১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লোহিত সাগরে তেলের ট্যাংকারে হামলা: ইরান ও হুতিদের ‘কঠোর শাস্তির’ হুমকি ট্রাম্পের

কৌশলগত নৌপথ অচল হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে হঠাৎ লাফিয়ে বেড়েছে তেলের দাম

লোহিত সাগরে তেলের ট্যাংকারে হামলা: ইরান ও হুতিদের ‘কঠোর শাস্তির’ হুমকি ট্রাম্পের
সেন্টকমের অভিযানে একটি নৌযানে হামলার দৃশ্য। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 24 Jul 2026, 02:24 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:43 PM

লোহিত সাগরে দুটি সৌদি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার পর ইরান ও তাদের ইয়েমেনি সহযোগী হুতিদের ‘কঠোর সামরিক শাস্তি’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। 

রয়টার্স লিখেছে, ইয়েমেনি যোদ্ধাদের ওই হামলার মধ্য দিয়ে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি প্রধান নৌপথে ছড়িয়ে পড়ল।

এদিকে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তেলের দাম এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে। 

মে মাসের পর প্রথমবারের মত ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৬ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।

অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ভেস্তে যাওয়ার পর টানা ১৩ দিন ধরে ইরানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। বৃহস্পতিবার গভীর রাত ও শুক্রবার ভোরেও ইরানে নতুন করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। 

জবাবে প্রতিবেশী যেসব দেশে মার্কিন ঘাঁটি রয়েছে, সেগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে ইরান।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, চার মাসের বেশি সময় ধরে চলা এই যুদ্ধের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। 

হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটানো এই যুদ্ধ বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধসের আশঙ্কা বাড়াচ্ছ। 

এদিকে ইরানের আহভাজ শহরে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি।

সৌদি ট্যাংকারে হামলার পর ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দেন, হুতিদের যে কোনো পরবর্তী তৎপরতার জন্য সরাসরি ইরানকেই জবাবদিহি করতে হবে।

ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল নিয়ন্ত্রণকারী হুতি বিদ্রোহীরা লোহিত সাগরে সৌদি আরবের ওপর ‘নৌ অবরোধ’ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। 

হরমুজ প্রণালিতে ইরানের অবরুদ্ধ পরিস্থিতি এড়াতে সৌদি আরব এতদিন পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগর দিয়ে দৈনিক লাখ লাখ ব্যারেল তেল পাঠাচ্ছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লেখেন, “হুতিরা মূলত ইরানেরই প্রতিনিধি। তারা যদি আবারও এমন ঘটনা ঘটায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানকে দায়ী করবে এবং ইরান ও হুতিদের কঠোর সামরিক শাস্তির মুখে পড়তে হবে।”

সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানে নতুন করে বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরুর খুব কাছাকাছি রয়েছেন। 

তিনি বলেন, “তারা এখনও যথেষ্ট শিক্ষা পায়নি।”

ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজের সমস্ত ক্ষতিপূরণ যুক্তরাষ্ট্রে আটকে রাখা ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদ থেকে মেটানো হবে। 

তবে এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, অন্য দেশের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার এই প্রবণতা একটি ‘বিপজ্জনক ও উসকানিমূলক নজির’, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ডেকে আনবে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হুতিদের হামলার কিছুদিন আগে ইরানি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কমান্ডার ও সামরিক সরঞ্জাম ইয়েমেনে পাঠানো হয়েছিল বলে তথ্য পাওয়া গেলেও হুতিরা তা অস্বীকার করেছে।

হুতিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি তেলের ট্যাংকার ‘এনসেলিয়া’ ও ‘লাইলা’-তে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। 

একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা সূত্রের বরাক দিয়ে রয়টার্স জানায়, ইয়েমেন সীমান্তের কাছে ‘এনসেলিয়া’ ট্যাংকারটি হামলার শিকার হয়ে জরুরি বার্তা পাঠায়। 

সৌদি রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা এসপিএ জানায়, হামলায় জাহাজটির সামনের অংশে আগুন ধরে যায়।

হামলার পর লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলের বীমা মাশুল দ্বিগুণ হয়ে গেছে। কৌশলগত ‘বাব এল-মান্দেব’ প্রণালি অচল হয়ে পড়ার আশঙ্কায় বহু তেলবাহী জাহাজ পথ পরিবর্তন করে সুয়েজ খাল হয়ে আফ্রিকার দূরবর্তী পথ ঘুরে এশিয়ার দিকে রওনা দিচ্ছে। 

অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি পার হওয়া ট্যাংকারের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে দিনে মাত্র একটিতে, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন।

জর্ডান ও কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। 

জর্ডান সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা একটি বাদে বাকি সব ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করেছে। 

অন্যদিকে, কুয়েতের আল-আদিরি ঘাঁটিতে মার্কিন ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ইউনিটে হামলার দাবি করেছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী।

রয়টার্স লিখেছে, তেলের আকাশচুম্বী দাম বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে তুলছে, যা আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের ওপর তীব্র রাজনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। 

বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ট্রাম্পকে সামরিক অভিযান বন্ধের নির্দেশ দিয়ে একটি বিল পাস করলেও তা সেনেটে আটকে যায়।