Published : 27 May 2026, 12:10 PM
এ সপ্তাহে রাতের আকাশে এক বিরল পূর্ণিমা দেখা দিতে যাচ্ছে।
যার নাম ‘ব্লু মুন’ বা নীল চাঁদ। তবে চাঁদের এ নামকরণের পেছনে কোনো রঙের পরিবর্তন নয়, বরং ঋতুচক্রের সঙ্গে মিল রাখতে গিয়ে আমাদের ক্যালেন্ডার বা বর্ষপঞ্জি তৈরির এক অদ্ভুত ও জটিল হিসাব লুকিয়ে রয়েছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘ব্লু মুন’ নামটি চাঁদের রঙের পরিবর্তে তারাদের সাপেক্ষে আমরা যেভাবে আমাদের ক্যালেন্ডার বা বর্ষপঞ্জি নির্ধারণ করি সেখান থেকেই এ শব্দের উৎপত্তি।
পৃথিবীকে একবার প্রদক্ষিণ করতে চাঁদের প্রায় এক মাস সময় লাগে। এর সঠিক সময়টি ২৯.৫ দিন।
তবে আমরা যদি ক্যালেন্ডারকে ১২টি চান্দ্রমাসের হিসেবে বেঁধে দিতাম তবে পুরো বছরটি প্রায় ১১ দিন ছোট হয়ে যেত। ফলে, ক্যালেন্ডারের হিসাব ঋতুচক্রের সঙ্গে মিলত না ও খাপছাড়া হয়ে পড়ত।
আকাশে বিভিন্ন তারার আবার আগের জায়গায় ফিরে আসতে ঠিক কতদিন সময় লাগে সেই হিসাব অনুসারে বছর নির্ধারণের কারণে আমাদের মেনে নিতেই হবে, কিছু কিছু বছরে ১২টির পরিবর্তে ১৩টি পূর্ণিমা দেখা যাবে।
এ বাড়তি পূর্ণিমাটিই ‘ব্লু মুন’, যা একই ক্যালেন্ডার মাসের দ্বিতীয় পূর্ণিমা হিসেবে সংজ্ঞায়িত হয়। এ মাসের ১ তারিখে এরইমধ্যে একটি পূর্ণিমা হয়ে যাওয়ায় এই সপ্তাহের ৩১ মে’র দ্বিতীয় পূর্ণিমাটিই ব্লু মুন।
ব্লু মুন সংজ্ঞায়িত করার আরেকটি পদ্ধতিও রয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের নিয়মে ব্লু মুন চেনার আরও একটি পদ্ধতি ‘ঋতুভিত্তিক পদ্ধতি’ নামে পরিচিত।
তবে এ হিসাব অনুসারে, এ সপ্তাহের পূর্ণিমাটি ব্লু মুন নয়। সেই নিয়ম মানলে, ব্লু মুনের জন্য আমাদের ২০২৭ সালের ২০ মে’র পূর্ণিমা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।