Published : 19 Dec 2025, 02:17 PM
স্মার্টফোন বাজারে অ্যাপলের একচেটিয়া আধিপত্য ঠেকাতে নতুন আইন হয়েছে জাপানে। সেই আইন মানতে দেশটিতে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপ স্টোর ছাড়া অন্য কোনো উৎস বা স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোডের বিকল্প সুবিধা চালু করেছে অ্যাপল।
অ্যাপলের নতুন নিয়ম অনুসারে, জাপানি ডেভেলপাররা এখন আইফোনের জন্য নিজস্ব অ্যাপ মার্কেটপ্লেস বা অ্যাপ স্টোর চালু করতে পারবেন। এসব মার্কেটপ্লেস ও অ্যাপের মাধ্যমে হওয়া বিক্রির ওপর অ্যাপলকে কেবল ৫ শতাংশ কমিশন দিতে হবে।
নতুন নিয়মে অ্যাপলের নিজস্ব অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করা বিভিন্ন অ্যাপের ভেতরেও নিজস্ব পেমেন্ট পদ্ধতি বা অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা রাখার সুযোগ পাবেন ডেভেলপাররা।
তবে অ্যাপল বলেছে, ডেভেলপারদের এই নিজস্ব পেমেন্ট ব্যবস্থার পাশাপাশি অ্যাপলের নিজস্ব পেমেন্ট সিস্টেমটিও সেখানে রাখতে হবে এবং ডেভেলপারদের আগের মতোই অ্যাপলকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন দিতে হবে।
রয়টার্স লিখেছে, সর্বশেষ রাষ্ট্র হিসেবে অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর ব্যবসার দীর্ঘদিনের মডেলটিকে ভেঙে দিয়েছে জাপান, যেখানে এতদিন ডিজিটাল পণ্য ও সেবা বিক্রির ক্ষেত্রে ডেভেলপারদের ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন দিতে হতো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের পর জাপানেও এখন অ্যাপলকে নিজেদের আইফোন ইকোসিস্টেম উন্মুক্ত করতে হয়েছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ডেভেলপারদের কাছ থেকে কী পরিমাণ চার্জ নেওয়া যাবে তা নিয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে অ্যাপল।
এদিকে, ইউরোপে আইফোনকে এরইমধ্যে বিকল্প মার্কেটপ্লেস বা অ্যাপ স্টোর ব্যবহারের জন্য খুলে দিতে বাধ্য করেছে মহাদেশটি।
জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ-এর আইন দুটির উদ্দেশ্য এক হলেও, এদের কাজের পদ্ধতি বা কাঠামোতে বেশ কিছু মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।
জাপানের এই কাঠামোর অধীনে অন্য কোনো কোম্পানি যদি আইফোনের জন্য নিজস্ব অ্যাপ মার্কেটপ্লেস বা স্টোর খুলতে চায় তবে তার অনুমোদন দেওয়ার সক্ষমতা অ্যাপলের হাতেই থাকছে।
এ ছাড়া, অ্যাপলের নিজস্ব অ্যাপ স্টোরের মতো এসব বিকল্প মার্কেটপ্লেসে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন অ্যাপের জন্যও ‘এজ রেটিং’ বাধ্যতামূলক করেছে জাপান।
অ্যাপল বলেছে, বিকল্প মার্কেটপ্লেস বা স্টোরের মাধ্যমে বিতরণ করা প্রতিটি অ্যাপের ক্ষেত্রে ‘নোটারাইজেশন’ নামের এক মৌলিক নিরাপত্তা পরীক্ষা চালাবে তারা।
যেসব জাপানি ডেভেলপার অ্যাপলের অ্যাপ স্টোর ব্যবহার করবেন তারা এখন ব্যবহারকারীদের অ্যাপের বাইরে নিয়ে গিয়ে লিংকের মাধ্যমে পেমেন্টের সুযোগ দিতে পারবেন। এক্ষেত্রে অ্যাপল ১৫ শতাংশ কমিশন চার্জ করবে। তবে অ্যাপ স্টোরের চিরাচরিত পেমেন্ট পদ্ধতির মাধ্যমে কেনাকাটা করলে ২৬ শতাংশ ফি দিতে হবে।
নতুন আইনে অ্যাপলকে নিজেদের আইফোন হার্ডওয়্যার অন্যান্য থার্ড-পার্টি ডিভাইস নির্মাতাদের জন্য খুলে দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে জাপান। তবে এ প্রক্রিয়াটি ইউরোপীয় আইনের তুলনায় আলাদা।
জাপানে এ ধরনের পারস্পরিক সমন্বয় পদ্ধতি পরিচালরার জন্য বিশেষ এক সিস্টেম তৈরি করেছে অ্যাপল। তবে কোম্পানিটি বলেছে, কোনো অনুরোধের ফলে ব্যবহারকারীর যদি সংবেদনশীল তথ্য বা ডেটা ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি থাকে তবে সেই অনুরোধ বাতিলের অধিকার রয়েছে তাদের।
“এসব পরিবর্তনের পাশাপাশি আইনের কারণে তৈরি হতে পারে এমন নতুন প্রাইভেসি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি কমাতে কাজ করছি আমরা, যাতে জাপানের ব্যবহারকারীদের সম্ভাব্য সেরা ও নিরাপদ অভিজ্ঞতা দেওয়া যায়।”