Published : 17 Nov 2025, 10:34 AM
আমেরিকানরা যখন ইতিহাসের দীর্ঘতম সরকারি শাটডাউন শেষ হওয়র জন্য আগ্রহভরে অপেক্ষা করছেন ঠিক সেই সময়ই চীনে ঘটে যাওয়া এক দুর্ঘটনা সাময়িকভাবে খবরের শিরোনামে উঠে এল, যেখানে এক সেতু ধসের ভয়াবহ ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সব সংবাদমাধ্যমে।
বছরের শুরুতে চালু হয়েছিল চীনের শুয়াংজিয়াংকো হংকি সেতুটি, যার একটি অংশ ১১ নভেম্বর ধসে পড়ে। সেতুটি সিচুয়ান প্রদেশ ও তিব্বতকে সংযুক্ত করা এক জাতীয় মহাসড়কের অংশ ছিল। সৌভাগ্যবশত ধসের সময় সেতুটি ফাঁকাই ছিল। ফলে সেতু ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট স্ল্যাশগিয়ার।
সেতু সংলগ্ন রাস্তা ও ঢালে ফাটল দেখে এক দিন আগেই এটি বন্ধ করেছিল কর্তৃপক্ষ। পুরো সেতুর দৈর্ঘ্য ছিল দুই হাজার ৪৮৭ ফুট এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এর কিছু অংশ ধ্বংস পড়ে। হংকি সেতুটি ৩৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার ব্যয়ে নির্মিত এক প্রকল্পের অংশ, যেটি তৈরিতে সময় লেগেছে ১৯ মাস।
নিউ ইয়র্ক টাইমস প্রতিবেদনে লিখেছে, এরইমধ্যে বিকল্প রাস্তা তৈরি করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। তবে দেশটির সরকার এখনও জানে না, সেতুটি আবার কবে চালু হবে।
চীনের এই অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ হলেও ওয়াশিংটন পোস্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, স্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ধারণা, ভূমিধসের কারণ ‘ওই অংশের সেতুর রাস্তার ভিত্তি ও র্যাম্প ধসে পড়া’। এসব ঘটনা ছাড়াও সেতু ধসের সঙ্গে আরও কিছু সম্ভাব্য কারণ আছে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, নদীর তীর থেকে এক হাজার ফুটের বেশি উঁচুতে হংকি সেতুটি খুব দ্রুত তৈরি হওয়ায় এ নিয়ে কিছু মানুষ চিন্তিত ছিলেন। অন্যদিকে সেতুটির কাছাকাছি থাকা জলবিদ্যুৎ বাঁধের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন কিছু মানুষ।
এদিকে, তিব্বত রিভিউ প্রতিবেদনে লিখেছে, সেতুর কাছে ফাটল দেখা দেওয়ার কয়েক দিন আগে নতুন শুয়াংজিয়াংকো বাঁধের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু জলবিদ্যুৎ বাঁধ। তবে, এখন পর্যন্ত ধসের সঙ্গে বাঁধের প্রভাব থাকার কোনো প্রমাণ মেলেনি।
হংকি সেতুটি চীনের সিচুয়ান অঞ্চলের সবচেয়ে ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় তৈরি হয়েছিল। ২০০৮ সালে এই অঞ্চলে সাত দশমিক নয় মাত্রার ভূমিকম্পে ৬৯ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছেন। নতুন সেতুটি ‘সিচুয়ান রোড অ্যান্ড ব্রিজ গ্রুপ’ তৈরি করেছে, যেটির আট দশমিক শূন্য মাত্রার ভূমিকম্প সহ্যের সক্ষমতা থাকার কথা ছিল ও এটি ‘কেবল-স্টেড’ ডিজাইনের সেতু।
পানির ওপর সেতু নির্মাণ কাজ সহজ নয়। সাম্প্রতিক ইতিহাসে এটিই প্রথম নাটকীয় সেতু ধসের ঘটনা নয়। এর আগে, ২০২৪ সালে এক পণ্যবাহী জাহাজের বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে সেতুর প্রধান সাপোর্ট পিলারগুলোর একটিতে আঘাত করলে ভেঙে পড়ে বাল্টিমোরের ‘ফ্রান্সিস স্কট কি’ সেতু। ওই ঘটনায় সেতুর কাছাকাছি এক নির্মাণ দলের ছয়জন সদস্য নিহত হন।
এরও আগে ২০১৮ সালে ঝড়ের সময় মারাত্মকভাবে ধসে পড়েছিল ইতালির জেনোয়ায় অবস্থিত ‘মোরান্দি’ সেতু। এ ঘটনায় ৪৩ জন নিহত হয়েছিলেন। পরে এ ঘটনার জন্য বিভিন্ন কারণকে দায়ী করা হযয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সেতুর বয়স, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব ও অন্যান্য বিষয়।