Published : 10 Jul 2026, 04:27 PM
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর এই প্রথম নিজেদের সর্বশেষ ও শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল উন্মোচন করেছে ইলন মাস্কের কোম্পানি স্পেসএক্সএআই।
বুধবার প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে ‘গ্রক ৪.৫’ নামের এ মডেলটিকে সক্ষম ও কঠোর পরিশ্রমী ‘ওয়ার্কহর্স’ হিসেবে বর্ণনা করেছে কোম্পানিটি।
স্পেসএক্সএআইয়ের দাবি, এআই শিল্প যেসব দৈনন্দিন ও রুটিনমাফিক কাজকে স্বয়ংক্রিয় করতে চায় তার সবকটিই এ মডেলটি অনায়াসে করতে পারবে। যার মধ্যে রয়েছে কোডিং ও অ্যাপ তৈরি, দাপ্তরিক ও কেরানির কাজ, গবেষণা, লেখালেখি ও অন্যান্য সাধারণ জ্ঞানভিত্তিক কাজ।
কোম্পানিটি বলেছে, গ্রকের মাধ্যমে এসব কাজ করতে খরচও পড়বে কম। তাদের এ নতুন মডেলটিতে অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় মডেলের চেয়ে ‘দ্বিগুণ টোকেন সক্ষমতা’ রয়েছে।
প্রযুক্তি সংবাদের সাইট টেকক্রাঞ্চ প্রতিবেদনে লিখেছে, বাস্তব ক্ষেত্রে মডেলটির এমন কার্যকারিতা থাকলে তা কোম্পানিটির জন্য বড় সুবিধা হিসেবে কাজ করবে। কারণ বর্তমানে এআই ব্যবহারকারীদের জন্য দিন দিন টোকেনের ক্রমাগত খরচ বড় উদ্বেগের বিষয়।
কোম্পানিটির প্রকাশিত বেশ কিছু বেঞ্চমার্ক বা মানদণ্ডের তথ্যে দেখা গেছে, ‘গ্রক ৪.৫’ এর শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী অন্যান্য এআই মডেলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সম্ভবনা রয়েছে। তবে মডেলটি ‘সেরাদের সেরা’ এআই অবস্থান থেকে পিছিয়ে রয়েছে।
নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে নতুন এ মডেলটিকে অ্যানথ্রপিকের ‘ওপাস’ মডেলের সঙ্গে তুলনা করেছেন স্পেসএক্সএআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক। ওপাস এআই মডেল জটিল ও নিবিড় বিভিন্ন কাজের জন্য বিশেষভাবে ডিজাইন করেছে অ্যানথ্রপিক।
এক্স পোস্টে মাস্ক লিখেছেন, “আমাদের বিটা টেস্ট প্রোগ্রামে গ্রাহকদের কাছ থেকে পাওয়া দারুণ ইতিবাচক সাড়াকে ভিত্তি করে স্পেসএক্সএআই আগামীকালই ‘গ্রক ৪.৫’ সবার জন্য চালু করতে যাচ্ছে, যা ওপাস-স্তরের মডেল। তবে এটি আরও দ্রুতগতিওয়ালা, টোকেন-সাশ্রয়ী ও খরচও কম।
“আমাদের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুসারে, গ্রক ৪.৫ কার্যসক্ষমতার দিক থেকে অনেকটাই ‘ওপাস ৪.৭’-এর সমান। তবে গতিতে অনেক এগিয়ে। সক্ষমতা, দ্রুত গতি ও কম খরচের এ চমৎকার সংমিশ্রণই মডেলটিকে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।”
স্পেসএক্সএআই বলেছে, তাদের নতুন এ মডেলটিতে প্রতি ১০ লাখ ইনপুট টোকেনের জন্য খরচ হবে ২ ডলার ও প্রতি ১০ লাখ আউটপুট টোকেনের জন্য খরচ হবে ৬ ডলার।
গ্রকের কার্যসক্ষমতা যদি কোম্পানিটির দাবির সঙ্গে মেলে তবে এ মূল্য নির্ধারণী কৌশল বাজারে বেশ বড়সড় প্রতিযোগিতা তৈরি করবে। কারণ, প্রতিদ্বন্দ্বী ‘ওপাস ৪.৭’ মডেলে প্রতি ১০ লাখ ইনপুট টোকেনের জন্য ৫ ডলার ও প্রতি ১০ লাখ আউটপুট টোকেনের জন্য ২৫ ডলার খরচ হয়।
অন্যদিকে, ওপেনএআই তাদের বিভিন্ন মডেলের সংস্করণের জন্য ধাপে ধাপে দাম নির্ধারণ করেছে। তাদের সবচেয়ে ব্যয়বহুল মডেল ‘সল’-এর ক্ষেত্রে প্রতি ১০ লাখ ইনপুট টোকেনে ৫ ডলার ও আউটপুটে ৩০ ডলার খরচ পড়ে।
আবার ওপেনএআইয়ের সবচেয়ে সাশ্রয়ী মডেল ‘লুনা’র ক্ষেত্রে প্রতি ১০ লাখ ইনপুটে ১ ডলার ও আউটপুটে ৬ ডলার খরচ হয়।
এ সপ্তাহ এআই মডেল উন্মোচনের লড়াইয়ে বেশ জমজমাট ও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ওপেনএআই বৃহস্পতিবার তাদের সবচেয়ে সর্বশেষ ও শক্তিশালী মডেল ‘জিপিটি ৫.৬’ বাজারে চালুর পরিকল্পনা করছে।
এর আগে, নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ মডেলটির উন্মোচনের ওপর কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ হয়েছিল। তবে মডেলটিকে নিজেদের ‘এযাবৎকালের সবচেয়ে সেরা মডেল’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ওপেনএআই।
আরও পড়ুন…