Published : 11 Jul 2025, 11:34 AM
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বাজেট কাটছাঁটের কারণে দুই হাজারেও বেশি জ্যেষ্ঠ কর্মী হারাতে পারে যুক্তরাষ্টের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।
আমেরিকান গণমাধ্যম পলিটিকো প্রতিবেদনে লিখেছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট কাটছাঁটের কারণে যে চাপ তৈরি হবে তাতে কম করে হলেও দুই হাজার একশ ৪৫ জন সিনিয়র কর্মীকে হারাতে যাচ্ছে নাসা। এই মেধা ক্ষয় ভবিষ্যতের গবেষণা ও মহাকাশ মিশনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এ শূন্যতা এমন এক সময় তৈরি হচ্ছে যখন ২০২৬ সালে নতুন একদল নভোচারীকে চাঁদে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি।
দুই হাজারেরও বেশি কর্মীর মধ্যে প্রায় সকলেই অভিজ্ঞ এবং জ্যেষ্ঠ পদে রয়েছেন, যাদের বিশেষ দক্ষতা বা ব্যবস্থাপনা অভিজ্ঞতা আছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট।
পলিটিকো প্রতিবেদনে লিখেছে, “যারা চলে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে এক হাজার আটশ ১৮ জন কর্মী বিজ্ঞান বা মানব নভোচারি উৎক্ষেপণের মতো মিশনে কাজ করছেন। বাকি কর্মীরা নাসার আইটি, ব্যবস্থাপনা বা অর্থায়নের মতো কাজে ভূমিকা রাখছেন।
সংস্থাটির আঞ্চলিক বিভিন্ন কেন্দ্রের কর্মীরাও চলে যাচ্ছেন, যার মধ্যে রয়েছেন ‘কেনেডি স্পেস সেন্টার’-এর তিনশ ১১ জন ও ‘জনসন স্পেস সেন্টার’-এর ৩৬৬ জন কর্মী। নাসার বিভিন্ন মিশন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এসব কেন্দ্র।
‘কেনেডি স্পেস সেন্টার’ হচ্ছে নাসার প্রধান রকেট উৎক্ষেপণ স্থান। আর, মানব মহাকাশ ফ্লাইট অপারেশনের জন্য ‘হোম বেইস’ বা ভিত্তি হিসাবে কাজ করে ‘জনসন স্পেস সেন্টার’।
পলিটিকো লিখেছে, এই স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার ঘটনা হোয়াইট হাউসের বাজেটে প্রস্তাবিত কর্মী ছাঁটাইয়ের কেবল অর্ধেক। ২০২৫ সালের জন্য নাসার বাজেট থেকে ছয়শ কোটি ডলারেরও বেশি কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন, যা নাসার অনেক ভবিষ্যৎ মিশন ও গবেষণা প্রকল্পকে বিপদের মুখে ফেলতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে চাঁদের কক্ষপথে বসতে যাওয়া ‘গেটওয়ে’ স্টেশনও।
কংগ্রেসের পক্ষে এখনও এ প্রস্তাবিত বাজেটে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব। তবে বর্তমান কর্মী হারানোর বিষয়টি পুরোপুরি স্বেচ্ছায় হওয়ায় কিছুটা ক্ষতি এরইমধ্যে হয়ে গিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট।
তবে বর্তমানে বাণিজ্যিক মহাকাশ মিশনের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে অভিজ্ঞ সাবেক নাসা কর্মীদের জন্য নতুন কাজের অনেক সুযোগও রয়েছে।