Published : 08 Jun 2026, 07:29 PM
সমাজে অস্থিরতা বাড়ার অন্যতম প্রধান অনুঘটক কালো টাকা। কালো টাকার লাগামহীন ব্যবহারে পিষ্ট হয় গোটা সমাজ ও অর্থনীতি। দেশে বাজার অর্থনীতির চর্চা গত দুই দশক থেকে ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে মানুষের ভোগবিলাসিতাও মাত্রাছাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। আর অনৈতিক ভোগবিলাসিতার জোগান দিতে গিয়ে একশ্রেণির মানুষ গড়ে তুলছেন কালো টাকার পাহাড়। যার নির্মম ফলশ্রুতিতে পরিবেশ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে; দেশে বিরাজ করছে অশান্তি ও অনাচার।
বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের জাতীয় বাজেট অধিবেশন শুরু হয়ে গিয়েছে। ১১ জুন পেশ হতে যাচ্ছে জাতীয় বাজেট। বিগত সরকারগুলোর মতো নতুন সরকারও কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিতে যাচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে!
কালো টাকা শুনলে কেমন জানি গা ছমছম করে! কালো টাকা কালোই থাকে। তা কখনও কি সাদা হয়? তা যতই ঘষামাজা করা হোক না কেন? তাতে বরং টাকা ছিঁড়ে যায়! ছিঁড়ে গেলে তো রিকশাওয়ালারাও তা নিতে চান না! বনশ্রী থেকে আসছিলাম কয়েকদিন আগে। রিকশা থেকে গন্তব্যে নামলাম। যুবক চালক কালচে হয়ে আসা ১০০ টাকার নোট নিতেই চাইলেন না! রাগতস্বরে চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘এটা কি দিলেন স্যার? অচল মাল! শাপলা চত্বরের ট্যাহা বদলানোর দোকানদাররাও এই ট্যাহা নিব না। ফ্রেস ট্যাহা দ্যান! আমনেরা শিকখিত মানুষ। কালো ট্যাহার কারবার করেন!’
রিকশাচালকের কথা শুনে রীতিমতো ভড়কে গেলাম! কালো টাকা নিয়ে ওর উপলব্ধি যেন সমকালীন সামাজিক বাস্তবতা। নির্মম সত্যের আখ্যান। কালো টাকা রিকশাচালকও পছন্দ করেন না। অথচ আমরা দেশের অর্থনীতিতে ‘শিকখিত মানুষ’ দিনের পর দিন কালো টাকা ব্যবহার করে আসছি। একে সাদা করার আমাদের কী প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা!
২০২৫-২৬ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও। তখন শেখ হাসিনা সরকারের মতো ইউনূস সরকারও কালো টাকা সাদা করার প্রক্রিয়াটি অব্যাহত রাখার তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। অন্তর্বর্তী সরকারের সে সিদ্ধান্তকে ‘রাষ্ট্রীয় সংস্কার, বিশেষ করে দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী’ বলে আখ্যা দিয়েছিল সংস্থাটি।
২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেটে ১৫ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত নগদ অর্থ, ব্যাংক আমানত প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়। মূলত কালো টাকাকে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে বারবার নেওয়া এই ধরনের উদ্যোগ ছিল ভুল বলে প্রমাণিত হয়েছে। ব্যক্তি করদাতাদের সর্বোচ্চ করহার ২৫ শতাংশের চেয়ে ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি করার যে সিদ্ধান্ত জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়েছিল, তা পরে ব্যর্থ হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কর রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আরো কমেছে।
২০২০-২১ অর্থ বছরের বাজেটে ১০ শতাংশ কর দিয়ে আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত নগদ অর্থ ও ব্যাংক আমানত প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে বর্গমিটারপ্রতি নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে প্লট-ফ্ল্যাট প্রদর্শনের সুযোগও ছিল তখন। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ওই অর্থ বছরে ১১ হাজার ৮৩৯ জন ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বৈধ করেন, যা ছিল দেশের ইতিহাসে এক বছরে সর্বোচ্চ কালো টাকা সাদা করার ঘটনা। এসব বিনিয়োগ থেকে ২ হাজার ৬৪ কোটি টাকা রাজস্ব পায় সরকার। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫৫ জন ব্যাংকে জমা বা নগদ ১৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা বৈধ করেন। বাকি টাকা জমি, ফ্ল্যাট বা পুঁজি বাজারে বিনিয়োগ করা হয়। এর পরের বছর কালো টাকা সাদা করার ক্ষেত্রে সাড়া না পাওয়ায় এ সুবিধা বাতিল করা হয়। ২০২১-২২ অর্থ বছরে মাত্র সাড়ে ৭ শতাংশ কর দিয়ে বিদেশ থেকে অঘোষিত অর্থ দেশে আনার সুযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু সে সুযোগও কেউ গ্রহণ করেনি। তাই পরের অর্থ বছরে এ সুযোগ আর রাখা হয়নি।
পৃথিবীর সর্বত্রই কালো টাকা আছে। কিন্তু কালো টাকার কথা আমাদের দেশের মতো হরহামেশা আর কোথাও শোনা যায় না। বাজেট এলে আমাদের দেশে খুব বেশি আলোচনা হয় কালো টাকা নিয়ে। কালো টাকা মানে অবৈধভাবে অর্জিত কিংবা অপ্রদর্শিত টাকা।
টাকাকে কালো বলা হয় প্রতীকী অর্থে। নানা দিকে কালো টাকা নিয়ে আলোচনা চলছে। অবৈধভাবে অর্জিত সব টাকাই কালো টাকা। আবার বৈধভাবে উপার্জিত অর্থ যেটা কর দেওয়া প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত হয়নি, সেটাও কালো টাকা। কালো টাকার পাহাড় গড়ে তোলে দুষ্কৃতকারী, কালোবাজারি, কর ফাঁকিবাজ ও আন্ডারগ্রাউন্ডের দুষ্ট লোকজন।
সোনার বাজার, গৃহায়ণ শিল্প, টাকার লেনদেনে হুন্ডির আশ্রয় ও করমুক্ত পরিবেশে ব্যবসা করার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে কালো টাকার পাহাড় গড়ে ওঠে। পৃথিবীর অনেক দেশ একে ‘ট্যাক্স হ্যাভেন’ বলে।
কালো টাকার লেনদেনের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের নানা রকমের চক্র আছে। ব্যবসায়ী, চোরাকারবারি ও ঘুষখোর, মানবপাচারকারীরা এর সঙ্গে যুক্ত। এরা লোভী। এদের একমাত্র উদ্দেশ্য, সম্পদ ও অর্থ কুক্ষিগত করা। এরা অর্থলোভী এবং ‘কালো টাকার কালো মানুষ’।
আমরা এখন আসতে পারি সাদা টাকার আলোচনায়। সাদা টাকা আসলে কী? বৈধভাবে উপার্জিত এবং কর পরিশোধিত অর্থই সাদা টাকা। অনেক সময় বৈধভাবে উপার্জন করেও আপনি কালো টাকার ফাঁদে পড়ে যেতে পারেন। যদি সে টাকার কর পরিশোধ না করেন। সুতরাং সম্পদ এবং অর্থের সব তথ্য সরকারি নথিপত্রে অন্তর্ভুক্ত করে একজন সাদা টাকার মালিক ঝুঁকিমুক্ত থাকতে পারেন।
পেশাজীবীদের অপ্রদর্শিত আয়ের অর্থও কালো টাকা। যেমন, চিকিৎসকরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। যদি কোনো চিকিৎসক সেই অর্থ আয়কর রিটার্নে না দেখান, তা হলে সেটি কালো টাকায় পরিণত হয়।
বাংলাদেশে কালো টাকার বড় একটি অংশ পাচার করা অর্থ। এছাড়া বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি বা রপ্তানির ক্ষেত্রে কাগজপত্রে অনিয়ম করে দাম বেশি বা কম দেখিয়ে করের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয়। এর মাধ্যমে যে অর্থ সরানো হয় সেটিও কালো টাকা।
রাজধানী ঢাকাসহ শহরাঞ্চলের জমি সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়। ফলে এসব জমি-বিক্রয়ে সরকার বাজার মূল্য অনুযায়ী বা সত্যিকার অর্থে যে দামে ক্রয়-বিক্রয় হয়, সে দাম অনুযায়ী রাজস্ব পায় না। এভাবেই এ প্রক্রিয়াটি প্রতি বছর বিপুল টাকাকে কালো তালিকায় নিয়ে যায়।
কালো টাকা দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে ব্যাহত করে। কারণ বিপুল অর্থের কর আদায় না হওয়ায় সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়। আবার ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গেও এ অর্থের কোনো সম্পর্ক থাকে না। এতে বৈধ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি।
অনেক বেশি লাভের আশায় লোকজন কালো বাজারের অর্থনীতিতে অংশ নেয়। কিন্তু মোট জাতীয় উৎপাদন (জিএনপি) ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবের বাইরে থেকে যায় এ অর্থ। এতে জাতীয় সঞ্চয়, ভোগ ও ব্যাষ্টিক অর্থনীতির অন্য হিসাব-নিকাশগুলোও ভুল পথে পরিচালিত হয়। অর্থনৈতিক হিসাব যথাযথ না হওয়ায় পরিকল্পনা ও নীতি নির্ধারণে তা বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
বিভিন্ন অবৈধ উপায় কালো টাকার উৎস হলেও এ অর্থ নিজেই বড় একটি সংকট। কারণ মানুষের হাতে অনেক বেশি কালো টাকা থাকলে তাতে দুর্নীতি বাড়ে। অপরাধ জগতে এসব অর্থ বেশি ব্যবহৃত হয়। কালোবাজার ও অবৈধ কার্যক্রম চালিয়ে যেতে ঘুষ লেনদেনে অতিরিক্ত মাত্রা পায়। এতে অপরাধীরা আরও মওকা পেয়ে যায়। লাগামহীনভাবে নিজেদের অবৈধ তৎপরতা তারা চালিয়ে যেতে পারে। আবার যারা আইন কানুন মেনে বিনিয়োগ করতে চায়, তারা কালো টাকার সঙ্গে পেরে ওঠে না। ফলে নষ্ট হয় অর্থনৈতিক ভারসাম্য।
তবে নিপীড়ক আইন বহাল আছে এমন দেশগুলোতে কালো টাকার সুবিধাও অনেক। যেমন, সোভিয়েত ইউনিয়নে সাধারণ বাজার অর্থনীতির লেনদেন নিষিদ্ধ ছিল। এতে নিজেদের ঘাটতি পূরণে ও নিষিদ্ধ পণ্য পেতে লোকজন কালোবাজারের দ্বারস্থ হয়েছিল। অনেক সময় সরকার মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে গেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পণ্য নাগালের বাইরে চলে যায়। অতিরিক্ত ভোক্তা করও মানুষকে বিপদে ফেলে দিতে পারে। আর সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহায়ক হতে পারে কালো টাকা।
কালো টাকার মালিকরা তাদের অর্থ বৈধ করারও চেষ্টা করেন। যা ‘সাদাকরণ’ হিসেবেই পরিচিত। অপ্রদর্শিত অর্থের আয়কর রিটার্ন ঘোষণা দিয়ে তা সাদা করা হয়। এতে তারা অর্থনীতির মূলধারায় ফিরে আসে। এ কর জিডিপির হার বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারের বাজেট ঘাটতি কমাতে সহায়তা করে।
বাজেটে হাইটেক পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল ছাড়াও জমি, ভবন, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্টের ওপর প্রতি বর্গমিটারে নির্দিষ্ট হারে এবং গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো সিকিউরিটিজের ওপর ১০ শতাংশ হারে কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালকে।
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী গোষ্ঠী সরব ছিল সব সময়ই। অর্থনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশের অর্থনীতির বিরাট অংকের অর্থ কালো টাকা হিসেবে রয়েছে। তবে প্রভাবশালীরা কালো টাকা বিদেশে পাচার করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। সমালোচকদের মতে, এতে সৎ করদাতারা নিরুৎসাহিত হন। টিআইবির মতে সৎ করদাতাদের প্রতি বৈষম্যমূলক ও অসাংবিধানিক কালো টাকা সাদা করার সুবিধা যেন অন্য কোনো উপায়ে আয়কর অধ্যাদেশে রাখা না হয়! কালো টাকা সাদা করার এমন সুযোগ চলতে থাকলে অর্থের কিংবা সম্পদের উৎস অজ্ঞাত থাকলে দেশে অবৈধ পথে অর্থ উপার্জন বেড়ে যেতে পারে। এতে ধনী-দরিদ্রের আয় বৈষম্য বাড়বে।
দেশে প্রথম কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল ১৯৭৫ সালে। এরপর ১৭ বার সেই সুযোগ পায় অপ্রদর্শিত অর্থের মালিকরা। দেশে কালো টাকার পরিমাণ সম্পর্কে ২০০৫ সালে বিশ্ব ব্যাংকের এক গবেষণা বলছে, ২০০২-২০০৩ সালে বাংলাদেশে কালো টাকা ছিল মোট জিডিপির ৩৭ দশমিক সাত ভাগ। ২০১১ সালে বাংলাদেশের অর্থ মন্ত্রণালয় কালো টাকা নিয়ে একটি জরিপ করে। এতে দেখা যায়, বাংলাদেশে ২০১০ সালে কালো টাকার পরিমাণ ছিল জিডিপির ৬২ দশমিক ৭৫ ভাগ, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ কালো টাকার পরিমাণ ছিল জিডিপির মাত্র ৭ ভাগ।
২০০৭ সালে জরুরি অবস্থা জারির পর আবার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়। নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে বলা হয়, এর মধ্যে সুযোগ না নিলে সর্বোচ্চ ২৫০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার এই সুযোগ নেয় ৩২ হাজার ৫৫৮ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। আর এতে বৈধ হয় ৯ হাজার ৬৮২ কোটি ৯৯ লাখ টাকা।
এ ধরনের সুবিধা সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করে। তিনি বিশেষ কর সুবিধা সত্যিই অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক কিনা তা নিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে গবেষণা করার পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রবীণ অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান।
অর্থনৈতিক চাপের প্রভাব কাটাতে সরকার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেয়। কিন্তু সাম্প্রতিককালে মুক্ত বাজার অর্থনীতির ভোগবাদী সমাজে কালো টাকা সাদা করার সুফল তো আমরা দেখতেই পাচ্ছি। অবৈধভাবে পাহাড়সম সম্পদ অর্জন, দুর্নীতি ও অনিয়মে ভরপুর প্রভাবশালীদের পারস্পরিক হানাহানি কি ইঙ্গিত করে? উত্তর সোজা–কালো টাকার অর্থনীতি। কালো টাকা সাদা করার সুযোগ আর দেওয়া কোনভাবেই সমীচীন হবে না। কেননা খেটে খাওয়া শ্রমিক, মজুর এমন কি রিকশাচালক এবং সৎ ও সাধারণ মানুষ কালো টাকার মন্দ প্রভাব আর দেখতে চায় না।
প্রণব মজুমদার কথাসাহিত্যিক ও ‘অর্থকাগজ’ সম্পাদক। ই-মেইল: [email protected]