Published : 10 Feb 2026, 01:14 PM
দীর্ঘদিনের স্বপ্ন মঙ্গল জয় আপাতত কিছুটা সরিয়ে রেখে এখন পৃথিবীর একমাত্র উপগ্রহ চাঁদকে কোম্পানিটির নিকটবর্তী লক্ষ্য হিসেবে বেছে নিয়েছে স্পেসএক্স।
ইলন মাস্ক বলেছেন, কোম্পানির নিকটবর্তী সময়ের বিভিন্ন লক্ষ্যে পরিবর্তন এনেছে তারা। এখন পৃথিবীর প্রতিবেশি গ্রহ মঙ্গলে বসতি স্থাপনের চেয়ে চাঁদে ‘স্ব-বর্ধনশীল এক শহর’ তৈরির দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে কোম্পানিটি।
মার্কিন এই ধনকুবের বলেছেন, মঙ্গলের তুলনায় চাঁদে লক্ষ্য পূরণ করা অনেক দ্রুত ও সহজসাধ্য। নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ মাস্ক দাবি করেছেন, ১০ বছরেরও কম সময়ে চাঁদে এ কাজ সম্পন্ন করবে স্পেসএক্স, যেখানে মঙ্গলে একই ধরনের শহর তৈরিতে ২০ বছরের বেশি সময় লেগে যেতে পারে।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, এমন পদক্ষেপ মহাকাশ কোম্পানিটির জন্য বড় ধরনের পরিবর্তন। পৃথিবী থেকে চাঁদের দূরত্ব কম হওয়া ও ঘন ঘন রকেট পাঠানোর সুযোগ থাকায় চাঁদে প্রাথমিক এক মডেল বা ‘প্রুফ অফ কনসেপ্ট’ করতে পারার বিষয়টি অপেক্ষাকৃত সহজ বলে দাবি মাস্কের।
তবে স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠাতা মাস্ক এমন সব উচ্চাকাঙ্ক্ষী সময়সীমা দেওয়ার জন্য পরিচিত, যা অনেক সময় বাস্তবে রূপই পায়নি। যেমন, ২০১৭ সালে তিনি বলেছিলেন, ২০২৪ সালের মধ্যেই মঙ্গল গ্রহের একটি ঘাঁটি প্রথম বসতি স্থাপনকারীদের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে, যা আজও হয়নি।
পরবর্তী বিভিন্ন পোস্টে মাস্ক বলেছেন, “মঙ্গল অভিযানের কাজ ৫ বা ৬ বছরের মধ্যে শুরু হবে। ফলে চাঁদের পাশাপাশি মঙ্গলের কাজও সমান্তরালভাবে চলবে। তবে শুরুতে মূল ফোকাস বা গুরুত্ব থাকবে চাঁদের ওপর।”
তিনি আরও বলেছেন, ২০৩১ সালে মঙ্গলে মানববাহী ফ্লাইট পাঠানোর সম্ভাবনা রয়েছে। অথচ গেল বছরের শুরুতেও মাস্কের সুর ছিল ভিন্ন। এক্স-এ এক পোস্টে মাস্ক বলেছিলেন, “চাঁদে যাওয়া সময়ের অপচয়, সরাসরি মঙ্গলে যাবে স্পেসএক্স।”
ওই সময় মহাকাশ শিল্প বিশ্লেষক পিটার হেগ-এর এক মন্তব্যের জেরে এমনটি বলেছিলেন মাস্ক। হেগ বলেছিলেন, চাঁদের পৃষ্ঠে পাওয়া ‘লুনার রেগোলিথ’ বা এক ধরনের ধূলিকণা বা শিলার মধ্যে প্রায় ৪৫ শতাংশ অক্সিজেন থাকতে পারে।
২০২৩ সালে নাসা প্রমাণ করেছে, এসব শিলা থেকে অক্সিজেন বের করে আনা সম্ভব। ফলে পৃথিবী থেকে মঙ্গলে তরল অক্সিজেন বয়ে নেওয়ার বদলে চাঁদের অক্সিজেন ব্যবহার করলে রকেটের ওজন বা ‘পেলোড’ বহন সাশ্রয়ী হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার আর্টেমিস মিশনের কিছু ধাপে ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে স্পেসএক্স। কোম্পানিটির লক্ষ্য, ২০২৮ সালের মধ্যে মানুষকে পুনরায় চাঁদে পাঠানো।
এ অভিযানের অংশ হিসেবে আর্টেমিস ২ এ বছরের মার্চেই উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে, যেখানে পৃথিবীতে ফিরে আসার আগে চাঁদকে একবার প্রদক্ষিণ করবেন নভোচারীরা।