Published : 21 Aug 2025, 06:05 PM
রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা নিয়ে হোয়াইট হাউসের চাপের মুখে রয়েছে ভারত। এদিকে আবার ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক বর্তমানে ভালোই চলছে, যা নিয়ে অস্বস্তিতে হোয়াইট হাউস।
এই ত্রিকোণ টানাপড়েনের মধ্যেই অ্যাপল ভারতে আইফোন উৎপাদন বাড়াচ্ছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
মঙ্গলবার সিএনবিসি’র ‘স্কোয়াক বক্স’ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছে, “ভারতের ওপর শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছি আমরা, যা দ্বিতীয় ধাপের শুল্ক। কারণ ভারত রাশিয়া থেকে যে তেল কিনছে, সেই তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ফলে ভারতকে বাড়তি কর বা শুল্ক দিতে হবে।”
ভারতের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বেসেন্ট বলেছেন, ভারত রাশিয়া থেকে কম দামে তেল কিনে তারপর সেই তেল প্রক্রিয়াজাত করে বা সরাসরি অন্য দেশে বিক্রি করে লাভ করছে, বিশেষ করে ইউক্রেইন যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে এমনটি করছে, যা একেবারেই ‘মেনে নেওয়া যায় না’।
এ মাসের শুরুতে ভারতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জুলাইয়ে বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তিচুক্তি না হয় তবে রাশিয়ার বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর দ্বিতীয় দফায় ‘প্রায় একশ শতাংশ’ পর্যন্ত বাড়তি শুল্ক আরোপ করা হবে।
ভারতের ওপর শুল্ক বাড়ানো ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের টানাপড়েনের মধ্যেই মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, নতুন আইফোন ১৭ মডেল বাজারে আনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভারতে নিজেদের পাঁচটি কারখানায় উৎপাদন বাড়িয়েছে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপল।
ব্লুমবার্গ প্রতিবেদনে লিখেছে, অ্যাপল যে ভারতে উৎপাদন বাড়াচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে টাটা গ্রুপ ও চুক্তিভিত্তিক ইলেকট্রনিক্স নির্মাতা ফক্সকন টেকনোলজির কিছু নতুন প্ল্যান্ট ও কারখানা। পাশাপাশি আগামী বছরে ভারতে নতুন এক আইফোন ১৭ই তৈরি করার কথাও ভাবছে কোম্পানিটি।
তবে এ বিষয়ে সিএনবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি অ্যাপল।
সিএনবিসি লিখেছে, গত কয়েক বছরে চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে নিজেদের উৎপাদনের অনেক অংশ ভারতে সরিয়ে এনেছে অ্যাপল, বিশেষ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য উত্তেজনার কারণে ভিন্ন জায়গায় নির্ভরতা রাখতে চাইছে কোম্পানিটি।
প্রযুক্তি বাজার বিশ্লেষক কোম্পানি ক্যানালিস-এর তথ্য বলছে, মে মাসে ভারতে তৈরি আইফোন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর পরিমাণ ৭৬ শতাংশ বেড়েছে, কারণ বাণিজ্য সম্পর্কিত কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আসতে পারে এই ভেবে আগে থেকেই বেশি শিপমেন্ট করেছে অ্যাপল।
একই সময়ে আগামী চার বছরে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়াতে ৬০ হাজার কোটি ডলারের বেশি বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কুপারটিনোভিত্তিক মার্কিন কোম্পানিটি।
সিএনবিসি লিখেছে, এ বাড়তি বিনিয়োগের অংশ হিসেবে অ্যাপল এ মাসেই ১০ হাজার কোটি ডলার খরচ বাড়াচ্ছে, যার মধ্যে কোম্পানিটি আড়াইশ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে আইফোনের গ্লাস নির্মাতা কর্নিংয়ে নিজেদের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য।
যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগের এ প্রতিশ্রুতি অ্যাপলকে ভারতের শুল্ক সমস্যার বাইরে রাখবে।