Published : 10 Jul 2026, 11:13 PM
চারুশিল্পী, নাট্যনির্দেশক, শিল্প গবেষক, বাংলাদেশে পাপেট চর্চার অন্যতম প্রাণপুরুষ মুস্তাফা মনোয়ারকে স্মরণ করা হল গান-কবিতা আর আলোচনার মধ্য দিয়ে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালায় এ আয়োজনে মুস্তাফা মনোয়ারের জীবন-কর্ম ও তাকে ঘিরে নানা স্মৃতিকথা তুলে ধরেন অতিথিরা।
নাট্যশালার মূল মিলনায়তন প্রাঙ্গণে তার ছবি ঘিরে ছড়িয়ে দেওয়া হয় ফুলের পাপড়ি, জ্বালানো হয় মোমবাতি। পাশেই ছিল বরেণ্য এই শিল্পীর আঁকা ছবি এবং জীবনকর্ম প্রদর্শনী।
প্রদর্শনীতে মুস্তাফা মনোয়ারের তৈরি জনপ্রিয় পাপেট চরিত্র মন্ত্রী, গিট্টু, রাজা, বাঘা, মেনি, কুশ্রী ছানা, বাউল, শিক্ষক, ষাঁড়, বকর, পণ্ডিত, ড্রাগন রাখা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে মুস্তাফা মনোয়ারের সংক্ষিপ্ত জীবনী তুলে ধরা হয়।

তাকে নিয়ে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, “আমি মনে করি তার মত মানুষের মৃত্যু নেই। তিনি আমার শিক্ষক নন, কিন্তু তার কাছে থেকে আমি শিখেছি। এখনো শিখি, শিখব।
“তিনি তার কাজের মাধ্যমে আমার মত হাজার হাজার মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছেন, ভবিষ্যতেও করবেন। তিনি ‘জীবনের জন্য শিল্প’ এবং ‘লড়াইয়ের জন্য শিল্প’ এই দর্শন ধারণ করতেন।”
মুস্তাফা মনোয়ারের স্ত্রী মেরি মনোয়ার বলেন, “আমার ৬১ বছরের সঙ্গী মুস্তাফা মনোয়ারের স্মরণে সবাই সমবেত হয়েছি। তাকে যে দেশের লোক এত ভালোবাসে এটা ভাবা যায় না।
“আগে দেখতাম উনাকে নিয়ে কোথাও বাইরে গেলে হাঁটা যেত না। কোত্থেকে যেন সব এসে ঘিরে ধরত আর তার সঙ্গে ছবি তুলত। আজকের দিনে আপনারা সবাই উপস্থিত হয়েছেন উনার প্রতি সম্মান দেখাতে, এর জন্য অনেক ধন্যবাদ।”
অভিনেতা শহীদুজ্জামান সেলিম বলেন, “মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন টেলিভিশন ডিরেক্টরস গিল্ডের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। আমি বর্তমানে এই সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বে আছি। সকল নির্মাতাদের পক্ষ থেকে তাকে শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।”
নৃত্যশিল্পী শামীম আরা নিপা বলেন, “মুস্তাফা মনোয়ার আকাশের মত, যার কোনো ক্ষয় নাই। যাকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, কেবল অনুভব করা যায়। আশির দশকের শুরু থেকে তার সঙ্গে কাজ করেছি।

“তিনি অসম্ভব সাহসী। কাজের প্রতি তিনি ছিলেন ভয়ানক নিষ্ঠাবান। তার সঙ্গে কাজ করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে হয়। মুস্তাফা মনোয়ার প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে কাজ করতে পছন্দ করতেন এবং তিনি কাজের ক্ষেত্রে অত্যন্ত খুঁতখুঁতে এবং সৃজনশীল ছিলেন।”
অভিনেতা আফজাল হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে চিত্রকর ও কার্টুনিস্ট রফিকুন নবী, অভিনেতা আব্দুল আজিজ, কেরামত মওলা, মনিরুজ্জামান, তারিক আনাম খান, হাবিবুল আলম স্মৃতিচারণ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে নানা রোগে ভুগে গত ২৯ জুন রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে মারা যান মুস্তাফা মনোয়ার।