Published : 23 Jun 2026, 11:55 AM
মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে নিয়োজিত এক টেলিস্কোপ কক্ষপথচ্যুত হয়ে দ্রুত নিচের দিকে নামছে। সূর্যের অতি-সক্রিয়তার কারণে তৈরি এ সংকট থেকে স্পেস টেলিস্কোপটিকে বাঁচাতে এ মিশন শুরু করতে যাচ্ছে নাসা।
বাণিজ্যিক এক রোবোটিক মহাকাশযানের সাহায্যে এক হাজার ৩০০ কোটি বছরের পুরানো সুপারনোভা আবিষ্কারের নেপথ্য নায়ককে টেনে আবারও নিরাপদ ও উচ্চ কক্ষপথে ফিরিয়ে নেওয়াই এ উদ্ধার অভিযানের মূল লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
নাসা’র ‘সুইফট বুস্ট’ নামের মিশনটি এ মাসের শেষদিকে উৎক্ষেপণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। এ মিশনে কক্ষপথচ্যুত হতে যাওয়া ‘নিল গেরেলস সুইফট অবজারভেটরি’ নামের টেলিস্কোপকে উদ্ধার করবে নাসা।
স্পেস টেলিস্কোপটি খুব দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসায় মহাকাশেই তা ঠিক করার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি, যাতে কোনো হস্তক্ষেপ ছাড়া যত দিন টিকত তার চেয়ে বাড়তি আরও কয়েক বছর টেলিস্কোপটিকে মহাকাশে সচল রাখা যায়। আগামী ২৭ জুন এই উদ্ধার মিশন উৎক্ষেপণের তারিখ নির্ধারণ করেছে নাসা।
মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটির সঙ্গে যোগ হয়ে টেলিস্কোপটিকে টেনে আরও ওপরের কক্ষপথে নিয়ে যাওয়ার জন্য ‘লিংক’ নামের এক রোবোটিক মহাকাশযান তৈরিতে গেল বছর অ্যারিজোনার কোম্পানি ‘ক্যাটালিস্ট স্পেস’-এর সঙ্গে চুক্তি করে সংস্থাটি।
ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত নাসার ‘ওয়ালপস ফ্লাইট ফ্যাসিলিটি’র প্রকৌশলীরা ‘লিংক’কে ‘নরথ্রপ গ্রুম্যান পেগাসাস এক্সএল’ রকেটের সঙ্গে যুক্ত করার কাজ শেষ করেছেন। এর কয়েক দিন পর তারা রকেটটিকে ‘স্টারগেজার’ নামের নরথ্রপ গ্রুম্যানের এক প্লেনের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন।
প্লেনটি ওয়ালপস ছেড়ে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের ‘কোয়াজালিন অ্যাটল’-এর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে, যেখান থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্তভাবে আকাশে উড়াল দেবে।
‘স্টারগেজার’ প্লেনটি ‘পেগাসাস এক্সএল’ রকেটটিকে বাতাসে ছেড়ে দেওয়ার আগে প্রায় ৪০ হাজার ফুট উচ্চতায় নিয়ে যাবে। রকেটটি মুক্তভাবে কয়েক সেকেন্ড নিচে পড়ার পর এর বিভিন্ন মোটর চালু করবে এবং আনুমানিক ১০ মিনিটের মধ্যে ‘লিংক’কে মহাকাশে পৌঁছে দেবে।
কক্ষপথে থাকা সব স্যাটেলাইটই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চতা হারালেও সুইফট টেলিস্কোপের কক্ষপথচ্যুতির গতি অন্য অনেকের চেয়ে বেশি দ্রুত হয়েছে।
নাসা বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে সূর্যের কার্যকারিতা বা তৎপরতা বেড়ে যাওয়ার কারণে দূরবীক্ষণ যন্ত্রটি প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বায়ুমণ্ডলীয় টান বা বাধার মুখে পড়ছে।
ক্যাটালিস্ট-এর সঙ্গে নাসার পার্টনারশিপ ঘোষণার সময় নাসার শন ডোমাগাল-গোল্ডম্যান বলেছিলেন, “সুইফটের কক্ষপথ যেভাবে দ্রুত সংকুচিত হচ্ছে তাতে আমরা সময়ের বিরুদ্ধে এক প্রতিযোগিতায় নেমেছি। তবে এরইমধ্যে তৈরি হতে থাকা বাণিজ্যিক প্রযুক্তিগুলোকে কাজে লাগিয়ে আমরা এ চ্যালেঞ্জ ঠেকাচ্ছি।”
গামা-রশ্মি বিস্ফোরণ নিয়ে গবেষণার জন্য ২০০৪ সালে সুইফট টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপিত হয়েছিল। বর্তমানে টেলিস্কোপটি সাধারণ বহুমুখী ও বহু-তরঙ্গদৈর্ঘ্যের পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
নাসা বলেছে, মহাবিশ্বে কোনো আকস্মিক ঘটনা ঘটলে সুইফট ‘ডিসপ্যাচার’ বা বার্তা প্রেরক হিসেবে কাজ করে। টেলিস্কোপটিটি এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করেছে, যা অন্যান্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রকে সেই ঘটনার সূত্র ধরে আরও বিস্তারিত গবেষণার সুযোগ করে দিয়েছে।
এরইমধ্যে এক্স-রে উৎসের অবস্থান শনাক্ত করেছিল টেলিস্কোপটি, যা পরবর্তীতে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মতো অন্যান্য পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সংগৃহীত ডেটার ওপর ভিত্তি করে একটি এক হাজার ৩০০ কোটি বছরের পুরানো সুপারনোভা হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।