Published : 09 Jun 2026, 01:14 AM
দক্ষিণ ফিলিপিন্সের মিন্দানাও দ্বীপে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে এবং ১৩৪ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
সোমবার স্থানীয় সময় ৭টা ৩৭ মিনিটে সেখানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের উপকেন্দ্র ছিল জেনারেল স্যান্টোস সিটির উপকূলের কাছে, উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পের পর ফিলিপিন্স, ইন্দোনেশিয়া, জাপানসহ ওই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি দেশ ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করে। তবে কয়েক ঘন্টা পর তা প্রত্যাহার করা হয়।
ভিডিও ও ছবিতে ভূমিকম্পে বাড়িঘর ভেঙে পড়তে দেখা গেছে, রেস্টুরেন্ট ধসে পড়ে ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে এবং কিছু এলাকায় ভূমিধস রেকর্ড করা হয়েছে।
বাস্তুচ্যুত হয়েছে ১০ হাজার মানুষ। ভবনের ধ্বংসাবশেষ চাপা পড়ে বা ভূমিধসে বেশিরভাগ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেকের অবস্থা গুরুতর।
ফিলিপিন্সের সিভিল ডিফেন্স অফিস সোমবার বিকালে নিহতের সংখ্যার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে বলেছে, মিন্দানাওয়ের সক্সসারজেনে ৩১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। আর দাভাওয়ে মারা গেছে ৪ জন।
মিন্দানাও ফিলিপিন্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ। এখানকার জনসংখ্যাও বেশি। প্রায় ২৬ মিলিয়ন মানুষের বাস এ অঞ্চলে। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা পর্যন্ত ভূমিকম্পের ১৩৮টি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। এগুলোর মাত্রা ছিল ১ দশমিক ৩ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৭ মাত্রার।
জেনারেল স্যান্টোস সিটির স্থানীয় তথ্য কার্যালয় থেকে পাওয়া ছবিতে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র দেখা গেছে। বেশ কিছু দোকানপাট ধসে পড়েছে। একটি বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সের বাইরের কংক্রিটের দেয়ালও ভেঙে স্তূপ হয়ে আছে।
ফিলিপিন্সের সরকারি স্কুলগুলোতে সবে নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর মধ্যেই এই ভূমিকম্প হয়েছে। দাভাওয়ের একটি প্রাথমিক স্কুলের ভিডিওতে দেখা যায়, সকালের পতাকা উত্তোলনের সময় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট মার্কোস জুনিয়র ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
মার্কোস দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।
ফিলিপিন্সের জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য কর্মকর্তা দিয়েগো মারিয়ানো জনসাধারণকে তাদের বাড়িঘর বা অন্যান্য ভবন, বিশেষ করে যেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোতে এখনই প্রবেশ না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।
ফিলিপিন্স ভৌগোলিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত। প্রশান্ত মহাসাগরীয় অববাহিকা ঘিরে থাকা এই ফল্টলাইনের কারণে দেশটিতে ঘন ঘন ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।
গত বছরও ফিলিপিন্সে এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প হয়। সে সময় দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপে ৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।