কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইট সারানোর উপায় কী?

“মহাকাশের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বুঝতে আমাদেরকে ইনফ্রারেড ও লিডারের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তি সেন্সর আরও উন্নত করতে হবে।”

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Feb 2024, 12:19 PM
Updated : 25 Feb 2024, 12:19 PM

একটি স্যাটেলাইট তৈরি করে মহাকাশে পাঠাতে বেশ কয়েক বছর সময় লাগে, যেখানে গুনতে হয় লাখ লাখ ডলার। তবে স্যাটেলাইটটি ভূপৃষ্ঠ থেকে শত শত কিলোমিটার ওপরে গিয়ে হঠাৎ করে যদি বিকল হয়ে যায় বা ভেঙে পড়ে তাহলে সেটি ঠিক করার উপায় কী?

এটি কেবল তাত্ত্বিক বিষয় নয়, মহাকাশে পাঠানো প্রায় অর্ধেক কিউবস্যাট (মিনি স্যাটেলাইট, যেগুলো সাধারণত বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির গবেষকরা উৎক্ষেপণ করে থাকেন) স্যাটেলাইটই বাস্তবে সারানো সম্ভব হয়ে ওঠে না।

তাই এমন কয়েকটি স্যাটেলাইট, যেগুলো সারানো প্রায় অসম্ভব বলে এতদিন ধরে নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর জন্য গবেষকরা এমন রোবট তৈরি করার চেষ্টা করছেন, যা কক্ষপথে থাকা অবস্থাতেই সারাই করতে সক্ষম।

“স্যাটেলাইট তো আর রাস্তায় চলা গাড়ি নয় যে নষ্ট হলে মেকানিক ডেকে সারাই করে ফেললাম। তাই এদের সার্ভিসিং করাও সম্ভব হয়ে ওঠে না,” বলেছেন ‘ইউনিভার্সিটি অফ সিডনি’র ‘ইন-স্পেস সার্ভিসিং, অ্যাসেম্বলি ও ম্যানুফ্যাকচারিং (আইএসএএম)’ প্রকল্পের প্রধান ড. জিয়াওফেং উ।

“রোবটিক প্রযুক্তি, নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে আমরা কক্ষপথেও সম্ভাব্য স্যাটেলাইট পরিষেবা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছি।”

মহাকাশে এমন অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে কাজ করা মোটেও সহজ বিষয় নয়। কারণ ‘রিপেয়ার রোবট’কে মহাকাশে ভেঙে যাওয়া বা বিকল হওয়া স্যাটেলাইট এমন নিখুঁতভাবে সারাতে হবে, যাতে সেখানে সংঘর্ষের কোনও ঝুঁকি না থাকে।

পরবর্তীতে একটি রোবোটিক হাতের মাধ্যমে স্যাটেলাইটের সমস্যাটি দক্ষতার সঙ্গে সারাতে হবে, যেখানে মানুষের কোনও ইনপুট ছাড়া এর ত্রুটিগুলো ঠিক করতে অনেক সময় খরচ হবে। আর এ ক্ষেত্রে নির্ভর করতে হবে এআই প্রযুক্তির ওপর।

“এক্ষেত্রে আমাদের চারটি প্যাকেজ আছে। এর মধ্যে প্রথমটি হল স্বয়ংক্রিয় পথ পরিকল্পনা বা ‘ট্র্যাজেক্টরি অপ্টিমাইজেশন’কে সক্ষম করে তোলা,” বলেছেন উ।

“মহাকাশের পারিপার্শ্বিক পরিবেশ বুঝতে আমাদেরকে ইনফ্রারেড ও লাইডারের মতো বিভিন্ন প্রযুক্তি সেন্সর আরও উন্নত করতে হবে।”

এমন উন্নত সেন্সর প্রযুক্তি একটি ‘রিপেয়ার রোবট’কে স্যাটেলাইটটির কাছে যেতে আর এর কোনো ক্ষতি না করেই স্যাটেলাইটের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে সাহায্য করে।

“আরেকটি চ্যালেঞ্জ হল– রোবটের হাতের নিয়ন্ত্রণ। কারণ, কক্ষপথের ভাসমান পরিবেশে এটি মাধ্যাকর্ষণ ছাড়াই অবস্থান করবে। তাই রোবোটিক হাতটি সচল থাকলে সারাতে চাওয়া স্যাটেলাইটের সাপেক্ষে এর স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব পড়বে।”

দলটির সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, কক্ষপথে থাকা স্যাটেলাইটের ভাঙা বা বিকল অংশ সারাতে থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। আর কীভাবে রোবটকে সবচেয়ে ভাল উপায়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার সম্ভাবনাও তুলে ধরা হয়েছে গবেষণায়।

তবে এ বিষয়ে কেবল উ’র দলই কাজ করছে, বিষয়টি এমন নয়। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা, ইউরোপের ইএসএ’সহ বেশ কিছু প্রাইভেট কোম্পানিও এ সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করছে।

আগামী কয়েক বছরে এর নমুনা পরীক্ষার পরিকল্পনা করা হলেও, এখনও কেউই এর সমাধান পুরোপুরি খুঁজে বের করতে পারেনি।

এদিকে, অস্ট্রেলিয়ার মহাকাশ খাতের সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাইরের কোনো দেশের সহায়তা ছাড়াই এক অস্ট্রেলীয় কোম্পানির নিজস্ব রিপেয়ার স্যাটেলাইট তৈরি করার বিষয়টিও উঠে আসছে আলোচনায়।

এ স্যাটেলাইটটি বানাতে ‘আইএসএএম’ নামের প্রকল্পে সাড়ে ১০ লাখ ডলারের অনুদান দিয়েছে অস্ট্রেলীয় স্যাটেলাইট কোম্পানি ‘সিআরসি স্মার্টস্যাট’।

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান এক হাজার ৪৩০ কোটি ডলারের বাজারে প্রতিযোগিতার লক্ষ্যে অস্ট্রেলিয়াকে এখনই ভিত্তি স্থাপন করতে হবে,” বলেছেন উ।

“অস্ট্রেলীয় শিল্পের বাণিজ্যিক, অসামরিক ও প্রতিরক্ষাবিষয়ক চাহিদা মেটাতে যে উন্নত ও স্বয়ংক্রিয় রোবোটিক স্যাটেলাইট মিশন দরকার, তা পূরণে সহায়ক হবে এ মৌলিক সক্ষমতা।”