূর্তে মুখ দিয়ে দু-একটা গালি বের হয়ে গেলে অনেক সময় বেশ হালকা লাগে। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, গালিগালাজ করা কেবল মনের ক্ষোভ উগরে দিতেই সাহায্য করে না, বরং আমাদের শারীরিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।
গবেষক ড. রিচার্ড স্টিফেনসের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের ‘কিল ইউনিভার্সিটি’র এক গবেষণায় উঠে এসেছে, মানুষের শারীরিক কার্যকলাপের সক্ষমতা বাড়িয়ে দিতে পারে গালিগালাজ।
এ গালিগালাজের ফল মেলে বিশেষ কিছু কাজের সময়। এর মধ্যে চেয়ার পুশ-আপ করার সময় নিজের শরীরের ভার ধরে রাখা বা বরফ-শীতল পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখার মতো বিষয় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট নোরিজ।
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘আমেরিকান সাইকোলজিস্ট’-এ। গবেষণায় উঠে এসেছে, গালিগালাজ মানুষকে মানসিক বাধা কাটিয়ে উঠতে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে সাহায্য করে।
বিষয়টি কীভাবে কাজ করে?
গবেষকরা বলছেন, শারীরিক পরিশ্রমের সময় অনেক মানুষ নিজেদের কিছুটা গুটিয়ে রাখেন, যা কখনো কখনো তারা নিজেরাও বুঝতে পারেন না।
গালিগালাজ মানুষকে আরও আত্মবিশ্বাসী ও মনোযোগী করে তোলার মাধ্যমে এসব সীমাবদ্ধতা ভাঙতে সাহায্য করে।
ড. স্টিফেনস বলেছেন, গালিগালাজ মানুষকে সামাজিক নিয়মকানুন ও মানসিক দ্বিধাদ্বন্দ্ব ঝেড়ে ফেলতে সাহায্য করে। বিষয়টি তাদের এমন অবস্থায় নিয়ে যায়, যেখানে আরও বেশি পরিশ্রম বা প্রচেষ্টা দিতে প্রস্তুত থাকেন মানুষ।
বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য ১৯২ জন অংশগ্রহণকারীকে নিয়ে দুটি পরীক্ষা চালিয়েছে গবেষণা দলটি। প্রতিটি পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের বলা হয়েছিল চেয়ার পুশ-আপের সময় প্রতি দুই সেকেন্ড অন্তর একটি গালি বা সাধারণ শব্দ, যেমন ‘গাছ’ বা ‘চেয়ার’ উচ্চারণ করতে। ব্যায়াম শেষ হওয়ার পর গবেষকরা অংশগ্রহণকারীদের কাছে জানতে চেয়েছেন, এ কাজ করার সময় মানসিকভাবে কেমন বোধ করছিলেন তারা।
এসব প্রশ্ন মানুষের এমন কিছু অনুভূতির ওপর নির্ভর করে গবেষকরা বরেছেন, যা দেখে ইঙ্গিত মেলে, তারা কতটা স্বস্তিতে আছেন বা কতটা কম দ্বিধা বোধ করছেন। যেমন তারা কি আনন্দিত, আত্মবিশ্বাসী নাকি কাজে মনোযোগী বোধ করছেন।
গবেষকরা ‘ফ্লো’ নামের এক অবস্থাও পরিমাপ করেছিলেন, এমন পরিস্থিতিতে মানুষজন পুরোপুরি নিজেদের কাজে ডুবে থাকেন। যেমন– একজন ক্রীড়াবিদ খেলার মধ্যে সম্পূর্ণ মিশে যান, যাকে বলে ‘ইন দ্য জোন’।
গবেষণার ফলাফল একেবারে স্পষ্ট। যারা ব্যায়ামের সময় গালি দিচ্ছিলেন, সাধারণ শব্দ উচ্চারণকারীদের তুলনায় তারা বেশিক্ষণ চেয়ার পুশ-আপের ভঙ্গি ধরে রাখতে পেরেছিলেন। কেবল বেশি শক্তিই অনুভব করেননি তারা, বরং অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও মনোযোগী ছিলেন এবং তাদের মনোযোগও খুব একটা বিচ্যুত হয়নি।
গবেষকরা যখন তাদের এ নতুন প্রাপ্ত তথ্যের সঙ্গে আগের গবেষণার তথ্য মিলিয়ে দেখেন তখন দেখা গেছে, গালিগালাজ মানুষকে ‘ফ্লো’ বা কাজে পুরোপুরি ডুবে থাকা অবস্থায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছে ও তাদের মানসিক প্রস্তুতি বা ক্ষিপ্রতা বাড়িয়েছে।
গবেষণার ফলাফল থেকে ইঙ্গিত মেলে, গালিগালাজ করা কেবল অভ্যাসের বিষয় নয়, এটি হতে পারে দরকারি এক কৌশল, বিশেষ করে যখন আপনার অতিরিক্ত পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। যেমন ব্যায়াম করার সময় বা কোনো মানসিক চাপের পরিস্থিতিতে।
ড. স্টিফেনস একে কার্যসক্ষমতা বাড়ানোর ‘ক্যালোরি-মুক্ত, ওষুধ-মুক্ত ও সাশ্রয়ী’ উপায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের সাহায্যের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
গবেষক দলটি এখন দেখতে চাইছেন মানুষ যখন নার্ভাস বা ইতস্তত বোধ করেন গালিগালাজ সে সময়েও সাহায্য করে কি না।