Published : 03 Nov 2025, 03:36 PM
প্রযুক্তি কোম্পানি হিসেবে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্যের মাইলফলক ছুঁয়ে গত সপ্তাহে ইতিহাস গড়েছে এনভিডিয়া। এর আগে কোনো পাবলিক কোম্পানি এই বাজার মূল্যে যেতে পারেনি।
এ মাইলফলকে পৌঁছানোর বিষয়টি কোম্পানিটির জন্য বড় এক সাফল্য। কারণ, একসময় কেবল বিশেষ ধরনের ভিডিও গেইম প্রসেসর বানানো কোম্পানিটি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শিল্পের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে, যা এনভিডিয়াকে গোটা জার্মানির এক বছরের পুরো অর্থনীতির সমান মূল্যের কোম্পানিতে পরিণত করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফ।
এ বছরের জুলাইয়ে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার বাজার মূল্যের কোম্পানিতে পা রেখেছিল এনভিডিয়া। কেবল তিন মাসের ব্যবধানে এক ট্রিলিয়ন বেড়ে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করল কোম্পানিটি। এ অসাধারণ সাফল্য এসেছে কোম্পানির বিস্ময়কর শেয়ারের উত্থানের কারণে, যা গোটা বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিপ্লবের কেন্দ্রে প্রতিষ্ঠিত করেছে চিপ নির্মাতা মার্কিন কোম্পানিটিকে।
শেয়ারবাজারে এআই সম্ভাব্য ‘বুদবুদ’ বা অতিমূল্যায়নের আশঙ্কা ক্রমে বাড়লেও সেই শঙ্কার মাঝেও এই ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁয়েছে এনভিডিয়া।
গত বুধবার বাজার খোলার পর এনভিডিয়ার শেয়ারের দাম প্রায় পাঁচ দশমিক তিন শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প চীনকে আরও বেশি পণ্য বিক্রির অনুমতি দিতে পারেন, এমন আশা থেকেই কোম্পানিটির শেয়ারের এমন উত্থান হয়েছে।
এনভিডিয়ার ৫ ট্রিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য ‘এফটিএসই ১০০’ বা লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের সবচেয়ে মূল্যবান একশটি কোম্পানির মোট দামের থেকেও ৫০ শতাংশ বেশি।
পাশাপাশি এই প্রযুক্তি জায়ান্টের বর্তমান মূল্য এখন ব্রিটেনের সবচেয়ে মূল্যবান পাবলিক কোম্পানি ‘অ্যাস্ট্রাজেনো’র’ ১৯ গুণেরও বেশি।
এই মাইলফলক এনভিডিয়ার দ্রুত উত্থানকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে। এআই প্রযুক্তিতে বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগের ফলে লাভবান হওয়া বিভিন্ন কোম্পানির মধ্যে এনভিডিয়াই এখন সবচেয়ে বড় বিজয়ী।
১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটি ১ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক ছুঁতে ৩০ বছর সময় নিয়েছিল, যা অর্জিত হয় দুই বছর আগে। তারপর থেকে এনভিডিয়ার মূল্যে পাঁচ গুণ হয়েছে। কারণ কোম্পানিটির তৈরি বিভিন্ন চিপ সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় এআই সিস্টেম প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার জন্য।

এআই বুদবুদ
এআইয়ের এ দ্রুত উত্থান অনেক বিশ্লেষকের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি করেছে, এআই খাতে বিনিয়োগের এ উন্মাদনা হয়ত এক ধরনের ‘বুদবুদ’-এ পরিণত হয়েছে, যা যে কোনো সময় ফেটে যেতে পারে।
১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকের ‘ডটকম বুম’-এর মতো পরিস্থিতি এখন এআই খাতেও তৈরি হচ্ছে– এমন সতর্কতার মধ্যেই এই নতুন মাইলফলকে পৌঁছাল এনভিডিয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অর্থনৈতিক ও শেয়ারবাজার কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ‘ওয়াল স্ট্রিট’-এর তিনটি প্রধান শেয়ার বাজার সূচক বুধবার চার দিন ধারাবাহিকভাবে নতুন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
২০২২ সালের শেষ দিকে চ্যাটজিপিটি বাজারে চালুর পর থেকে এনভিডিয়ার চিপের ব্যবহার ব্যাপকহারে বেড়েছে। ফলে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম হয়েছে এক হাজার শতাংশেরও বেশি।
এ উত্থান এনভিডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংকে বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি করে তুলেছে, যার মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ১৭ হাজার ৪০০ কোটি ডলার।
বুধবার ট্রাম্প বলেছিলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় এনভিডিয়ার উচ্চসক্ষমতাওয়ালা ব্ল্যাকওয়েল চিপ নিয়ে আলোচনা করার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
কয়েক মাস ধরেই চীনে কী বিক্রি করা যাবে তা নিয়ে কঠোর বিধিনিষেধের মুখে রয়েছে এনভিডিয়া। ফলে এ সীমাবদ্ধতা কমলে কোম্পানিটির বিক্রি বা প্রবৃদ্ধি বাড়তে পারে।
এনভিডিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, প্রযুক্তি খাতে বুদবুদ বাড়াচ্ছে তারা, যেখানে কোম্পানিটি কিছু বড় গ্রাহকের মধ্যে অর্থ বিনিয়োগ করছে। সেই গ্রাহকরা আবার এনভিডিয়ার পণ্য কিনছে। যার মধ্যে রয়েছে চ্যাটজিপিটি নির্মাতা ওপেনএআইতে ১০ হাজার কোটি ডলারের বিনিয়োগ। ফলে একটি ‘চক্র’ তৈরি হচ্ছে, যেখানে এনভিডিয়া নিজেরই ব্যবসার পরিসর আরও বড় হচ্ছে।
তবে এ সপ্তাহে এআই বুদবুদের অভিযোগকে খাটো করে দেখানোর চেষ্টা করেছেন হুয়াং। তিনি বলেছেন, এই প্রযুক্তি ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এটি ব্যবহারের জন্য অর্থও দিচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানি।
“আমি মনে করি না, আমরা কোনো এআই বুদদুদের মধ্যে রয়েছি। আমরা যেসব মডেল ব্যবহার করছি, সেগুলোতে আমরা প্রচুর পরিষেবা ব্যবহার করছি এবং এমনটি করার জন্য আনন্দের সঙ্গে অর্থ দিচ্ছি আমরা।”
আরও পড়ুন…