Published : 09 Mar 2026, 03:11 PM
নাসার এক অভাবনীয় সাফল্যে মহাকাশ গবেষণায় নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। প্রথমবারের মতো মানুষের তৈরি কোনো যানের ধাক্কায় মহাকাশের বড় বস্তুর কক্ষপথ সরাসরি বদলে গিয়েছে।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, ২০২২ সালে একটি মহাকাশযান দিয়ে ছোট গ্রহাণু ‘ডিমোরফস’কে ধাক্কা দেওয়ার সময় তা কেবল এর মূল গ্রহাণু ‘ডিডাইমোস’-এর চারদিকে ঘোরার পথই পরিবর্তন করেনি, বরং এরা সূর্যের চারদিকে ঘোরার কক্ষপথও বদলে ফেলেছে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি বা জেপিএল বলেছে, “এবারই প্রথম মানুষের তৈরি কোনো বস্তু মহাকাশের বড় বস্তুর সূর্যের চারদিকে ঘোরার পথ পরিমাপযোগ্যভাবে পরিবর্তন করতে পেরেছে।”
বিজ্ঞানীরা বলছেন, পৃথিবীকে মহাকাশের বিপজ্জনক বস্তু বা গ্রহাণুর আঘাত থেকে রক্ষায় কার্যকর পদ্ধতি খুঁজে বের করতে এ ফলাফল আশাব্যঞ্জক।
‘ডাবল অ্যাস্টেরয়েড রিডাইরেকশন টেস্ট’ বা ডার্ট মিশনের মূল উদ্দেশ্য ছিল মহাকাশের কোনো বিপজ্জনক বস্তুর গতিপথ পরিবর্তনের কার্যকর এক পদ্ধতি দেখানো। এ পরীক্ষার জন্য ৫৬০ ফুট চওড়া ছোট গ্রহাণু ডিমোরফস’কে লক্ষ্য বানানো হয়েছিল, যা পৃথিবীর জন্য কোনো হুমকিই ছিল না।
নাসার প্রাথমিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মহাকাশযানের ধাক্কায় ডিমোরফস তার চেয়ে বড় গ্রহাণু ‘ডিডাইমোস’-এর চারদিকে ঘোরার পথ বা কক্ষপথকে সংকুচিত করেছে।
২০২৪ সালে প্রকাশিত নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরি বা জেপিএল-এর ফলো-আপ স্টাডিতে জানানো হয়েছিল, ডিমোরফসের কক্ষপথের সময়কাল প্রায় ৩৩ মিনিট কমেছে। ধাক্কার ফলে ‘ডিডাইমোস’ থেকে প্রায় ১২০ ফুট বেশি কাছে চলে এসেছে।
সবচেয়ে নতুন গবেষণা বলছে, এ ধাক্কায় কেবল ডিমোরফস নয়, বরং পুরো ‘বাইনারি সিস্টেম’ বা গ্রহাণু জোড়াটির ওপরই প্রভাব পড়েছে। ডিডাইমোস ও ডিমোরফস গ্রহাণু দুটি সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে ৭৭০ দিন সময় নেয়।
এ গবেষণার প্রধান লেখক রাহিল মাকাদিয়া বলেছেন, মহাকাশযানের ধাক্কার ফলে এদের এই গতির পরিবর্তন হয়েছে প্রতি সেকেন্ডে কেবল ১১.৭ মাইক্রন, যা ঘণ্টায় প্রায় ১.৭ ইঞ্চি।
শুনতে সামান্য হলেও মাকাদিয়া বলেছেন, “সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোনো গ্রহাণুর গতিতে এ অতি ক্ষুদ্র পরিবর্তনই নির্ধারণ করে দেবে, কোনো বিপজ্জনক বস্তু পৃথিবীতে আঘাত করবে নাকি পাশ কাটিয়ে চলে যাবে।”