Published : 11 Mar 2026, 04:36 PM
ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগ মধ্যম এক্স তাদের এআই চ্যাটবট গ্রক-এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের আপলোড করা ছবি এডিট বা বিকৃত করা বন্ধে নতুন ফিচার যোগ করেছে।
তবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়াই আসা এ সুরক্ষা ব্যবস্থাটি কতটা কার্যকর তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, এ ফিচারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এখন তাদের আপলোড করা ছবিগুলোতে গ্রক চ্যাটবট ব্যবহার করে পরিবর্তন বা বিকৃতি ঠেকাতে করতে পারবেন।
মাস্কের দুই প্রতিষ্ঠান ‘এক্স’ ও ‘এক্সএআই’-এর কেউই এ ফিচার সম্পর্কে কোনো ঘোষণা দেয়নি। কয়েক দিন ধরে আইওএস অ্যাপে ছবি বা ভিডিও আপলোড মেনুর ভেতরে ব্যবহারকারীরা এ নতুন অপশনটি দেখছেন।
ফিচারটি সম্ভবত গ্রক-এর সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারিরই প্রতিক্রিয়া। ২০২৬ সালের শুরুতে এ চ্যাটবটে ছবি তৈরির টুল যোগের পর প্রায় ৩০ লাখ আপত্তিকর ছবি তৈরি হয়েছিল।
‘সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেইট’-এর তথ্য অনুসারে, কেবল ১১ দিনের মধ্যে তৈরি হওয়া এসব ছবির মধ্যে প্রায় ২৩ হাজার ছিল শিশুদের নিয়ে তৈরি করা ‘আপত্তিকর’ ছবি।
এ গুরুতর কারণে গ্রক ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর দুটি আলাদা তদন্তের মুখে পড়েছে।
এ নতুন ফিচারটির ইতিবাচক দিক হচ্ছে, গ্রকের অনুপযোগী ব্যবহার সীমিতের পথে একধাপ এগিয়েছে এক্স ও এক্সএআই। এ ব্লকিংয়ের অপশনটি সাধারণ ‘টগল’ সুইচের মতো এবং তা অ্যাপের ভেতরে খুব একটা লুকিয়ে রাখা হয়নি, যা ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধাজনক।
নেতিবাচক দিক হল, ফিচারটি কেবল ‘লোক দেখানো’ ব্যবস্থা, যা গ্রকের কাজের পদ্ধতি বা এর অপব্যবহার রোধে খুব একটা কার্যকর নয়।
নতুন ফিচারটি নির্দিষ্ট কোনো ব্যবহারকারীর আপলোড করা ফাইল পরিবর্তন করা থেকে চ্যাটবটকে বাধা দিলেও প্রযুক্তি সাইট ভার্জের প্রতিবেদনে বলছে, এ ব্লকটি কেবল রিপ্লাইয়ে গ্রক’কে ট্যাগিংয়ের ক্ষেত্রেই কাজ করে।
যারা অন্যের অনুমতি ছাড়াই এআই ব্যবহার করে আপত্তিকর ছবি তৈরি করতে মরিয়া তাদের জন্য এই বাধা এড়িয়ে যাওয়ার আরও অনেক পথ খোলা রয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী সুরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে কাজ করছে এক্সএআই। জানুয়ারিতে এক্স বলেছিল, গ্রকের মাধ্যমে বাস্তব মানুষকে স্বল্পবসনে দেখানোর বিষয়টি সীমিত করবে তারা।
তবে এখন পর্যন্ত প্লাটফর্মটির সেই প্রচেষ্টা খুব সামান্যই সফল হয়েছে।
কোম্পানিটি যদি কেবল এই সংকীর্ণ ও নামমাত্র ফিচারের সুবিধাই দেয় তবে ‘অনুমতিহীন নগ্নতার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স’ বা কোনো ছাড় না দেওয়ার দাবিটি ভিত্তিহীন হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ সমস্যা সঠিকভাবে ও পুরোপুরি সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এক্সএআই চাইলে ছবি তৈরির ফিচারটি সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে পারত। তবে তারা তা করেনি।