Published : 28 Sep 2025, 07:34 PM
আইফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনেকেই তাদের ছবি আইক্লাউডে ব্যাকআপ রাখেন। এতে, নিরাপত্তার দিক দিয়ে অন্যদের চেয়ে তারা অনেকটাই এগিয়ে থাকেন। কারণ ফোনে কোনো সমস্যা হলে অনলাইনে থাকা ছবি সহজেই ফেরত আনা যায়। তবে এটিই একমাত্র সমাধান হওয়া উচিত নয়। কারণ ক্লাউডে রাখা ছবি অনেক সহজেই হারিয়ে যেতে পারে। যেমন, কোনো একটি অ্যাপল ডিভাইস থেকে সিংক করা ছবি মুছে ফেললে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইক্লাউড থেকেও মুছে যায়।
এই ঝুঁকির কারণেই বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছবির আরেকটি কপি রাখা দরকার বিশেষ করে অফলাইনে, কিন্তু অ্যাপল সেটি খুব সহজে করে দেয় না। তাই ভিন্ন উপায় হিসেবে আইক্লাউড থেকে ছবিগুলো এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভে নিতে হয়। এ ছাড়া আইক্লাউডের ছবি ব্যাকআপ করার আরও বেশকিছু উপায় রয়েছে।
অ্যাপলের অফিসিয়াল উপায়
প্রযুক্তি সাইট লাইফহ্যাকার লিখেছে, ছবি ব্যাকআপের প্রথম ও অফিসিয়াল উপায় হলো অ্যাপলের নিজস্ব সিস্টেম। এখানে দুটি পথ খোলা থাকে, আইক্লাউড ডটকম থেকে সরাসরি ছবি ডাউনলোড করা অথবা অ্যাপলের ডেটা প্রাইভেসি পেইজ থেকে ছবির কপি চাওয়া।
আইক্লাউড থেকে ডাউনলোড করলে সঙ্গে সঙ্গেই ব্যাকআপ পাওয়া যায়। তবে সমস্যাও আছে, একসঙ্গে সর্বোচ্চ এক হাজার ছবি ডাউনলোড করা যায় আর নেটওয়ার্ক সমস্যা থাকলে অনেক সময় ডাউনলোড আটকে যায়। অন্যদিকে, অ্যাপলের কাছে সব ছবির কপি চাইলে অপেক্ষা করতে হতে পারে এক সপ্তাহ পর্যন্ত।
এটি করতে চাইলে-
১. অ্যাপলের ‘ডেটা অ্যান্ড প্রাইভেসি’ ওয়েবসাইটে গিয়ে অ্যাকাউন্ট দিয়ে সাইন ইন করতে হবে।
২. ‘রিকোয়েস্ট এ কপি অফ ইওর ডেটা’-তে ক্লিক করতে হবে।
৩. তালিকা থেকে ‘আইক্লাউড ফটোজ’ বেছে নিয়ে ‘কন্টিনিউ’ চাপতে হবে।
৪. এরপর ব্যাকআপ ফাইলের সাইজ ঠিক করতে হবে। এক জিবি নিলে বেশি সংখ্যক ফাইল ডাউনলোড করতে হবে। ২৫ জিবি বেছে নিলে কম ফাইল লাগবে তবে প্রতিটি ফাইল অনেক বড় হবে।
৫. সব ঠিক হলে ‘কমপ্লিট রিকোয়েস্ট’ ক্লিক করতে হবে।
এরপর অ্যাপল একটি কনফার্মেশন ইমেইল পাঠাবে। সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের মধ্যে ডাউনলোড লিংক দেওয়া হবে। লিংক আসার পর ছবি ও ভিডিও সরাসরি এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভে নামানো যাবে। তবে নতুন ছবিগুলো নিয়মিত নিতে হলে প্রতিবারই ম্যানুয়ালি ডাউনলোড করতে হবে।
থার্ড-পার্টি ম্যাক অ্যাপ
যারা অপেক্ষা করতে চান না, তারা ব্যবহার করতে পারেন থার্ড-পার্টি অ্যাপ। এর মধ্যে জনপ্রিয় একটি হলো ‘প্যারাসুট ব্যাকআপ’ যার দাম পাঁচ ডলার। এটি আইক্লাউড ফটোস এবং আইক্লাউড ড্রাইভ ফাইল সরাসরি ম্যাক, এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভ বা নেটওয়ার্ক স্টোরেজে ব্যাকআপ করতে পারে।
অ্যাপটি সহজে ব্যবহার করা যায় এবং এতে রয়েছে ইনক্রিমেন্টাল ব্যাকআপ। ফলে নতুন ছবি তোলার পর সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যাকআপ হয়ে যাবে, আগের ছবিগুলো আবার নামাতে হবে না। চাইলে পুরো ডেটার ফুল ব্যাকআপও নেওয়া যায়।
ব্যবহার পদ্ধতি হলো, অ্যাপ চালু করলে ‘আইক্লাউড ড্রাইভ’ এবং ‘আইক্লাউড ফটোস’ দুটি সেকশন দেখা যায়। আইক্লাউড ফটোস-এর নিচে অথোরাইজড চাপতে হয়, এরপর অনুমতি দিতে হয়, তারপর ‘রান ব্যাকআপ নাও’ ক্লিক করতে হয়। চাইলে শিডিউলও সেট করা যায়, যাতে নির্দিষ্ট সময়ে নিজ থেকেই ব্যাকআপ হয়।
আইফোন অ্যাপের সুবিধা
শুধু ম্যাক নয়, মোবাইল ব্যবহারকারীদের জন্যও আছে সমাধান। ‘ব্যাকিগো’ নামের একটি আইফোন অ্যাপ আইক্লাউড থেকে ছবি এনে এক্সটার্নাল হার্ড ড্রাইভে সংরক্ষণ করতে পারে। ব্যবহারকারীরা চাইলে আইফোনের ইউএসবি সি পোর্টে সরাসরি ড্রাইভ যুক্ত করতে পারেন অথবা ফাইলস অ্যাপে নেটওয়ার্ক স্টোরেজ যোগ করে ব্যাকিগো দিয়ে সেখানেও ছবি রাখতে পারেন।
অ্যাপটি বেশ কার্যকরভাবে আইক্লাউড ছবি এক্সটার্নাল ড্রাইভে নিতে পারে। অনেক ব্যবহারকারী এটি দিয়ে ছবি ব্যাকআপ করার পর ফোন থেকে ছবি মুছে দিয়ে জায়গা খালি করেন।
ডিফল্টভাবে এখানে ইনক্রিমেন্টাল ব্যাকআপ চালু থাকে। প্রথমবার সব ছবি নেওয়ার পর পরবর্তীতে শুধু নতুন ছবিগুলো কপি হয়। ব্যাকিগো শুরুতে বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায় এবং পাঁচশ ছবি পর্যন্ত ব্যাকআপ নেওয়া যায়। এরপর তিনটি অপশন আসে- মাসে এক ডলার, বছরে সাত ডলার, অথবা একবারে ১৫ ডলার দিয়ে সব ফিচার আনলক করা।