Published : 15 Aug 2025, 02:15 PM
মানুষকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে একীভূত করতে নতুন ব্রেইন ইমপ্ল্যান্ট স্টার্টআপে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআই।
‘মার্জ ল্যাবস’ নামের এ নতুন উদ্যোগটি মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের স্টার্টআপ ‘নিউরালিংক’-এর প্রতিযোগী হয়ে উঠবে। ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেইস বা বিসিআই চিপ তৈরি করে নিউরালিংক, যা মানুষের চিন্তার মাধ্যমে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণের সুযোগ করে দেয় বলে প্রতিবেদিনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ নতুন স্টার্টআপের জন্য প্রায় ২৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে ওপেনএআই। এতে স্টার্টআপটির আনুমানিক মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৮৫ কোটি ডলার।
এদিকে, সম্প্রতি ৬০ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছে নিউরালিংক। এতে স্টার্টআপটির মূল্য দাঁড়িয়েছে নয়শ কোটি ডলার। গত বছর পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের ওপর নিজেদের ব্রেইন চিপ প্রযুক্তির মানব পরীক্ষা শুরু করেছে কোম্পানিটি।
মাস্ক বলেছেন, আগামী এক দশকের মধ্যে লাখ লাখ নিউরালিংক ডিভাইস মানুষের মস্তিষ্কে বসাতে চান তিনি। তার চূড়ান্ত লক্ষ্য, মানুষের মস্তিষ্ক ও শরীরকে উন্নত করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার সুযোগ তৈরি করা।
ইন্ডিপেনডেন্ট লিখেছে, ওপেনএআইয়ের নতুন স্টার্টআপটির নাম কোম্পানিটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও স্যাম অল্টম্যানের ২০১৭ সালের এক ব্লগ পোস্ট থেকে অনুপ্রাণিত বলে ধারণা মেলে। ওই পোস্টে মানুষ ও যন্ত্রের মধ্যে ‘দ্য মার্জ’ বা একীভবন সম্পর্কে লিখেছিলেন তিনি।
অল্টম্যান লিখেছিলেন, “আমার বিশ্বাস, এরইমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে একীভবন এবং আমরা কয়েক বছর এগিয়েও এসেছি, যা এখন থেকে আরও অদ্ভুত হয়ে উঠবে ও সম্ভবত বেশিরভাগ মানুষের ভাবনার চেয়ে দ্রুতই এমনটি ঘটবে।”
ওই সময় অল্টম্যান অনুমান করেছিলেন, মানুষ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই সংমিশ্রণ ২০২৫ থেকে ২০৭৫ সালের মধ্যে কোনো এক সময় ঘটবে।
২০১৫ সালে একসঙ্গে মিলে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন অল্টম্যান ও মাস্ক। ২০১৮ সালে ওপেনএআই ছেড়ে যান মাস্ক এবং ২০২৩ সালে নিজের স্টার্টআপ এক্সএআই প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। তারপর থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠেছেন তারা।
‘মার্জ ল্যাবস’ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না এলেও এ খবরের প্রতিক্রিয়ায় কিছুটা অবজ্ঞা ও ঠাট্টার ছলে আঁড় চোখ ঘোরানোর ইমোজি ব্যবহার করেছেন মাস্ক।