Published : 26 Oct 2025, 06:56 PM
বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম স্ক্রল করলে প্রায়ই এমন ভিডিওর দেখা মেলে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই টুল দিয়ে তৈরি করা বা ডিপফেইক ভিডিও।
তবে ডিপফেইক বা এআই জেনারেটেড ভিডিও তৈরির জন্য প্রচুর কম্পিউটিং শক্তি ও ডেটা সেন্টারের সার্ভার ব্যবহার করতে হয়, যার কারণে বিদ্যুৎ খরচ অনেক বাড়ে। এর ফলে পরিবেশে কার্বন নিঃসরণ বেড়ে যায়। ফলে এসব ভিডিও অনলাইনে সহজে দেখতে পেলেও পরিবেশের ওপর এর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব লুকিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
বর্তমানে ভাইরাল হয়েছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের তৈরি ‘সোরা’র মতো বিভিন্ন এআই প্ল্যাটফর্ম। কারণ এগুলো ‘বাস্তবসম্মত ভিডিও’ তৈরি করতে পারে। ফলে মানুষ নিজেদের প্রয়োজন অনুসারে মৃত তারকা বা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অদ্ভুত ও আপত্তিকর দৃশ্যে দেখানোর জন্য ডিপফেইক তৈরি ও তা শেয়ার করছেন।
এসব ভিডিওর কারণে প্রয়াত তারকা ব্যক্তিদের পরিবার, বিশেষ করে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের পরিবাররকও বিভিন্ন এআই কোম্পানির কাছে অনুরোধ করতে হয়েছে, যেন তাদের প্রিয়জনদের এআই দিয়ে বানানো ভিডিওর প্রচার বন্ধ করা হয়।
ডিপফেইক ভিডিওর মানসিক প্রভাবের বাইরেও এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে সতর্ক করেছেন ‘ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড’-এর একজন অধ্যাপক ড. কেভিন গ্রেকশ।
তিনি বলেছেন, পরিবেশের ওপর এসব ডিপফেইক ভিডিওর ‘বড় ধরনের অদৃশ্য প্রভাব’ রয়েছে। কারণ ‘কোনও না কোনও স্থানে এসব ভিডিও তৈরি করতে হয় এবং সাধারণত তা আপনার ফোনে তৈরি হয় না’।
“বিষয়টি কোনো ডেটা সেন্টারে তৈরি হয়, যা বিশ্বের যে কোনো স্থানে হতে পারে বা হয়ত আপনার পাশের কোন ডেটা সেন্টারেও। আর এ নিয়ে কখনও নিশ্চিত হতে পারবেন না।
“প্রথমত, এ প্রক্রিয়া অনেক বিদ্যুৎ ব্যবহার করে এবং দ্বিতীয়ত এতে অনেক পানি লাগে।”
বিবিসি লিখেছে, শিল্প পর্যায়ে সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি ব্যবহার করে বিভিন্ন ডেটা সেন্টার। ব্যবহারকারীদের জন্য বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এআই ভিডিও তৈরি করে তা শেয়ার করা সহজ করে দিয়েছে নতুন বিভিন্ন অ্যাপ। ফলে সামাজিক মাধ্যমে ভিডিওর ঢেউ নেমেছে।
এ মাসের শুরুতে চালুর কেবল পাঁচ দিনের মধ্যে ১০ লাখেরও বেশি বার ডাউনলোড হয়েছে সোরা এবং এখনও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল অ্যাপ স্টোরের চার্টে শীর্ষে রয়েছে অ্যাপটি।
তবে ড. গ্রেকশ সতর্ক করে বলেছেন, এসব প্ল্যাটফর্মের পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে মানুষের ‘সচেতন’ থাকা উচিত।
তিনি বলেছেন, “এতে প্রচুর পানি ব্যবহৃত হয়। আমার ধারণা, আমাদের সকলেরেই এ বিষয়ে ভাবা উচিত যে, আমরা কেন এসব প্লাটফর্ম ব্যবহার করছি, কী জন্য করছি ও কীভাবে ব্যবহার করছি এবং তা কত ঘন ঘন ব্যবহার করছি।”
এআই নিয়ে ‘গোপন তথ্য বেরিয়ে এসেছে’ উল্লেখ করে ড. গ্রেকশ মানুষকে অনুরোধ করেছেন, ডেটা সেন্টার কোথায় বসানো হচ্ছে ও সেগুলো কীভাবে ঠান্ডা করা হচ্ছে তা সম্পর্কে ‘একটু বেশি সমন্বিত চিন্তা’ যেন লোকজন করেন।
“এখানে অনেক প্রশ্ন রয়েছে, যা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।”