Published : 05 Dec 2025, 11:50 AM
হালকা ও তুলার মতো সিরাস মেঘ সম্পর্কে বিস্ময়কর তথ্য দিলেন বিজ্ঞানীরা।
পৃথিবীর প্রায় ৬৭ শতাংশ মেঘের আবরণে ঢাকা থাকে এবং সেই মেঘের অধিকাংশই আমাদের চেনা ও অতি সাধারণ। তবে এমনও দিন ও জায়গা রয়েছে যেখানে মেঘের নকশা বা বিন্যাস এদের আশপাশের পরিবেশ থেকে স্পষ্টভাবে আলাদা হয়ে আমাদের চোখে পড়ে।
২০১৯ সালের ৫ জুন দিনটি ছিল পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূল জুড়ে ঠিক তেমনই একটি দিন। ‘সুওমি এনপিপি’ স্যাটেলাইটের ‘ভিজিবল ইনফ্রারেড ইমেজিং রেডিওমিটার স্যুট’-এর ছবিতে উঠে এসেছে, আকাশে ঘন সাদা মেঘের অংশ সরে গিয়ে এক চোখ ধাঁধানো জ্যামিতিক বিন্যাস তৈরি করেছে, যেখানে বায়ুমণ্ডলের সমান্তরাল উচ্চতায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে অদ্ভুত বরফের সাদা মেঘ।
‘কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি’ ও নাসার ‘গডার্ড ইনস্টিটিউট ফর স্পেস স্টাডিজ’-এর গবেষক বাস্টিয়ান ভ্যান ডাইডেনহোভেন বলেছেন, এসব মেঘ ‘ট্রান্সভার্স সিরাস ব্যান্ড’ নামে পরিচিত, ‘যেগুলি যে একেবারে বিরল নয় আবার খুব সাধারণও নয়’।
এসব ‘ট্রান্সভার্স সিরাস ব্যান্ড’ দেখতে সাধারণ মনে হলেও এগুলো প্রায়শই কোনো বড় ধরনের ঝড় বা তীব্র আবহাওয়ার সঙ্গে জড়িত। সমান্তরাল সিরাস মেঘের বিভিন্ন রেখা আসলে বায়ুমণ্ডলীয় তরঙ্গের কারণে তৈরি হয়। দূরবর্তী বড় আকারের ঝড় বা সাইক্লোন এই তরঙ্গ তৈরি করে, যা বহুদূর ভ্রমণ করে ও উচ্চ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার পরিবর্তন ঘটিয়ে এ বিশেষ ধরনের মেঘের বিন্যাস তৈরি করে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে নাসা।
ছবিটি তোলার সময় ভারত মহাসাগর থেকে শক্তিশালী এক ঠান্ডা ঝড় বাতাস স্থলভাগের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। অস্ট্রেলিয়ার ব্যুরো অফ মেটিওরোলজি-এর তথ্য অনুসারে, এ প্রক্রিয়াটি শেষ পর্যন্ত পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ায় তীব্র বাতাস ও ভারী বৃষ্টি নিয়ে আসে, যার মধ্যে মার্গারেট নদী শহরে ৮৮.২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করেছিল সংস্থাটি।
সাধারণত এসব মেঘ বা ‘ট্রান্সভার্স সিরাস ব্যান্ড’ বড় আকারের বজ্রঝড় ও বজ্রসহ ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে লম্বভাবে বা ঘূর্ণিঝড়ের পরিধি বরাবর দেখা যায়। তবে ঠিক কী কারণে এগুলো তৈরি হয়, তা এখনও অস্পষ্ট।
এ ধরনের ভৌত অবস্থা ‘ক্লিয়ার এয়ার টার্বিউলেন্স’ তৈরি করে, যা প্লেনের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। এ কারণে আকাশে এসব মেঘের দেখা মিললে প্লেন চলাচলের জন্য পূর্বাভাস দেয় আবহাওয়া সংস্থা।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় স্যাটেলাইটের ছবি থেকে এসব ‘ট্রান্সভার্স সিরাস ব্যান্ড’ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্তের সম্ভাবনা দেখিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। এসব মেঘ রৈখিক বৈশিষ্ট্যওয়ালা ‘গ্র্যাভিটি ওয়েভ’ ও ‘কনভেক্টিভ রোলস’ বা ‘ক্লাউড স্ট্রিটস’ নামে পরিচিত অন্যান্য ধরনের মেঘের সঙ্গে অনেকটা মেলে।
তবে গবেষকরা বলছেন, এগুলো এতোটাই স্বতন্ত্র যে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তের জন্য এ পদ্ধতিতে তেমন বেগ পেতে হয় না।
গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘আমেরিকান জিওফিজিক্যাল ইউনিয়ন অ্যাডভান্সেস’-এ।