শুক্রের মতো গ্রহের বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় উল্কা শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা গেলে কেমন হতো? এতে কি উল্কাপিণ্ডের গঠন ও এর বিভিন্ন আকার সম্পর্কে আরও ভাল ধারণা মিলবে?
Published : 26 Jun 2024, 04:30 PM
উল্কা সাধারণত দেখা যায় যখন তা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের পর আকাশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। আর এটি পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্ময়কর দৃশ্যগুলোর একটি।
এগুলো প্রায়শই বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে জ্বলতে থাকে ও একাধিক রং দেখানোর মাধ্যমে নিজের খনিজ গঠনের ঝলক দেখায়।
তবে, শুক্রের মতো গ্রহের বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় উল্কা শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণ করা গেলে কেমন হতো? এতে করে কি উল্কাপিণ্ডের গঠন ও এর বিভিন্ন আকার সম্পর্কে আরও ভাল ধারণা মিলবে?
সম্প্রতি গবেষণা দল ‘ইকারাস’-এর এক গবেষণায় এ বিষয়টিই খতিয়ে দেখার লক্ষ্য নিয়েছেন আন্তর্জাতিক গবেষকরা।
এ ছাড়া, কীভাবে ভবিষ্যতে শুক্রের ঘন বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে যাওয়া উল্কা এ পরীক্ষার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে, সেটি নিয়েও তদন্ত করবেন তারা। সৌরজগতের বিভিন্ন উল্কা নিয়ে বিজ্ঞানীদের আরও ভালোভাবে বোঝার ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে গবেষণাটি।
এ গবেষণার উদ্দেশ্য, প্রাপ্ত ফলাফল, সম্ভাব্য পরবর্তী গবেষণা ও সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহে উল্কা পর্যবেক্ষণের সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি ড. অ্যাপোস্টলোস ক্রিস্টৌর সঙ্গে কথা বলেছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাইট ‘ইউনিভার্স টুডে’, যিনি উত্তর আয়ারল্যান্ডের ‘আরমাঘ অবজারভেটরি অ্যান্ড প্ল্যানেটেরিয়ামে’র জ্যোতির্বিদ।
“আমরা যে সমস্যাটি সমাধান করতে চাই, তা হল মহাকাশে ছড়িয়ে থাকা বিভিন্ন কঠিন কণার প্রবাহ পরিমাপ করা,” বলেন ক্রিস্টৌ।
“সবচেয়ে ছোট আকারের কণাগুলো (যাকে আমরা সাধারণত ‘ধুলা’ হিসাবে উল্লেখ করি) মহাকাশযানে বসানো ‘স্মল-এরিয়া ইমপ্যাক্ট ডিটেক্টর’-এর মাধ্যমে গণনা করা যেতে পারে, আর এক বা দুই মিটারের (গ্রহাণু) চেয়ে বড় বস্তুও আমরা খুঁজে পেতে পারি টেলিস্কোপে।”
এ গবেষণার জন্য গবেষকরা ‘সোয়ার্মস’ বা ‘সিমুলেটর ফর ওয়াইড এরিয়া রেকর্ডিং অফ মিটিয়র্স ফ্রম স্পেস’ নামের এক জরিপভিত্তিক সিমুলেশন টুলকিট ব্যবহার করেছেন। এটি দিয়ে পৃথিবী থেকে উল্কাপিণ্ডের সংখ্যা যেভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, সেই একই পদ্ধতি শুক্রের বেলাতেও ব্যবহার করা যাবে।
এ ছাড়া, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সি (ইএসএ)’র আসন্ন ‘এনভিশন’ অরবিটারেও একটি তাত্ত্বিক উল্কা পরিমাপের ক্যামেরা বসিয়েছেন গবেষকরা।
গবেষকরা দেখেছেন, অরবিটার ক্যামেরাটি শুক্রের বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন এমন উল্কা পর্যবেক্ষণ করতে পারে, যেগুলো পৃথিবী থেকে পর্যবেক্ষণ করা উল্কার চেয়ে দেড় থেকে আড়াই গুণ বড়।
গবেষণা দলটির মতে, এর সম্ভাব্য মানে হচ্ছে, শুক্রের বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন উল্কা পর্যবেক্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। আর ওই ডেটা সফলভাবেই পৃথিবীতে ফেরত পাঠানো সম্ভব বলে অনুমান তাদের। তাই, গবেষণাটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফলাফল কী হতে পারে? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
“আমার মতে, এর দুটি প্রধান ফলাফলের একটি হল– শুক্রে থাকা মেঘের বিভিন্ন স্তরের ওপর থেকেও বিভিন্ন উল্কা ভালভাবে দেখা দেয়। আরেকটি হল– পৃথিবীতে দেখতে পাওয়া উল্কাগুলোর তুলনায় এগুলোর উজ্জ্বলতা ধারাবাহিকভাবেই বেশি হওয়া উচিৎ।
প্রথম ক্ষেত্রে, অরবিটাল ক্যামেরা সেইসব কণা শনাক্ত করার একটি সম্ভাব্য বাধা দূর করতে পারে, যেখানে দ্বিতীয় ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাই, পৃথিবীর কক্ষপথে প্রমাণিত যে কোনও ক্যামেরা সম্ভবত শুক্রে আরও ভাল কার্যকারিতা দেখাতে পারবে,” ইউনিভার্স টুডে’কে বলেন ক্রিস্টৌ।
গবেষণাটি এমন এক সময় এল, যখন ২০২৯ ও ২০৩১ সালের মধ্যে ‘ভেরিটাস’ (ভিনাস এমিসিভিটি, রেডিও সায়েন্স, ইনসার, টপোগ্রাফি অ্যান্ড স্পেকট্রোস্কোপি)’ নামের অরবিটার চালুর পরিকল্পনা করেছে নাসা। এর লক্ষ্য, ‘সিন্থেটিক অ্যাপারচার রেডার’-এর মাধ্যমে শুক্রের পৃষ্ঠের উচ্চ-রেজুলিউশনওয়ালা মানচিত্র ও গ্রহটির পুরু বায়ুমণ্ডল ভেদ করে এমন ‘নিয়ার ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কোপি’ তৈরি করা।
এর থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ছবি ৯০’র দশকে নাসার ‘ম্যাজেলান’ মিশনের আপডেটেড ডেটা সরবরাহ করবে। কারণ এটিই শুক্রের পৃষ্ঠের কার্যকলাপ সম্পর্কিত সবচেয়ে সাম্প্রতিক ডেটা।
এ ছাড়া, ২০৩২ সালে ‘সিনথেটিক অ্যাপারচার রেডার’ দিয়ে শুক্রের পৃষ্ঠের মানচিত্র তৈরি করতে ‘এনভিশন’ নামের একটি মিশন পরিচালনার পরিকল্পনাও করছে ইএসএ।