Published : 02 Jan 2026, 01:33 PM
উগান্ডায় বিশুদ্ধ সুপেয় পানি সরবরাহে সাহায্য করছে আয়ারল্যান্ডের ডোনেগাল কাউন্টির উদ্ভাবিত প্রযুক্তি। অন্যান্য দেশেও দ্রুতই চালু হতে পারে এই ব্যবস্থা।
লেটারকেনি শহরে অবস্থিত ‘আটলান্টিক টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি’র গবেষকরা ২০১৯ সাল থেকে এমন এক ‘স্মার্ট সেন্সর’ তৈরির কাজ করছেন, যা উগান্ডার গ্রামাঞ্চলে ব্যবহৃত গভীর নলকূপের বিভিন্ন হ্যান্ডপাম্পের ত্রুটি শনাক্ত করতে পারবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ পত্রিকা ইন্ডিপেনডেন্ট।
বর্তমানে প্রকল্পটির কাজ শেষের পথে। গবেষক দলটি বলছে, পূর্ব আফ্রিকার এই দেশটির শত শত স্থানে ব্যবহার করা সম্ভব এই প্রযুক্তি। অন্যান্য দেশে এ প্রযুক্তি বসানোর ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থাও।
গ্রামীণ এলাকার অনেক মানুষ গভীর নলকূপ থেকে সুপেয় পানি পাওয়ার জন্য হ্যান্ডপাম্প বা ‘চাপকলে’র ওপর নির্ভর করে। এসব পাম্প নষ্ট হয়ে গেলে বাধ্য হয়ে নিজেদের খোলা কুয়া বা জলাশয়ের পানি পান করতে হয় তাদের। আর এতে প্রচুর পরিমাণে ই-কোলাই ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে।
বেশিরভাগ সময়ই নিজেদের এলাকার সব নলকূপ যথাযথভাবে তদারকি করতে হিমশিম খান গ্রামীণ এলাকার কর্তৃপক্ষ।
এ বছরের সেপ্টেম্বরে পূর্ব উগান্ডার কুমি অঞ্চল সফর করেছেন গবেষণা প্রকৌশলী সেনান মরিস। সেখানের ১০টি নলকূপে এই প্রযুক্তির সর্বশেষ প্রোটোটাইপ বা পরীক্ষামূলক সংস্করণটি বসানোর জন্য এ সফরে গিয়েছিলেন তিনি।
পানির পরিমাণ, পাম্পের হাতলটি কতবার চাপা হচ্ছে ও এর পাশের নড়াচড়া পর্যবেক্ষণ করতে পারে সৌরশক্তিচালিত এ ছোট যন্ত্রটি।
মরিস বলেছেন, “এসব যন্ত্র সারাক্ষণই পর্যবেক্ষণ করে। তবে প্রতি ঘণ্টায় কেবল একবার ‘জেগে ওঠে’। বিষয়টি অনেকটা ‘বাড়িতে ফোন করার’ মতো করে তথ্য পাঠিয়ে দেয়।”
যন্ত্রটি উগান্ডার মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ইন্টারনেটে তথ্য পাঠায়। আর এ তথ্য সংগ্রহ করে ডোনেগালে থাকা গবেষক দলটি। কোনো সমস্যা দেখা দিলে স্থানীয় একজন মেকানিককে মেসেজ পাঠিয়ে দেন গবেষকরা। সেখানে গিয়ে পাম্পটি পরীক্ষা করে দেখেন তারা।
মরিস বলেছেন, এক মহাদেশ থেকে অন্য মহাদেশে এই সতর্কবার্তা পাঠানোর বিষয়টি শুনতে ‘কিছুটা অদ্ভুত’ মনে হলেও তারা আশা করছেন, আগামী বছর নিজেদের সহযোগী দাতব্য সংস্থা ‘ফিল্ডস অফ লাইফ’-এর কাছে ‘পাঠাতে’ পারবেন এই যন্ত্র।
লাইবেরিয়ার পাম্পগুলোতেও এ যন্ত্র বসানোর সম্ভাব্যতা নিয়ে গবেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। মরিস বলেছেন, মানুষ পানি তোলার জন্য যেখানেই গভীর নলকূপ ব্যবহার করে সেখানেই এ প্রযুক্তির ব্যবহার সম্ভব।
“প্রকল্পটি আমাকে গর্বিত করেছে। আমি দেখতে পাচ্ছি, ছোট্ট শহর লেটারকেনিতে উদ্ভাবিত এক প্রযুক্তি উগান্ডার মানুষদের জীবনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলছে।”
প্রকল্পটি আয়ারল্যান্ডের এটিইউ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ওয়্যারলেস সেন্সর অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড রিসার্চ’ ল্যাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল বোর্ড মেম্বার রে স্পিয়ারের উগান্ডা সফরের পর, যেখানে গভীর নলকূপ পাম্পের বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে জানতে পারেন তিনি।
গবেষণাগার ও বেশ কিছু অংশীদারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে প্রকল্পটি, যার মধ্যে রয়েছে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এরুপ’, সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানি ‘অ্যানালগ ডিভাইসেস’ ও কুমি জেলা পানি বিভাগ। এ ছাড়া এই প্রকল্পে এন্টারপ্রাইজ আয়ারল্যান্ডও সহযোগিতা করছে।
‘ওয়্যারলেস সেন্সর অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড রিসার্চ’ ল্যাবের বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে ‘ইন্টারনেট অফ থিংস’ বা আইওটি ব্যবহার করে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে।
‘ইন্টারনেট অফ থিংস’ এমন এক ব্যবস্থা, যেখানে দৈনন্দিন ব্যবহারের বিভিন্ন জিনিসকে ইন্টারনেটের সঙ্গে যোগ করে, যাতে তথ্য সংগ্রহ ও আদান-প্রদান করা যায়। যেমন স্মার্ট ওয়াচ আমাদের পায়ের ধাপ বা হাঁটাচলা হিসাব করে সেই তথ্য ফোনে পাঠিয়ে দেয়।
‘ওয়্যারলেস সেন্সর অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড রিসার্চ’ ল্যাবে তৈরি হওয়া অন্যান্য প্রকল্প আয়ারল্যান্ডের স্থানীয় বিভিন্ন এলাকাতেও কাজে লাগানো হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে কাউন্টি মেয়ো-র বেলমালেট এলাকার একটি গলফ ক্লাবে সমুদ্রের পানির প্রভাব পর্যবেক্ষণ এবং আচিল আইল্যান্ডের এক অ্যাকোয়ারিয়ামের বিভিন্ন ট্যাংকে তদারকির ব্যবস্থা।