১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

হাবলের চোখে তারার ‘শেষ বিদায়ের’ বর্ণিল আভা

পৃথিবী থেকে তিন হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এ নীহারিকাটির ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি তারা, যা গ্যাস ও ধুলিকণার ঘন আস্তরণে ঢাকা পড়ে আছে।

হাবলের চোখে তারার ‘শেষ বিদায়ের’ বর্ণিল আভা
ছবিতে যে কমলা রঙের আভা দেখা যাচ্ছে তা ইনফ্রারেড বা অবলোহিত আলোর বিচ্ছুরণ। ছবি: নাসা

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Feb 2026, 11:52 AM

Updated : 26 Aug 2026, 02:56 PM

মহাকাশে যখন কোনো তারার আয়ু ফুরিয়ে আসে তখন তা অদ্ভুত সুন্দর এক দৃশ্যে রূপ নেয়। নীহারিকার এক অভূতপূর্ব দৃশ্য সামনে এনেছে হাবল টেলিস্কোপ, যেখানে নিজের শেষ মুহূর্তের তেজ ও সৌন্দর্য ছড়িয়ে দিচ্ছে মৃত্যুপথযাত্রী একটি তারা।

প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, হাবল টেলিস্কোপ হয়ত এখন আর আগের মতো অপ্রতিদ্বন্দ্বী নয়, তবে এর ক্যামেরার জাদু এখনও ফুরিয়ে যায়নি। হাবলের তোলা সর্বশেষ ছবিটি ‘এগ নেবুলা’ বা ‘ডিম্বাকার নীহারিকা’র এযাবতকালের সবচেয়ে স্পষ্ট দৃশ্য দেখার সুযোগ করে দিয়েছে।

পৃথিবী থেকে প্রায় তিন হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এ নীহারিকাটির ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি তারা, যা গ্যাস ও ধুলিকণার ঘন আস্তরণে ঢাকা পড়ে আছে। এ কারণেই নীহারিকাটির এমন নাম।

হাবল টেলিস্কোপের নতুন ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নীহারিকাটির কেন্দ্রে থাকা তারা থেকে নির্গত আলোর চারটি রশ্মি যেন তার গ্যাস ও ধুলিকণার ‘খোসা’ ভেদ করে বেরিয়ে আসছে।

এ চ্যাপ্টা থালার মতো মেঘটির দুই পাশ দিয়ে প্রচণ্ড গতিতে তপ্ত আণবিক হাইড্রোজেনের ধারা বয়ে যাচ্ছে। ছবিতে যে কমলা রঙের আভা দেখা যাচ্ছে তা ইনফ্রারেড বা অবলোহিত আলোর বিচ্ছুরণ।

তারাটি থেকে আলোর বিভিন্ন রশ্মি যখন বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ছে তখন সেগুলো নিজের আশপাশে থাকা গ্যাসের বৃত্তাকার বিভিন্ন বলয়কে আলোকিত করে তুলছে।

গ্যাসের এ ঢেউয়ের মতো বিন্যাস দেখে মনে হচ্ছে, তারাটি থেকে কয়েকশ বছর পরপর ছোট ছোট বিস্ফোরণ ঘটেছিল এবং প্রতিবারই নতুন করে কিছু গ্যাস ও ধুলিকণা বাইরে ছিটকে বেরিয়ে এসেছে।

‘সিগনাস’ তারামণ্ডলে অবস্থিত এ ‘এগ নেবুলা’ প্রথম আবিষ্কৃত হয় ১৯৭৫ সালে। 

এই ধরনের ‘প্রি-প্ল্যানেটারি’ বা গ্রহ তৈরির আগের পর্যায়ের বিভিন্ন নীহারিকা মহাকাশে দুর্লভ বলেই বিবেচনা করা হয়। কারণ, এ পর্যায়টি কেবল কয়েক হাজার বছর স্থায়ী হয় এবং এগুলো সাধারণত বেশ ঝাপসা থাকে, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য খুঁজে পাওয়া বেশ কঠিন।

হাবলের তোলা আগের বিভিন্ন ছবির সঙ্গে এ নতুন ছবিটির তুলনা করে এর ভেতরে ঘটে যাওয়া রহস্যময় বিভিন্ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও জানতে পারবেন বিজ্ঞানীরা। 

বিজ্ঞানীদের কাছে বিষয়টি যেমনই হোক না কেন টেলিস্কোপের নতুন এ ছবি সাধারণ মানুষের কাছে চমৎকার এক দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য বটে!