Published : 26 Feb 2026, 12:28 PM
ভিনগ্রহের প্রাণী বা এলিয়েন নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। এবার সেই রহস্যে নতুন মাত্রা যোগ করলেন নাসার একজন অভিজ্ঞ বিজ্ঞানী।
গত ৫০ বছর ধরে মহাকাশ গবেষণা ও বিভিন্ন গ্রহের মিশন নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানী ড. জেন্ট্রি লি বলছেন, এলিয়েনদের অস্তিত্ব অবশ্যই আছে, “তবে এরা এখনও পৃথিবীতে আসেনি।”
ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইল প্রতিবেদনে লিখেছে, ড. লি ১৯৬৮ সাল থেকে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসায় কাজ করছেন। মঙ্গল গ্রহে পাঠানো ‘ভাইকিং’ মিশনের মাধ্যমেই মহাকাশ গবেষণায় তার পথচলা শুরু।
পৃথিবীর দূরবর্তী গ্রহগুলোতে নামার জন্য বিভিন্ন মহাকাশযান তৈরির কাজ করেছেন ড. লি। তবে তার মতে, ভিনগ্রহের কোনো প্রাণী এখনও পৃথিবীতে পা রাখেনি।
ফিনিক্সে আয়োজিত এক বিজ্ঞান সম্মেলনে লি বলেছেন, “আজ পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ নেই, যা দিয়ে বলা যায় যে কোনো এলিয়েন বা এদের তৈরি কোনো যান কখনও পৃথিবীতে নেমেছে।
“আপনি যদি ভিন্ন কিছু বিশ্বাস করেন, তবে আপনাকে ভুল পথে পরিচালিত করা হচ্ছে।”
এ বিশেষজ্ঞের মতে, কথিত ভিনগ্রহী যান বা ইউএফও দেখা বা এলিয়েনদের দেখার যতগুলো ঘটনা এ পর্যন্ত শোনা গেছে তার সবগুলোরই সম্ভবত কোনো না কোনো সাধারণ ব্যাখ্যা রয়েছে।
তবে দূরবর্তী গ্রহগুলোর কথা উঠলে লি’র ধারণা, সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব “নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও আছে। আমরা অন্য কোথাও না কোথাও কোনো না কোনো ধরনের প্রাণের সন্ধান পাবই।”
লি’র ভাষায়, “এ সম্ভাবনা অত্যন্ত জোরালো।”
বিজ্ঞানীদের ধারণা, পৃথিবীর ছায়াপথের অন্য প্রান্তে থাকা বিভিন্ন তারাকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা ‘পৃথিবীর মতো’ গ্রহগুলোই ভিনগ্রহী প্রাণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী জায়গা। এমনই এক ‘পৃথিবীর মতো’ গ্রহ হচ্ছে ‘ট্র্যাপিস্ট-১ই’, যা পৃথিবী থেকে ৪০ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত। গ্রহটি এর তারার নিরাপদ ‘হ্যাবিটেবল জোন’ বা বাসযোগ্য এলাকায় অবস্থান করছে।
আরেকটি গ্রহ হচ্ছে ‘কে২-১৮বি’। কিছু গবেষণার ফলাফল বলছে, এ গ্রহেও প্রাণ থাকার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। পৃথিবী থেকে ১২৪ আলোকবর্ষ দূরে ‘লিও’ তারামণ্ডলে অবস্থিত এ বিশালাকার গ্রহটি সম্পূর্ণভাবে মহাসাগর দিয়ে ঘেরা, যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘হাইসিন ওয়ার্ল্ড’।

পৃথিবীর আপন সৌরজগতের শনি গ্রহের চাঁদ এনসেলাডাস ও টাইটানে প্রাণের অস্তিত্ব ও তা টিকে থাকার মতো উপযোগী পরিবেশ থাকতে পারে।
ড. লি বলেছেন, মহাকাশ বিজ্ঞানীদের এমন সব ভিনগ্রহী প্রাণের সন্ধানের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যা পৃথিবীর প্রাণের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হতে পারে। আমাদের গ্রহের সমস্ত প্রাণ, যেমন ‘আপনি, আমি, হাতি, স্লাইম মোল্ড বা ব্যাকটেরিয়া’ এ সবই বংশবিস্তারের জন্য ডিএনএ-এর ওপর নির্ভর করে।
“ভিনগ্রহের কোনো জীববিজ্ঞানী যদি পৃথিবীতে আসতেন তবে ফিরে গিয়ে তিনি রিপোর্ট করতেন, ‘পৃথিবী খুব একটা আকর্ষণীয় গ্রহ নয়। এখানকার সব প্রাণই একরকম। এরা সবাই একই ধরনের অণু ব্যবহার করে একইভাবে বংশবৃদ্ধি করে’।”
বর্তমানে নাসার জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরিতে ‘সোলার সিস্টেম এক্সপ্লোরেশন ডিরেক্টরেট’-এর প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত আছেন ড. লি।
পাশাপাশি, মঙ্গলে পাঠানো ‘কিউরিওসিটি’ রোভার, দুটি গ্রহাণুতে পাঠানো ‘ডন’ মিশন, বৃহস্পতিতে পাঠানো ‘জুনো’ মিশন ও চাঁদে পাঠানো ‘গ্রেইল’ মিশনের প্রকৌশলগত দিকগুলো তদারকি করেছেন তিনি।
‘স্পেসম্যান’ নামের নতুন এক তথ্যচিত্রের প্রচারণায় ড. লি বলেছেন, কেপলার-এর মতো মহাকাশ টেলিস্কোপগুলো পৃথিবীর মিল্কিওয়ে ছায়াপথের বড় এক অংশ নিয়ে গবেষণা করেছে, যেখানে অন্যান্য তারাকে কেন্দ্র করে ঘুরতে থাকা বিশাল সংখ্যক গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন তারা।
ড. লি বলেছেন, “কেপলার টেলিস্কোপ মহাকাশের যে অংশটি পর্যবেক্ষণ করেছে তা যদি পুরো মিল্কিওয়ে ছায়াপথের একটি নমুনা হিসেবে ধরা হয় এবং আমাদের অবিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই যে, কেবল আমাদের এই ছায়াপথেই প্রায় ১ লাখ কোটি গ্রহ রয়েছে।
“ফলে আপনি যদি এই বিপুল সংখ্যক গ্রহের মধ্যে কোথাও প্রাণ তৈরি হওয়ার সমস্ত গাণিতিক সম্ভাবনাগুলো বিচার করেন তবে দেরি হোক বা আগে, আপনাকে বলতেই হবে, প্রাণ নিশ্চয়ই কোথাও না কোথাও আছে।”
এদিকে, ভিনগ্রহী যান বা ইউএফও সংক্রান্ত ফাইলগুলো প্রকাশের জন্য প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দাবির প্রেক্ষিতে গতকাল এক মজার জবাব দিয়েছে নাসা, যা কোনো ভিনগ্রহী রহস্য উন্মোচনের আশাকে একেবারে ফিকে করে দিয়েছে।
এ মাসের শুরুতে মহাকাশে প্রাণের সন্ধানে এক নাটকীয় মোড় আসে। এ সময় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দাবি করেন, এলিয়েনের ধারণা বাস্তব।
পরে অবশ্য ওবামা বলেছেন, ভিনগ্রহের প্রাণীদের পৃথিবীতে আসার কথা বলছেন না তিনি, বরং তার ধারণা, ‘বিশাল মহাকাশের’ কোথাও না কোথাও প্রাণের অস্তিত্ব অবশ্যই আছে।
তবে ওবামার এ মন্তব্য শুনে ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তার পূর্বসূরির বিরুদ্ধে ‘গোপন তথ্য’ ফাঁসের অভিযোগ আনেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, মার্কিন যুদ্ধ সচিবকে এলিয়েন, ভিনগ্রহী প্রাণ ও ইউএফও সংক্রান্ত সরকারের সমস্ত ফাইল প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
অবশেষে ট্রাম্পের এমন দাবির জবাব দিয়েছে নাসা। তবে সংস্থাটির জবাবটি রহস্যময় কোনো নথি প্রকাশের সব আশা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে নাসার প্রেস সেক্রেটারি বেথানি স্টিভেন্স লিখেছেন, “একটি সংস্থা হিসেবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উন্মুক্ত বিজ্ঞান চর্চার প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানাই আমরা।
“নাসা প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান যেমনটি বলেছেন এই চাকরিতে এসে তিনি অবশ্যই এমন কিছু জিনিসের মুখোমুখি হয়েছেন যা তিনি ব্যাখ্যা করতে পারছেন না… তবে সেগুলো ভিনগ্রহী প্রাণীর চেয়ে বরং অপ্রয়োজনীয় ব্যয়বহুল প্রকল্পগুলোর সঙ্গেই বেশি সম্পর্কিত!”